যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের, ‘যুদ্ধ চলবে’

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক ও অর্থনৈতিক; উভয় ক্ষেত্রেই যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। শত্রুপক্ষ আঘাত করলে ইরান আরও কঠোরভাবে তার জবাব দেবে।
রোববার (৮ নভেম্বর) ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহেবি বলেন, ‘আমাদের ও শত্রুপক্ষের মধ্যে সামরিক এবং অর্থনৈতিক; উভয় ক্ষেত্রেই যুদ্ধ চলছে। স্বাভাবিকভাবেই যুদ্ধে তারা আমাদের কোনো একটি জাহাজে হামলা চালাতে পারে। কিন্তু আমরা আরও কঠোরভাবে আঘাত হানব।’
ইরানের স্থলসীমান্ত দিয়ে পণ্য ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ‘টাস্কফোর্স আয়রন গেট’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েও কথা বলেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র। তার দাবি, অবরোধের ধরন যাই হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ইরানের ওপর তাদের কাঙ্ক্ষিত মাত্রার অর্থনৈতিক অবরোধ কার্যকর করতে পারবে না।
সম্প্রতি ইরানের স্থলপথে অস্ত্র ও নিষিদ্ধ পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত করার লক্ষ্যে ২০ সদস্যের একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ‘টাস্কফোর্স আয়রন গেট’ নামের এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইরানের স্থলসীমান্ত এবং কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে পণ্য পরিবহনের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে চায় ওয়াশিংটন।
মার্কিন পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই টাস্কফোর্স বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানে অস্ত্র, দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি এবং নিষেধাজ্ঞাভুক্ত পণ্যের সরবরাহ বন্ধে কাজ করবে। বিশেষ করে স্থলপথে ইরানের বাণিজ্যিক ও সরবরাহ নেটওয়ার্কের ওপর নজরদারি বাড়ানোই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পদক্ষেপকে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে চলমান নৌ অবরোধের সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য, শুধু সমুদ্রপথ নয়, স্থলপথেও সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো।
এদিকে, ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ কার্যকর করতে গিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, অবরোধ অমান্য করে চলাচলের চেষ্টা করায় ইরানের বন্দরসংশ্লিষ্ট একটি বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন বলছে, সমুদ্রপথে ইরানের বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, তেলের দাম এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত রাখার অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ জোরদারের উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক হুমকি, অর্থনৈতিক অবরোধ এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ চলতে থাকলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

