logo

মন্ত্রীসহ আমলাদের সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করল ইথিওপিয়া

মন্ত্রীসহ আমলাদের সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করল ইথিওপিয়া
হুরসো সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সামরিক অনুশীলনে অংশ নেন আবি আহমেদ। ছবি: বিবিসি

মন্ত্রিসভার সদস্য ও সরকারের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করেছেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। তার যুক্তি, সশস্ত্র বাহিনীর শৃঙ্খলা আরও দক্ষ ও শক্তিশালী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। একইসঙ্গে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতেও বড় ভূমিকা রাখবে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, দক্ষ ও শক্তিশালী নেতৃত্ব গড়ে তুলতে ইথিওপিয়ার মন্ত্রিসভার সদস্য ও সরকারের অন্যান্য ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের সামরিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবির শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে, হুরসো সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে তিনি নিজেও সামরিক অনুশীলনে অংশ নিচ্ছেন।

ইথিওপিয়ায় এমন পদক্ষেপ অস্বাভাবিক। দেশটিতে শীর্ষস্থানীয় বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তাদের সচরাচর সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে দেখা যায় না। এ প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির হাউস অব ফেডারেশনের স্পিকার মুফেরিয়াত কামিল, অর্থমন্ত্রী ফিতসুম আসফা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মেকদেস দাবা।

প্রশিক্ষণটি কবে শুরু হয়েছে বা কতদিন চলবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।

আবি তার পোস্টে উল্লেখ করেন, সার্বিক সমৃদ্ধি অর্জনের যে আকাঙ্ক্ষা ইথিওপিয়ার রয়েছে, তা বাস্তবায়নে দেশের নেতাদের শারীরিকভাবে সক্ষম, নৈতিকভাবে দৃঢ় ও মেধাগতভাবে যোগ্য হতে হবে। তিনি বলেন, সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম, দলগত কাজ, জবাবদিহি ও নেতৃত্বের মতো বিষয়ে মূল্যবান শিক্ষা দেয়।

আবির ভাষ্যমতে, সামরিক ও বেসামরিক শৃঙ্খলার এই মেলবন্ধন এমন এক প্রজন্ম গড়ে তুলতে সাহায্য করবে, যারা উভয় ক্ষেত্রেই সাফল্য অর্জনে সক্ষম হবে। সামরিক প্রশিক্ষণ নেতাদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবোধ, দায়িত্বশীলতা ও অভিন্ন উদ্দেশ্য অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা তৈরি করতে পারে।

ইথিওপিয়া যখন বহুমুখী নিরাপত্তা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেই সময়ে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হলো। বর্তমানে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় তিগ্রে অঞ্চলের কিছু অংশে চলমান লড়াই ছাড়াও আমহারা অঞ্চলে সংঘাত এবং ওরোমিয়ায় নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।

এছাড়া প্রতিবেশী দেশ ইরিত্রিয়ার সঙ্গে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই এই প্রশিক্ষণ চলছে। দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। আবি আহমেদ এর আগেও তার সরকারের লক্ষ্য অর্জনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে সামরিক প্রস্তুতি ও জাতীয় উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন।