logo

গার্ডিয়ানের কলাম/ট্রাম্পের ভরাডুবি, আটলান্টিকের উভয় পারেই এখন আশার সঞ্চার

ট্রাম্পের ভরাডুবি, আটলান্টিকের উভয় পারেই এখন আশার সঞ্চার
নির্বাচনী রাতের এক অনুষ্ঠানে মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রার্থী আব্দুল আল-সাইয়েদ পৌঁছানোর আগে উপস্থিত লোকজন নির্বাচনের ফলাফল দেখছেন। ছবি: এপি

হাঙ্গেরি, ব্রাজিল, সার্বিয়া এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংকটে সাধারণ মানুষ হিংসা ও দমনের পথ বেছে নেয়নি। টেক্সাসের নতুন সেনেটর জেমস তালারিকো প্রচারণার সময় যাকে ‘‘ভালোবাসার রাজনীতি’’ বলেছিলেন, ভোটাররা সেই পথেই হেঁটেছেন।

বুদাপেস্টে ভিক্টর অরবানের পতনের মধ্য দিয়ে যে ‘গণতান্ত্রিক বসন্ত’ শুরু হয়েছিল, তার ইতিবাচক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নির্বাচনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

মিশিগান ও ওহাইওসহ একাধিক রাজ্যে চরমপন্থা ও অশালীনতা প্রত্যাখ্যান করে ভোটাররা শালীনতা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। ওহাইওতে বিলিয়নিয়ার বিবেক রামাস্বামীকে হারিয়ে ড. অ্যামি অ্যাক্টন প্রথম নারী গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

পাশাপাশি নিউ মেক্সিকো, জর্জিয়া ও টেক্সাসে যথাক্রমে প্রথম আদিবাসী, কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনা নারী গভর্নর নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা ট্রাম্পবাদের সংঘাতময় রাজনীতিকে ব্যালট বাক্সে ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যান করায় এই ইতিবাচক পরিবর্তন ত্বরান্বিত হয়েছে।

এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে ১৯৩০-এর দশকের ‘রুসভেল্টিয়ান’ (Rooseveltian) ভাবধারার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা যায়। তৎকালীন সময়ে ফ্রাঙ্কলিন ডি রুসভেল্ট যেমন ‘নিউ ডিল’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে উদার গণতন্ত্র রক্ষা করেছিলেন, তেমনি বর্তমান ডেমোক্র্যাটদের সামনেও লাগামহীন বৈষম্য ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট দূর করে গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনর্নির্মাণের একটি বড় সুযোগ এসেছে।

তবে ইউরোপে আশার এই শুভসূচনা এখনও কিছুটা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। সেখানে আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকলেও কট্টর-ডানপন্থী জাতীয়তাবাদ ও সামাজিক ক্ষোভ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ফ্রান্সে তরুণদের অর্থনৈতিক অসন্তোষ এবং কট্টর-ডানপন্থী 'ন্যাশনাল র‍্যালি'-র উত্থান ইউরোপীয় গণতন্ত্র রক্ষায় একটি বড় পরীক্ষা। আগামী মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে এই 'গণতান্ত্রিক বসন্ত' কতটুকু প্রসারিত ও সফল হবে, তা দেখার বিষয়।

পরিশেষে, আটলান্টিকের দুই পারের মানুষই এক নতুন পরিবর্তনের প্রত্যাশায় জেগে উঠেছে। যদিও সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথটি একেবারেই সহজ নয়; বিশেষ করে ইউরোপের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে তাদের পথটি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি জটিল; তবুও বৈষম্য, দুর্নীতি ও কট্টরপন্থার বিপরীতে দাঁড়িয়ে এটি একটি সহনশীল, মুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার এক নতুন সম্ভাবনা ও আশার ক্ষেত্র তৈরি করেছে।


লেখক আলেকজান্ডার হার্স্ট একজন আমেরিকান সাংবাদিক, লেখক এবং ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর কলামিস্ট, যিনি প্যারিসে বসবাস করেন।

[প্রবন্ধ, নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার ও প্রতিক্রিয়ায় প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণের প্রতিফলন। এগুলো এশিয়া পোস্টের সম্পাদকীয় নীতি বা অবস্থানের সঙ্গে সর্বদা মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখায় উপস্থাপিত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, তথ্য-উপাত্ত এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা আইনগতসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের যথার্থতা ও মতামতের দায়িত্ব লেখকের নিজস্ব; এ বিষয়ে এশিয়া পোস্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান নিরপেক্ষ।]