logo

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কাজ করায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কাজ করায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান
ইরানের জাতীয় পতাকা। ছবি: আনটারা নিউজ

ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া তিন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সরকারি সম্পদে অগ্নিসংযোগ, ক্ষয়ক্ষতি এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কাজ করার অভিযোগে তাদের এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর ২০২৬) ইরানের বিচার বিভাগের মিডিয়া আউটলেট মিজান অনলাইনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিরা হলেন হাসান দিওবন্দ, হামিদ কাজেমি ও রেজা জাংগানেহ।

ইরানের বিচার বিভাগের দাবি, গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় ওই তিন ব্যক্তি কারাজ শহরের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সরকারি ভবনে হামলা চালান। এ সময় তারা আগ্নেয়াস্ত্র, গ্রেনেড ও মোলোটভ ককটেল ব্যবহার করে অগ্নিসংযোগ করেন। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।

কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সরকারি সম্পদের ক্ষতিসাধনের পাশাপাশি তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করেছিলেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের ধারাবাহিকভাবে মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে ইরান। সর্বশেষ এই তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সেই ধারাবাহিকতার অংশ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগেও বেশ কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক ইরানি কর্তৃপক্ষের প্রতি সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দেশগুলোর মধ্যে ইরান অন্যতম। তালিকায় সৌদি আরবও রয়েছে। তবে ধারণা করা হয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যায় চীন সবার ওপরে। দেশটি এ-সংক্রান্ত সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ না করায় প্রকৃত সংখ্যা জানা কঠিন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরানজুড়ে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তা দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বড় ধরনের আন্দোলনে রূপ নেয়। ওই বিক্ষোভ দমনে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তবে ইরান সরকার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।