ভারতে সিইসির পদত্যাগ দাবিতে বিরোধীদের ‘চলো দিল্লি’ পদযাত্রা আজ

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লিতে শুরু হচ্ছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লকের ‘চলো দিল্লি’ পদযাত্রা। নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে এ কর্মসূচির আয়োজন করেছে বিরোধী দলগুলো।
দুপুর ১২টায় দিল্লির মিন্টো রোড ও কনট প্লেসের সংযোগস্থল থেকে পদযাত্রা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পরে তা রামলীলা ময়দানে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বড় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে দিল্লির সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের উৎসবের কেনাকাটা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে করার আহ্বান জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘প্রতিবাদ করুন, পদযাত্রায় অংশ নিন এবং স্থানীয় দোকান থেকে কেনাকাটা করুন।’ এর মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহায়তা করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশ ঘিরে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় প্রায় ১০ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রাহুল গান্ধী ইনস্টাগ্রামে পদযাত্রার ঘোষণা দেওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, কর্মসূচি নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইন্ডিয়া ব্লকের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১০ লাখ মানুষ সমাবেশে অংশ নিতে পারেন। তবে পুলিশ রামলীলা ময়দানের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী প্রায় ৫০ হাজার মানুষের উপস্থিতি বিবেচনায় রেখে নিরাপত্তা পরিকল্পনা করেছে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষ এলে তাদের আশপাশের সড়কে আটকে রাখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় দিল্লির বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে বিধিনিষেধ ও পথ পরিবর্তনের নির্দেশনা দিয়েছে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এসব বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। রাজঘাট, দিল্লি গেট, আইটিও এ-পয়েন্ট ও নেতাজি সুভাষ মার্গের টি-পয়েন্টসহ মোট ১০টি স্থানে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রতীকী অভিশংসন
এর আগে শনিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতীকী অভিশংসন কর্মসূচি পালন করেন বিরোধী দলের নেতারা।
সংসদীয় কার্যক্রমের আদলে আয়োজিত সাড়ে তিন ঘণ্টার এই কর্মসূচিতে ১৯টি বিরোধী দলের ২৫০ জনের বেশি সংসদ সদস্য অংশ নেন। বিকেল ৪টার পর রাজাজি মার্গে খাড়গের বাসভবনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
সমাপনী বক্তব্যে রাহুল গান্ধী বলেন, বিরোধীদের অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই বলেই তাদের খাড়গের বাসভবনের বাগানে বসতে হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে তিনি বিষয়টিকে আইনি কাঠামোর বাইরে নিয়ে গেছেন এবং এখন বিরোধীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন।
কেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ?
নির্বাচনে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ এবং বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে আগে থেকেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিরোধীদের বিরোধ চলছে।
গত মাসে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদনের পর নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০ মাসের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনাররা ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন।
তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, তাদের সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিরোধীদের ভোট কারচুপির অভিযোগ নতুন করে জোরালো হয়। এর ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থী সংগঠন, ইন্ডিয়া ব্লকভুক্ত দল এবং অন্যান্য সংগঠন বিক্ষোভের ডাক দেয়।
বিজেপি অবশ্য বিরোধীদের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রতীকী অভিশংসন কর্মসূচিকে ‘নাটক’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
