পশ্চিম তীরে উৎপাদিত ইসরায়েলি পণ্যে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে ব্রিটেন। মঙ্গলবার দেশটির এক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা রক্ষায় যুক্তরাজ্যের চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড দায়িত্ব নেওয়ার ছয় সপ্তাহের মাথায় গত সপ্তাহে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইসরায়েল নিয়ে ব্রিটেনের নীতি পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন। মঙ্গলবার হাউস অব কমন্সে ইসরায়েল ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিবৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
এর আগে সোমবার ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এ সময় তিনি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের ক্ষেত্রে ‘দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের গুরুত্ব’ তুলে ধরেন। এই বক্তব্যকে সম্ভাব্য বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মিলিব্যান্ড গত সপ্তাহে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের প্রস্তাবিত ই ১ বসতি প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তার মতে, প্রকল্পটি এমন একটি ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে যাবে, যা ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের জন্য দাবি করে আসছে। ফলে এটি দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
যুক্তরাজ্যের পেনশনমন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেন জানিয়েছেন, আজই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বক্তব্য দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে প্রস্তাবিত বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা কীভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি প্যাট ম্যাকফ্যাডেন। মঙ্গলবার টাইমস রেডিওকে তিনি বলেন, “পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ পরে পার্লামেন্টে একটি বিবৃতি দেবেন।”
ম্যাকফ্যাডেন বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহ ও মাসগুলোতে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।
জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং ব্রিটেনসহ বিশ্বের অধিকাংশ সরকার পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে মনে করে। একই সঙ্গে তারা পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলি সামরিক দখলের অধীন ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল পশ্চিম তীরকে ‘দখলকৃত’ নয়, বরং ‘বিতর্কিত’ ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে। দেশটি ওই ভূখণ্ডের সঙ্গে ইহুদিদের ঐতিহাসিক অধিকার রয়েছে বলেও যুক্তি দিয়ে আসছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
