logo

আগামী ১০০০ দিনের মধ্যে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে হবে ব্রিটেনকে: প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্ট্রিটিং

আগামী ১০০০ দিনের মধ্যে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে হবে ব্রিটেনকে: প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্ট্রিটিং
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। ছবি: ইয়াহু নিউজ

ব্রিটেনকে আগামী ১,০০০ দিনের মধ্যে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে হবে এবং যুদ্ধে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। বৈরী রাষ্ট্রগুলো সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়ে চলায় ব্রিটেন ও তার মিত্রদের দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার দ্য টেলিগ্রাফে প্রকাশিত এক নিবন্ধে স্ট্রিটিং বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ব্রিটেনের প্রতিপক্ষ দেশগুলো হামলা চালানোর মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য ও ন্যাটোর মিত্রদের প্রস্তুতির জন্য হাতে সময় রয়েছে তিন বছরের কিছু বেশি।

তিনি লেখেন, ‘আমাদের ক্ষতি করার জন্য প্রতিপক্ষের আগ্রহ নতুন কিছু নয়। পরিবর্তন এসেছে তাদের সক্ষমতায়। ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের সামরিক শক্তি ও যুদ্ধকালীন অর্থনীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা তাদের হামলা চালানোর অবস্থানে নিয়ে যাবে। আমাদের লক্ষ্য পূরণে হাতে রয়েছে ১,০০০ দিনের কিছু বেশি সময়; মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়া এবং তাতে জয়ী হওয়া।’

স্ট্রিটিং আরও বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি ঠেকাতে হলে তার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। যুদ্ধ করার এবং জয়ী হওয়ার মতো সক্ষমতা নিশ্চিত করাই আমার প্রধান অগ্রাধিকার।’

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বৈরী রাষ্ট্রের হুমকি, সাইবার হামলা, সংগঠিত অপরাধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এসব হুমকির কারণে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্ট্রিটিং বলেন, তার জীবদ্দশার বেশির ভাগ সময়, এমনকি পুরো সময়ের তুলনায়ও ব্রিটেন এখন অনেক বেশি হুমকির মুখে রয়েছে।

নাগরিকদের ৭২ ঘণ্টার জরুরি প্রস্তুতির পরামর্শ

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই সতর্কবার্তার মধ্যেই ব্রিটিশ সরকার ‘বি রেডি’ (প্রস্তুত থাকুন) নামে নতুন একটি প্রচারাভিযান শুরু করেছে। এতে জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে টানা তিন দিন চলার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ঘরে মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের নির্দেশনায় বোতলজাত পানি, দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য খাবার, নগদ অর্থ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ঘরে রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে সরকার জানিয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট গোয়েন্দা সতর্কবার্তার ভিত্তিতে নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্ট্রিটিং বলেন, ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ ও ‘গ্রে জোন হুমকি’র মতো পরিভাষা বৈরী রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে আসা ঝুঁকির প্রকৃত মাত্রা যথাযথভাবে তুলে ধরে না।

দ্য মিরর-এর বরাতে তিনি আরও বলেন, ‘পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুত কি না, তারা জানে কি না যে দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সংকট দেখা দিলে কীভাবে সাড়া দিতে হবে, এ প্রশ্নগুলো করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘এসব হুমকি কাল্পনিক নয়, বাস্তব। আর এগুলো শুধু অন্য কোথাও নয়, ক্রমেই আমাদের নিজেদের দেশেও দেখা যাচ্ছে। তাই জাতীয় প্রতিরক্ষার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।’

সাইবার হামলা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে উদ্বেগ

প্রস্তুতির গুরুত্ব বোঝাতে ব্রিটিশ সরকার সম্প্রতি পিএইচপি সফটওয়্যারের একটি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছে। বুধবার প্রকাশিত কয়েকটি নিরাপত্তা দুর্বলতার তথ্য সামনে আসার পর বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সরকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের ডিজিটাল নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে।

ওই দুর্বলতাগুলোকে কেন্দ্র করে লাখ লাখ হ্যাকিং প্রচেষ্টা চালানো হয় এবং কিছু সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্ট্রিটিং সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার আক্রমণকারীদের প্রচলিত নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়া সহজ করে তুলতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে সাইবার হামলার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে।

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন পরিকল্পনা

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দাবানল মোকাবিলার পরিকল্পনা নিয়ে এক বৈঠকে তিনি বলেন, অতীতে ব্রিটেনকে অনেক সময় পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়েছে।

তিনি সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েনের ব্যবস্থাসহ দাবানল মোকাবিলায় নতুন পরিকল্পনা ঘোষণার কথাও জানান।

বিবিসিকে বার্নহ্যাম বলেন, ‘এর উদ্দেশ্য আতঙ্ক ছড়ানো নয়। বরং কোনো কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হলে তা মোকাবিলা করার জন্য ঘরে পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখা, এটি একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।’

ব্রিটেনের এই নির্দেশনার সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের পরামর্শেরও মিল রয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে কমিশন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের ৭২ ঘণ্টার জরুরি প্রস্তুতি হিসেবে খাবার, পানি, নগদ অর্থ ও পাওয়ার ব্যাংকের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখার আহ্বান জানিয়েছিল।