logo

ইউক্রেনে রাশিয়ার রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৮

রয়টার্স
রয়টার্স
ইউক্রেনে রাশিয়ার রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৮
ইউক্রেনের কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া একটি ব্যক্তিগত গাড়ির গ্যারেজ পর্যবেক্ষণ করছেন এক ব্যক্তি। ছবি: রয়টার্স

ইউক্রেনে রাতভর ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বুধবারের (৭ অক্টোবর) এই হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। হামলায় আবাসিক ভবন, শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কিয়েভে দুজন, উত্তরাঞ্চলের চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকিতে চারজন এবং মধ্যাঞ্চলের পোলতাভা অঞ্চলে আরও দুজন নিহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের মানবাধিকার বিষয়ক পার্লামেন্টারি কমিশনার দিমিত্রো লুবিনেতস বলেন, সারা রাত দেশজুড়ে রুশ হামলা চলেছে। তিনি রাতটিকে ‘আরেকটি নিদ্রাহীন রাত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, হামলার পরও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিনের কাজকর্ম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

১৩০ ড্রোন ও ৪৮ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, হামলায় রাশিয়া ১৩০টি ড্রোন, ৪৮টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইউক্রেনের দাবি, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোট ১৬১টি আকাশপথের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে।

কিয়েভ, পোলতাভা, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খারকিভ ছিল হামলার প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে।

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক-শিল্প স্থাপনা লক্ষ্য করে ‘ব্যাপক হামলা’ চালিয়েছে। রাশিয়ার দাবি, স্থল, সমুদ্র ও আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য নির্ভুল অস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।

রুশ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ফায়ার পয়েন্টের স্থাপনা। প্রতিষ্ঠানটিতে ‘ফ্লেমিংগো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং মাঝারি ও দীর্ঘপাল্লার ড্রোন তৈরি ও সংরক্ষণ করা হয় বলে রাশিয়ার দাবি।

আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত

চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকিতে একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র পাঁচতলা আবাসিক ভবনে আঘাত হানে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে অন্তত চারজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ করছে। এ-সংক্রান্ত ভিডিওও প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে বিমান হামলার সতর্কতা জারির পর কিয়েভের বহু বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য শহরের গভীর ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনগুলোতে চলে যান। রাতভর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

কিয়েভের ৪৯ বছর বয়সি বাসিন্দা লেসিয়া জানান, উঁচু ভবনের নবম তলায় বসবাস করায় হামলার সময় আতঙ্ক তৈরি হয়। এ কারণে তিনি মেট্রো স্টেশনকে তুলনামূলক নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নেন।

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, ড্রোনের পাশাপাশি কিয়েভ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করা হয়েছে।

বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দনিপ্রো শহরে রাতভর বিমান হামলায় একটি শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাপোরিঝঝিয়ায় পরিবহন অবকাঠামো এবং ক্রেমেনচুকে আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

এদিকে রাশিয়া বলছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক ও প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা। দুপক্ষের দেওয়া এসব দাবি ও ক্ষয়ক্ষতির সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।