ব্রিটিশ পপ তারকা এড শিরান/গাজায় যা ঘটছে তা ‘অন্যায় ও অযৌক্তিক’

গাজায় চলমান পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ, অন্যায় ও অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ পপ তারকা এড শিরান। তার ট্যুর থেকে ফিলিস্তিনপন্থী মন্তব্যের জেরে র্যাপার ম্যাকলমোরকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে বিতর্কের পর শনিবার প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে গাজা নিয়ে মন্তব্য করলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় নিজের কনসার্টের শুরুতে শিরান বলেন, “গাজায় যা ঘটছে, তা ভয়াবহ, অন্যায়, অযৌক্তিক এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ।” এ সময় দর্শকদের উদ্দেশে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, তাকে কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, তিনি ভুলও করেছেন এবং এর জন্য তিনি দুঃখিত। তার বক্তব্যে দর্শকদের কাছ থেকে করতালি ও উল্লাস শোনা যায়।
ম্যাকলমোরকে ট্যুর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য শিরানের সমালোচনা হচ্ছিল। তবে শিরান এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে এর জন্য ট্যুরের আয়োজককে দায়ী করেছেন।
চলতি মাসে নিউ জার্সির একটি কনসার্টে ম্যাকলমোর ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেওয়ার পর ভবিষ্যৎ ট্যুরের কয়েকটি ভেন্যুর মালিকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরপর শিরানের ট্যুরের চারটি সাপোর্টিং অ্যাক্ট ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়ে ট্যুর থেকে সরে দাঁড়ায়।
এদিকে শিরানের ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টের আগে লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ডের বাইরে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারী সমবেত হন। তারা ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে ‘ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন। পুলিশ দূর থেকে বিক্ষোভকারীদের ওপর নজর রাখে।
কনসার্টে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ব্র্যান্ডন আতেকে। তিনি শিরানের বিরুদ্ধে ম্যাকলমোরকে নীরব করার ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগ তোলেন এবং কনসার্টে যাওয়ার পরিবর্তে গাজায় চলমান পরিস্থিতির প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কথা জানান।
এর আগে মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রামে শিরান বলেছিলেন, গাজা ও চলমান সংঘাত নিয়ে তার ব্যক্তিগত মতামত রয়েছে। তবে তিনি প্রকাশ্যে সেগুলো না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তার ভাষায়, যারা তার কনসার্টে আসেন, তারা সেখানে কোনো রাজনৈতিক ফোরাম আশা করেন না।
শনিবার ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন প্যালেস্টিনিয়ান ক্যাম্পেইন ফর দ্য অ্যাকাডেমিক অ্যান্ড কালচারাল বয়কট অব ইসরায়েল (PACBI) এড শিরানের পুরো বিশ্ব ট্যুর বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে।
শনিবারের কনসার্টে শিরান কোনো উদ্বোধনী শিল্পী ছাড়াই একাই মঞ্চে ওঠেন। ট্যুর থেকে সরে দাঁড়ানোদের মধ্যে তার ব্যাকিং ব্যান্ড এবং বিলি আইলিশের সঙ্গে কাজ করে পরিচিত সংগীতশিল্পী ফিনিয়াসও রয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের গাজা অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে গাজা যুদ্ধ ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে বিনোদন জগতের শিল্পীদের মধ্যে প্রকাশ্য অবস্থান নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। অস্কার, এমি, সংগীত পুরস্কার অনুষ্ঠান এবং ইউরোপের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবেও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৮০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হামাস-নিয়ন্ত্রিত হলেও জাতিসংঘ তাদের পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে। শনিবার গাজার কর্তৃপক্ষ জানায়, সর্বশেষ ইসরায়েলি হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ বছর বয়সী একটি মেয়েও রয়েছে।
