ব্রেস্টফিডিং: শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সামাজিক সুস্থতার ভূমিকা

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট (বাশিই) কর্তৃক যৌথভাবে পরিচালিত একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ৮২ শতাংশ শিশুই পর্যাপ্ত বুকের দুধ পাইনি। গবেষণায় আরও দেখা গেছে হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশই অপুষ্ঠিতে ভুগছিল। গত ৭ আগস্ট দৈনিক প্রথম আলো ‘৪৫ শতাংশ শিশু ঠিকমতো মায়ের দুধ পাচ্ছে না’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন (বিবিএফ) পরিচালিত একটি পর্যবেক্ষণের ফলাফলের ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে হাসপাতালের সেবার ঘাটতি, কর্মস্থানে মাতৃকালীন ছুটি না থাকা প্রভৃতি কারণে শিশুদের মায়ের দুধ খাওয়া কমেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ সালে বাংলাদেশে ছয় মাস বয়সি শিশুদের ৬৫ শতাংশ পর্যাপ্ত পরিমাণ মায়ের দুধ পেত, যা বর্তমানে ৫৫ শতাংশ। যেখানে বাংলাদেশের লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালের মধ্যে ৬০ শতাংশ শিশুকে পর্যাপ্ত মায়ের দুধ খাওয়ানো।
ব্যক্তিগতভাবে আমি ডাক্তার বা পুষ্টিবিদ নই। পড়ালেখা করেছি সমাজবিজ্ঞানে (সরকার ও রাজনীতি বিভাগ)। পেশায় জনস্বাস্থ্য গবেষক। জনস্বাস্থ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এক দশকেরও বেশি সময় যাবত কাজ করছি ব্র্যাক জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে। কাজের প্রয়োজনে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সভা-সেমিনার, কনফারেন্সে অংশগ্রহণ ও গবেষণাপত্র উপস্থাপনের সুযোগ হয়েছে। দাম্পত্য জীবনে আমাদের দুই বছর ৮ মাস বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
উপরোক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে মতামতটি লেখার প্রয়াস।
আমরা জানি, মায়ের বুকের দুধ শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশের জন্য সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও প্রাকৃতিক খাদ্য। চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, শিশুর জন্মের প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের দুধই তার পুষ্টি ও পানির সমস্ত চাহিদা মেটাতে সক্ষম। ৬–১২ মাস বয়সে শিশুর অর্ধেক শক্তিচাহিদা ও ১৩–২৪ মাস বয়সে এক-তৃতীয়াংশ শক্তিচাহিদা পূরণ করতে পারে। শিশুর স্তন চোষার সঙ্গে মায়ের দুধ তৈরি হওয়ার একটা সম্পর্ক আছে।
শিশু যত ঘন ঘন ও সঠিকভাবে স্তন্যপান করে, মায়ের শরীরে ‘প্রোল্যাকটিন’ ও ‘অক্সিটোসিন’ নামক হরমোনের প্রভাবে তত বেশি দুধ তৈরি ও নিঃসৃত হতে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় মায়ের দুধে থাকা অ্যান্টিবডি শিশুকে বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরাসরি সাহায্য করে। তাই সঠিক নিয়মে ও পর্যাপ্ত পরিমাণে শিশুর দুধ চোষা নিশ্চিত করা এবং মায়ের পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ ও মানসিক নিশ্চিন্ততা শিশুর নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। সাধারণত ২–৩ ঘণ্টা পর পর শিশুকে দুধ পান করাতে চিকিৎসা বিজ্ঞান পরামর্শ দেয়।
১. মাতৃকালীন ছুটি
গত দুই দশকে বাংলাদেশে নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের হার এক অভাবনীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক পরিচালিত লেবার ফোর্স সার্ভের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে যেখানে মোট কর্মক্ষম নারীর প্রায় ২৬ শতাংশ আয়মূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তা বর্তমানে বেড়ে ৪০ শতাংশেরও বেশি।
এই ধারাবাহিক অগ্রগতির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে নারী শিক্ষার বিকাশ, বিশেষ করে উচ্চশিক্ষায় নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি। তৈরি পোশাক শিল্প (আরএমজি) খাত থেকে শুরু করে সকল পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কর্পোরেট খাত, ফ্রিল্যান্সিং ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের সুপ্রতিষ্ঠিত করছেন। একজন কর্মজীবী নারী তার অফিসে যাওয়া-আসা ও ডিউটি টাইম মিলিয়ে প্রায় ১০–১২ ঘণ্টা বাড়ির বাইরে থাকেন।
বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস, পার্ট-১ এর ১৯৭ (১) নং বিধি অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবী নারীদের মাতৃকালীন ছুটি ৬ মাস। আর বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০২৩ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী বেসরকারি চাকরিরত নারীদের মাতৃকালীন ছুটি ৪ মাস।
২০২৫ সালে প্রকাশিত সরকারের সোশ্যাল সিকিউরিটি পলিসি সাপোর্ট (এসপিএসএস) প্রোগ্রামের একটি রিপোর্টে বলা হয়, দেশের মাত্র ৩৪.৬ শতাংশ কর্মজীবী নারী মাতৃকালীন ছুটি পান। এক্ষেত্রে সরকারি চাকরিজীবী নারীরা আইন অনুযায়ী ৬ মাস মাতৃকালীন ছুটি পেলেও বেসরকারি খাতের জন্য যে আইন আছে তা যথাযথভাবে মানা হয় না। প্রতিষ্ঠানভেদে এক, দুই, তিন বা চার মাসের ছুটি দেওয়া হয়। কিছু প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে এনজিও বা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছয় মাসের ছুটিও দেয়। যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবী মায়েরা ৬ মাসের ছুটি পান না, তারা তাদের সন্তানকে কোনোভাবেই শিশুর প্রথম ছয় মাসের এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং তথা শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়ানোর বিষয়টি মানতে পারেন না। আবার কর্মক্ষেত্র থেকে ফেরার পর শরীর ক্লান্ত থাকা ও সারাদিন তার সন্তান স্তন না চোষায় রাতে খাওয়ানোর জন্যও মায়ের স্তনে পর্যাপ্ত দুধ তৈরিই হয় না।
২. ডে-কেয়ার সেন্টার
ধরে নিলাম ৬ বা তিন মাসের ছুটি পেলেন। মূল চ্যালেঞ্জটা শুরু হয় মাতৃকালীন ছুটি শেষ হওয়ার পর। প্রাতিষ্ঠানিক ডে-কেয়ার সেন্টার তখন একটা মায়ের মৌলিক চাহিদা হয়ে যায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এই যে, সারা দেশের কর্মজীবী নারীদের ৫ শতাংশ নারীও ডে-কেয়ার সুবিধা পান না—হোক সেটা সরকারি বা বেসরকারি চাকরিজীবী নারী। সারা দেশে হাতে গোনা কয়েকটি সরকারি ডে-কেয়ার সেন্টার আছে। সেগুলো হয়তো সর্বোচ্চ হাজার খানেক মা তার সন্তানকে রাখতে পারেন। বেসরকারি কয়েকটি এনজিও এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু ডে-কেয়ার সেন্টার আছে। ঢাকা শহরে কিছু প্রাইভেট ডে-কেয়ার আছে বটে, তবে সেগুলোর খরচ অনেক বেশি। ফলে ৭–২৪ মাসের সময়টাতে বাচ্চারা তাদের মায়ের দুধ খুবই কম পায়। এই সময়ে শিশু স্বাস্থ্য ও মায়ের দুধ খাওয়া নিয়ে আলোচনাও অনেক কম।
৩. ব্রেস্টফিডিং কর্নার
একটা গল্প মনে পড়ে গেল। ২০২৪ সালে আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াটার ইনস্টিটিউট কর্তৃক আয়োজিত ‘ওয়াটার অ্যান্ড হেলথ’ শিরোনামের একটি কনফারেন্সে গিয়েছিলাম। দেশে ফেরার জন্য নিউইয়র্কের বিখ্যাত জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন শেষ করে বিমানের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আমার কয়েকটা সিট পরেই কালো বোরকা পরা দুইজন ভদ্রমহিলা, সাথে একটা তিন-চার মাসের শিশুসন্তান ও পাঁচ-ছয় বছরের আরেকটা মেয়ে। নিজেদের মধ্যে আরবিতে কথা বলছিলেন। যতটুকু মনে পড়ে পরিবারটি ইয়েমেনের। সবাই অনেকক্ষণ অপেক্ষা করছিলাম। হঠাৎ শিশুটি কান্না শুরু করল, কোনোভাবেই থামে না।
সবাই সবার মতো ব্যস্ত, কারোরই ওদিকে খেয়াল নেই। কিন্তু ওই সময় আমার নিজেরও ১০ মাস বয়সী সন্তান থাকায় কান্নার ধরণ শুনে আমার মনে হলো, বাচ্চাটা খাওয়ার জন্য কাঁদছে। আমি উঠে গিয়ে সালাম দিয়ে ইংরেজিতে বললাম, ‘Maybe your baby is crying because of hunger.’ বাবুটাকে কোলে নেওয়া মহিলাটি আমার দিকে তাকিয়ে রইল। বুঝলাম ইংরেজি ভালো বোঝেন না।
আমি এয়ারলাইন্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত লোককে জিজ্ঞেস করলাম, এখানে ব্রেস্টফিডিং কর্নার আছে কিনা? সে বলল, আছে। আমাকে দেখিয়ে দিল। আমি আমার গুগল ট্রান্সলেটরে আরবিতে অনুবাদ করার অপশন দিয়ে লিখলাম, ‘এখানে ব্রেস্টফিডিং কর্নার আছে। আপনি চাইলে সেখানে গিয়ে আপনার বাচ্চাকে খাওয়াতে পারেন।’ বাংলার পাশে আরবি অক্ষরে সেটা দেখাল। আমি ওই মহিলাকে সরাসরি মোবাইলে আরবি লেখা দেখালাম। মহিলা আমার দিকে তাকিয়ে হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়লেন। আমার সঙ্গে গেলেন। তারপর বাচ্চাটাকে খাওয়ালেন।
এই গল্পটি বলার উদ্দেশ্য হলো, বেশ কয়েক বছর যাবত পাবলিক প্রতিষ্ঠান বা অবকাঠামোগুলোতে ব্রেস্টফিডিং কর্নার রাখার বিষয়ে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের অধিকাংশ হাসপাতাল, কিছু কিছু সরকারি অফিস, ব্যাংক, শপিং মলগুলোতে এরকম কর্নার আছেও। কিন্তু সেগুলো যে আছে, সেই তথ্যই অধিকাংশ মায়ের কাছে থাকে না। এরকম কোনো ব্যবস্থা আছে কিনা তা কাউকে জিজ্ঞেস করতেও লজ্জা পান। ফলে বাইরে বের হলে হয় বাবুকে নিয়েই আসেন না বা আনলেও খাওয়াতে পারেন না।
ভবনগুলোর ডিজিটাল বোর্ডে যদি লেখা ভাসত যে, ‘এখানে অমুক তলার অমুক দিকে ব্রেস্টফিডিং কর্নার আছে, আপনারা আপনাদের সন্তানকে দুধ খাওয়াতে পারেন’ অথবা যারা পড়তে পারেন না তাদের জন্য সাইন দেওয়া থাকত, তাহলে কিন্তু মায়েরা তাদের সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে আসতেন এবং খাওয়াতেন। এই কর্নারগুলো অধিকাংশ সময়ই ফাঁকাই থাকে। ব্যবহার কম হওয়ায় রুমগুলো অপরিষ্কার থাকে, বাচ্চাকে খাওয়ানোর মতো উপযুক্ত পরিবেশ থাকে না।
অন্যদিকে যেহেতু ফাঁকা থাকে, তাই যে প্রতিষ্ঠানে এরকম কর্নার নেই তারাও করতে আগ্রহী হয় না। ফলে মায়েরা কোনো কারণে বাড়ির বাইরে গেলে লম্বা সময় ধরে তার সন্তানকে খাওয়াতে পারেন না। এছাড়া অল্প বয়সে বাচ্চা নেওয়া, সি-সেকশনের পর পর্যাপ্ত সেবা না পাওয়া, ঘন ঘন বাচ্চা নেওয়া, মায়ের অপুষ্টি, মাতৃকালীন সময়ে বিভিন্ন ধরনের খাবারের পুষ্টি ও গুণাগুণ নিয়ে মা ও তার পরিবারের অসচেতনতা প্রভৃতি বিষয়গুলোও শিশুর পর্যাপ্ত মায়ের দুধ না পাওয়ার অন্যতম কারণ।
এই লেখার শিরোনামে সামাজিক সুস্থতার কথা বলেছি। আসলে একটা মায়ের জন্য উপরের সবগুলো বিষয় নিশ্চিত করা আমাদের সমাজের দায়িত্ব। আর মানুষ যখন যেখানে থাকে সেটাই সেই সময়ের জন্য তার সমাজ। তার চারপাশে যারা থাকেন তারা সমাজের লোক। একটি মায়ের চাহিদা অনুযায়ী উপরের সবগুলোর ব্যবস্থা করাই মা ও তার সন্তানের জন্য সামাজিক সুস্থতা।
শিশুদের পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধ নিশ্চিত করা কেবল একজন মায়ের ব্যক্তিগত দায়িত্ব বা স্বাস্থ্য খাতের বিষয় নয়; এটি একটি গভীর সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা। সরকারি-বেসরকারি সকল কর্মক্ষেত্রে মাতৃকালীন ছুটি সুনির্দিষ্ট ও বাধ্যতামূলক করা, পর্যাপ্ত ও ব্যয়সাশ্রয়ী ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন এবং পাবলিক প্লেসগুলোতে ব্রেস্টফিডিং কর্নারের কার্যকর প্রচার ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
২০৩০ সালের মধ্যে ৬০ শতাংশ শিশুকে পর্যাপ্ত মায়ের দুধ খাওয়ানোর জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি নীতিগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন প্রয়োজন। সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি ও জনস্বাস্থ্যের বাস্তবতা প্রমাণ করে যে, সামাজিক নিরাপত্তা, সঠিক সচেতনতা এবং মা-বান্ধব কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমেই শিশুর নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও একটি সুস্থ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠন সম্ভব।
লেখক পরিচিতি
আব্দুল জব্বার তপু ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অফ পাবলিক হেলথ’-এ একজন ডেপুটি প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করছেন। পাবলিক হেলথ বা জনস্বাস্থ্যে তার ১০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি মূলত গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়ন, গুণগত গবেষণা প্রশিক্ষণ, গবেষণা ভিত্তিক প্রবন্ধ ও মতামত লেখালেখিতে পারদর্শী।
বর্তমানে তিনি ‘কিশোরীদের মাসিক স্বাস্থ্য ও অভিজ্ঞতা বিয়য়ক কোহর্ট স্টাডি’ শিরোনামের স্কুলভিত্তিক একটা গবেষণার প্রকল্প সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি শিশু স্বাস্থ্য, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, জেন্ডার তথা লিঙ্গভিত্তিক বিভিন্ন সামাজিক গবেষণা প্রকল্পের সাথে যুক্ত ছিলেন।
তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে এমএসএস সম্পন্ন করেছেন। পেশাগত পরিচয়ে তিনি একাধারে একজন জনস্বাস্থ্য গবেষক এবং নাট্যকর্মী। তার গবেষণার মূল আগ্রহের জায়গাগুলো হলো—কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য শিক্ষা, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (এসআরএইচআর), এবং জনস্বাস্থ্য চর্চায় শিল্প ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন। তিনি সাম্য ও সমতাভিত্তিক সমাজে বিশ্বাস করেন।






