গার্ডিয়ানের কলাম /উগ্র ডানপন্থি ও ট্রাম্পকে হারিয়ে লুলার ঐতিহাসিক জয়, তবুও শঙ্কামুক্ত নয় লাতিন আমেরিকা

অসম্ভবই যেন সত্যি হলো। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে চতুর্থবারের মতো জয়ী হলেন লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা। রোববারের দ্বিতীয় দফা বা রানঅফ ভোটে তিনি ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করেছেন। অথচ প্রথম দফায় এগিয়ে ছিলেন বলসোনারো। ব্রাজিলের ইতিহাসে প্রথম দফায় পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয় দফায় জয়ের নজির এই প্রথম।
তৃণমূল পর্যায়ের জোর তৎপরতা এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি এই নির্বাচনকে এক নতুন মাত্রা দেয়। নির্বাচনটি কার্যত ব্রাজিলের গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে রূপ নিয়েছিল। ২০২২ সালের নির্বাচনে হেরে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্র করায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো এখন কারাগারে আছেন। তার ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো বাবার সেই বিতর্কিত ধারা ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন। সচেতন ভোটাররা তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। লুলার এই বিজয় বড় একটি বার্তা দেয়। ডানপন্থীদের উত্থানের মুখে গণতন্ত্র রক্ষার ডাক এখনো ভোটের রাজনীতিতে কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে।
প্রথম দফায় পিছিয়ে পড়ার পর লুলার সামনে সুযোগ সীমিত ছিল। বামপন্থিদের অধিকাংশ ভোট তিনি আগেই নিজের পক্ষে টেনেছিলেন। অন্য প্রার্থীদের সমর্থকদের কাছে টানার পথ খুব একটা খোলা ছিল না। তার সবচেয়ে বড় ভরসা ছিল ভোট দিতে না আসা মানুষকে কেন্দ্রে আনা। পাশাপাশি শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে জোড়া লাগানো।
লুলার দল ওয়ার্কার্স পার্টি মাঠে ও অনলাইন প্রচারণায় জোর দেয়। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বার্তা আদান–প্রদানের নেটওয়ার্ককে কাজে লাগায়। এতে দ্বিতীয় দফায় প্রায় ৩০ লাখ অতিরিক্ত ভোটার ভোটকেন্দ্রে আসেন। বড় শহরগুলোতে এবং নিজের পুরোনো শক্ত ঘাঁটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভালো ফল করেন লুলা। তিনি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক উদ্বেগকে গুরুত্ব দেন। দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমানোর পুরোনো সাফল্যের কথা মনে করিয়ে দেন। ২০০৩ সালে চালু করা বিখ্যাত সামাজিক কর্মসূচি ‘বলসা ফ্যামিলিয়া’র সুযোগ–সুবিধা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
লুলা ভোটারদের সামনে স্পষ্ট দুটি পথ তুলে ধরেন। একদিকে সামাজিক অর্জন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষা, অন্যদিকে বলসোনারো পরিবারের পুরোনো আগ্রাসী রাজনীতি। তিনি সতর্ক করে দেন, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জয়ী হলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেবেন।
লুলার এই জয়ের প্রভাব শুধু ব্রাজিলেই সীমাবদ্ধ নয়। লাতিন আমেরিকায় গত ১৮ মাসে ডানপন্থী প্রার্থীরা সাতটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। লুলার বিজয় সেই ডানমুখী ধারায় বড় ধাক্কা দিল। দুই দশক আগে লাতিন আমেরিকার ‘গোলাপি জোয়ার’ বা বামপন্থি জাগরণের অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন লুলা। সেই সময়ে বামপন্থী সরকারগুলো এই অঞ্চলের রাজনীতি বদলে দিয়েছিল। তারা ওয়াশিংটনের প্রভাব থেকে বেরিয়ে স্বাতন্ত্র্য গড়ে তুলেছিল। আজ লুলা সম্পূর্ণ বিপরীত এক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন। তিনি ডানপন্থার উল্টো স্রোত ঠেকানোর লড়াই করছেন। তবে পাশে আগের মতো শক্তিশালী মিত্রজোট পাচ্ছেন না।
লুলার এই জয় নিঃসন্দেহে স্বস্তির। তবে ভুলে গেলে চলবে না, ফ্লাভিও বলসোনারো বৈধ ভোটের ৪৮ শতাংশের বেশি পেয়েছেন। ডানপন্থী কংগ্রেসে তাদের শক্ত অবস্থানের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট বোঝা যায়, এই বলয়ের শিকড় বেশ গভীর। নিরাপত্তা ও অর্থনীতি নিয়ে বলসোনারোর বক্তব্য অনেক ভোটারকে টেনেছে। জীবনযাত্রার বাড়তি খরচে ক্ষুব্ধ হয়ে শ্রমজীবী মানুষের একাংশও তাঁর দিকে ঝুঁকেছিলেন। অথচ এই শ্রমজীবীরা আগে লুলাকেই সমর্থন করতেন।
পুরো লাতিন আমেরিকাজুড়েই কর্তৃত্ববাদী ডানপন্থীদের উত্থানের চিত্রটা প্রায় একই রকম। অপরাধ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সনাতন রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতা মানুষকে হতাশ করেছে। এই হতাশা থেকেই নতুন ডানপন্থীরা সুযোগ নিচ্ছে। তারা কড়া নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। একই সঙ্গে প্রগতিশীল সামাজিক উদ্যোগগুলোর ওপর চড়াও হচ্ছে। এল সালভাদরের নায়িব বুকেলে কিংবা আর্জেন্টিনার হাভিয়ের মিলেই থেকে শুরু করে সম্প্রতি কলম্বিয়ায় নির্বাচিত আবেলাদরো দে লা এসপ্রিয়েলা পর্যন্ত সর্বত্রই একই প্রবণতা চোখে পড়ে।
ডানপন্থিদের এই নতুন ঐক্য অনেক দিক থেকেই পুরোনো ‘গোলাপি জোয়ারের’ বিপরীত প্রতিচ্ছবি। তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখছে। এই অঞ্চলে আমেরিকার আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে আকাঙ্ক্ষা ট্রাম্পের রয়েছে, তার সঙ্গে তারা পুরোপুরি একাত্ম হয়েছে। তাদের এই সম্পর্কটি আসলে একে অপরের পরিপূরক। নিজেদের দেশে মানুষের ক্ষোভকে পুঁজি করে উঠে আসা ডানপন্থী নেতারা ক্ষমতা পোক্ত করতে ওয়াশিংটনের দিকে তাকিয়ে থাকেন। অন্যদিকে আমেরিকাও তার কৌশলগত স্বার্থ হাসিলে এই সরকার ও আন্দোলনগুলোকে কাজে লাগায়।
বিজয়ী ভাষণে লুলা স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দেন, রাজপথে মানুষের উত্তাল সমর্থন প্রমাণ করেছে এই দেশ কারও পেছনের উঠান হয়ে থাকবে না। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরাসরি তথাকথিত ‘ডনরো ডকট্রিন’কে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। এই নীতির আওতায় আমেরিকা পুরো লাতিন আমেরিকায় নিজের খবরদারি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প নানা কৌশল নিচ্ছেন। তিনি সমর্থন, নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক আরোপ ও আর্থিক সহায়তাকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানিয়েছেন। এর মাধ্যমে বন্ধুদের পুরস্কৃত করছেন এবং বিরোধীদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন। তিনি হন্ডুরাস ও কলম্বিয়ায় ডানপন্থী প্রার্থীদের সরাসরি সমর্থন দিয়েছেন।
এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট বুকেলে অপরাধী চক্রগুলোর সঙ্গে গোপন আলোচনা চালালেও ট্রাম্প তাতে চোখ বুজে থেকেছেন। এ ছাড়া ২০২৫ সালের আইনসভা নির্বাচনের আগে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলেইকে দুই হাজার কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। তবে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই মার্কিন সুবিধা পেতে হলে নির্বাচনের ফল তাঁর পক্ষে আসতে হবে।
এই ঐক্যের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এখন নিরাপত্তা ইস্যু। ট্রাম্প প্রশাসন তথাকথিত ‘মাদক সন্ত্রাস’ দমনের নামে সামরিক প্রভাব বাড়াচ্ছে। ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকারগুলো মেনে নিতে তারা সরকারগুলোর ওপর চাপ দিচ্ছে। সন্ত্রাসী তকমা দিয়ে ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার ঘটনার পক্ষে তারা সাফাই গেয়েছে
মেক্সিকোর অপরাধী চক্রগুলোর ওপর একতরফা হামলার হুমকি দিয়েছে। ইকুয়েডরে যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়েছে। ওয়াশিংটন একই ধরনের অভিযানের বিষয়ে কলম্বিয়ার সঙ্গেও কথা বলেছে। কাউকে সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করলেই সামরিক অভিযানের বৈধতা মেলে না। তবে আমেরিকার সীমানা ছাড়িয়ে অন্য দেশে নাক গলানোর পক্ষে যুক্তি সাজাতে এটি কাজে লাগে।
ব্রাজিলের ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে, সরকারের বাইরে থাকা ওয়াশিংটনের মিত্ররাও এই কৌশল ব্যবহার করতে পারে। জাইর বলসোনারোর বিচার চলাকালে তার পরিবার ওয়াশিংটনের সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়েছিল। তারা ব্রাজিলের বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায়। এর জেরে ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের ওপর শুল্ক চাপায়।
একই সঙ্গে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে দে মোরায়েসের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। বলসোনারো পরিবারের জোরালো তদবিরের পর ওয়াশিংটন ব্রাজিলের শীর্ষ দুটি অপরাধী চক্রকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এই ঘটনা ফ্লাভিও বলসোনারোর নির্বাচনী প্রচারকে বাড়তি সুবিধা দেয়। তিনি প্রচার চালান, লুলা সংগঠিত অপরাধ দমনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন।
এই দ্বন্দ্ব শুধু বলসোনারো পরিবারের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে আরও গভীর স্বার্থ জড়িয়ে আছে। চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে ওয়াশিংটন ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ চায়। তারা লুলার ওপর ক্রমাগত চাপ দিয়ে আসছে। তবে লুলা অন্য দেশগুলোর সঙ্গে ব্রাজিলের স্বাধীনভাবে বাণিজ্য করার অধিকার শক্তভাবে রক্ষা করে চলেছেন।
ব্রাজিলের পরিস্থিতি দেখায়, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ অনেক সময় বুমেরাং হতে পারে। ২০২৫ সালে জাইর বলসোনারোর বিচার নিয়ে ওয়াশিংটন যখন শাস্তিমূলক শুল্কের হুমকি দেয়, তখন উল্টো লুলার জনপ্রিয়তা বাড়ে। লুলা এই বিরোধকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে রূপ দেন। বিদেশি হস্তক্ষেপ ঠেকানোকেই তিনি নির্বাচনী প্রচারের মূল সুর বানিয়ে ফেলেন।
ট্রাম্পের ভূমিকার সঠিক প্রভাব আলাদা করে মাপা কঠিন। তবে মার্কিন আগ্রাসী নীতির বিরোধিতাই লুলার পক্ষে জনসমর্থন জোয়ার তৈরি করতে সহায়তা করেছে। তৃণমূলের সক্রিয়তা, গণতন্ত্র রক্ষার ডাক এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে কীভাবে ডানপন্থার বিস্তার রুখে দেওয়া যায়, লুলা তা করে দেখালেন।
তবে এই প্রতিরোধের একটি বড় দুর্বলতাও আছে। এই প্রতিরোধ এখনো ব্রাজিলের সীমানার ভেতরেই আটকে রয়েছে। ব্রাজিলের আয়তন ও অর্থনীতির শক্তি ওয়াশিংটনকে রুখে দেওয়ার সাহস জোগায়। তাদের প্রতিবেশীদের সেই সক্ষমতা নেই। লুলা অত্যন্ত বাস্তববাদী অবস্থান নিয়েছেন। তিনি ট্রাম্পের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লাতিন আমেরিকাজুড়ে কোনো বড় মোর্চা গড়তে যাননি। তিনি লড়াইটিকে দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন। তাছাড়া ঘরের ভেতরেও তাঁকে শক্তিশালী ডানপন্থীদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
ফ্লাভিও বলসোনারো এখনো পরাজয় স্বীকার করেননি। শেষ মুহূর্তে দুই পক্ষের অনুরোধেই ভোটগ্রহণের সময় কিছু বাড়ানো হয়েছিল। সেই কারণ দেখিয়ে তিনি পুরো নির্বাচন বাতিল করার দাবি তুলেছেন। অবশ্য নির্বাচন কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়েছে, সময় বাড়ানোর ফলে ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়েনি।
লাতিন আমেরিকার ডানমুখী যাত্রার আড়ালে রাজনৈতিক বিভক্তির ক্ষতটিও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পুরো অঞ্চলজুড়েই ভোটাররা বিভক্ত। প্রতিটি নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে। ফলে কোনো পক্ষেরই দীর্ঘস্থায়ী আধিপত্য কায়েমের দাবি টেকসই নয়। ব্রাজিলের নির্বাচনই এর বড় প্রমাণ। লুলা ডানপন্থীদের বিজয়রথ সাময়িকভাবে থামিয়ে দিয়েছেন ঠিকই। তবে দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটার এমন এক প্রার্থীকে বেছে নিয়েছেন, যিনি ট্রাম্পের নীতিকেই পুরোপুরি ধারণ করেন।
লুলার বিজয় প্রমাণ করে, ডানপন্থার এই বাড়বাড়ন্ত অনিবার্য বা চূড়ান্ত কিছু নয়। তবে এই শক্তির পেছনে এখনো বিশাল ভোটব্যাংক আছে। রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণের ক্ষমতা তাদের হাতে রয়েছে। পাশাপাশি ওয়াশিংটনের মতো শক্তিশালী মিত্র তাদের সঙ্গে আছে। ব্রাজিল হয়তো নিজের সীমান্তে ডানপন্থার নীল জোয়ার আটকে দিয়েছে। তবে পুরো অঞ্চলের সুরক্ষায় এখনো তারা মজবুত প্রাচীর হয়ে উঠতে পারেনি।
লেখক পরিচিতি
জর্দানা টিমারম্যান বুয়েনস এইরেসভিত্তিক সাংবাদিক। তিনি দ্য আইডিয়াস লেটারের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক এবং লাতিন আমেরিকা ডেইলি ব্রিফিংয়ের সংকলক।








