logo

মহাকাশ নিয়ন্ত্রণে কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র

টিআরটি ওয়ার্ল্ড
টিআরটি ওয়ার্ল্ড
মহাকাশ নিয়ন্ত্রণে কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র
মহাকাশে থাকা একটি স্যাটেলাইটে ধ্বংসাত্মক অস্ত্র দিয়ে লাল লেজার ছোড়া হচ্ছে। ছবি: দ্য গ্লোবাল নেটওয়ার্ক

প্রথমবারের মতো কক্ষপথে কার্যকর মহাকাশ-নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র মোতায়েনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্পেস ফোর্স জানিয়েছে, প্রতিপক্ষের হুমকি মোকাবিলায় মহাকাশে এসব সক্ষমতা মোতায়েন করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, “শত্রুপক্ষের হামলা থেকে যৌথ বাহিনীকে রক্ষা করার সক্ষমতাসম্পন্ন মহাকাশ-নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের কক্ষপথে মোতায়েন রয়েছে।” তবে এসব অস্ত্রের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য বা ঠিক কতটি ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

স্পেস ফোর্স জানিয়েছে, ‘স্পেস কন্ট্রোল’ বলতে মহাকাশ ক্ষেত্রকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামরিক কার্যক্রমকে বোঝায়। এসব কার্যক্রমে প্রতিপক্ষের সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে প্রচলিত বা গতিশক্তিনির্ভর এবং অগতিশক্তিনির্ভর—উভয় ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এসব সক্ষমতা আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—দুই ধরনের উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা সম্ভব।

চীন ও রাশিয়াকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীন ও রাশিয়ার মহাকাশ সক্ষমতাকে দায়ী করেছে স্পেস ফোর্স।

মার্কিন সামরিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, চীন সামরিক আধুনিকায়ন কৌশলের অংশ হিসেবে মহাকাশ ও ‘কাউন্টারস্পেস’ সক্ষমতা তৈরি ও পরিচালনা করছে।

অন্যদিকে রাশিয়া মহাকাশকে যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে এবং ভবিষ্যতের সংঘাতে মহাকাশে শ্রেষ্ঠত্বকে নির্ণায়ক বিষয় বলে মনে করে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাস

মহাকাশে সামরিকীকরণের ইতিহাস মহাকাশ প্রতিযোগিতার শুরুর সময় থেকেই। ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুটনিক উৎক্ষেপণের পর যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন কৃত্রিম উপগ্রহকে অস্ত্রায়িত ও ধ্বংস করার বিভিন্ন প্রযুক্তি তৈরির দিকে এগিয়ে যায়।

১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ কক্ষপথে পারমাণবিক অস্ত্র ও অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্র স্থাপন নিষিদ্ধ করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ভারতের মতো মহাকাশ সক্ষমতাসম্পন্ন দেশগুলো ওই চুক্তির সীমার বাইরে থেকে বিভিন্ন ধরনের কাউন্টারস্পেস সক্ষমতা তৈরি করে আসছে।

এসব ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য হলো যোগাযোগ, নজরদারি ও সামরিক নেভিগেশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৃত্রিম উপগ্রহ। ফলে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের এই স্বীকৃতি ভবিষ্যৎ সংঘাতে স্যাটেলাইট ও কক্ষপথকে ঘিরে সামরিক প্রতিযোগিতা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।