বিদেশে উচ্চশিক্ষা: বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত এবং শ্রীলঙ্কায় IIT-এর ভূমিকা

বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত জনবহুল দেশ। এ দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর শিক্ষা, দক্ষতা ও ক্যারিয়ারের সাফল্যের ওপর আমাদের জাতীয় অগ্রগতি নির্ভর করে। তাদের ভবিষ্যতের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো, কীভাবে এই বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে সুনাগরিক, সুশিক্ষিত, দক্ষ ও সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা যায়।
আমরা যদি আমাদের বর্তমান প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে না পারি, তাদের কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তৈরি করতে না পারি, তাহলে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধশালী ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা কঠিন হবে। শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যতে যারা তরুণ হয়ে উঠবে, তাদের জন্যও আমাদের এখন থেকেই একটি কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা ও উন্নত ভবিষ্যতের পথ তৈরি করতে হবে।
আমি মনে করি, আমাদের তরুণদের আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ব্যবসায় প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্বের যেসব দেশ জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে এগিয়ে রয়েছে; সেটি ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া কিংবা এশিয়ার কোনো উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার দেশ হোক; আমাদের শিক্ষার্থীদের সেসব দেশের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ নিতে হবে।
আমরা কেন আমাদের সন্তানদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার সুযোগ থেকে দূরে রাখব? বরং আমাদের উচিত তাদের সামনে সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়া, যাতে তারা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিশ্বের যেকোনো জায়গায় শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, দক্ষতা অর্জন করতে পারে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা কি ব্রেইন ড্রেইন, নাকি বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনা?
আমাদের দেশে প্রায়ই একটি কথা বলা হয়; বিদেশে শিক্ষার্থী পাঠালে ব্রেইন ড্রেইন হয়, অর্থাৎ দেশের মেধাবী তরুণেরা দেশ ছেড়ে চলে যায় এবং দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, বিষয়টিকে এভাবে একপেশেভাবে দেখার সুযোগ নেই। বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করাকে শুধু মেধা হারানোর দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হলে এর বহুমাত্রিক সুফলগুলো উপেক্ষিত থেকে যায়।
আমরা যদি চীন, ভারত ও নেপালের মতো দেশগুলোর দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাব যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার সুযোগ গ্রহণ এবং নিজেদের নাগরিকদের বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। বিদেশে পড়াশোনা করে একজন শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান, দক্ষতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও যোগাযোগ তৈরি করতে পারেন। তিনি বিদেশে কর্মজীবন গড়ে তুলতে পারেন, দেশে ফিরে নিজের অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগাতে পারেন কিংবা বিদেশে অবস্থান করেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন।
বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের পাঠানো অর্থ, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ, প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়, বিনিয়োগের সুযোগ এবং বৈশ্বিক পেশাগত নেটওয়ার্ক-সবকিছুই একটি দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। একজন শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে সেখানে সফল হলে তাঁর পরিবার উপকৃত হতে পারে, দেশের সঙ্গে তাঁর অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে তাঁর মাধ্যমে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া নয়; বরং বিশ্বমানের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করে নিজের এবং দেশের জন্য সম্ভাবনার পরিসর বাড়ানো। কেউ দেশে ফিরে এসে কাজ করবেন, কেউ বিদেশে থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সফল হবেন, আবার কেউ দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, ব্যবসা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সেতুবন্ধ তৈরি করবেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ইতিবাচক অবদানের সুযোগ রয়েছে।
তাই আমি মনে করি, আমাদের তরুণদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে উৎসাহিত করা উচিত। তাদের সামনে সঠিক তথ্য, মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাস্তবসম্মত আর্থিক পরিকল্পনা এবং নিরাপদ ও বৈধ শিক্ষাপথ তুলে ধরতে হবে। বিদেশে যাওয়া যেন কেবল সামর্থ্যবান কয়েকটি পরিবারের সুযোগ না হয়; বরং যোগ্যতা, প্রস্তুতি ও সামর্থ্য অনুযায়ী আরও বেশি শিক্ষার্থীর জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষা গ্রহণের পথ উন্মুক্ত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সামনে বর্তমান চ্যালেঞ্জ
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য আবেদন করেছে এবং বিভিন্ন দেশে গিয়ে পড়াশোনা ও কর্মজীবনে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বর্তমানে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার পথে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা যাচ্ছে।
একদিকে বিভিন্ন দেশের অভিবাসননীতি ও শিক্ষার্থী ভিসার শর্ত পরিবর্তিত হচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কর্মসংস্থানের চাপ, বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিষয়ে জনমত এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি-এসব বিষয়ও বিদেশে পড়তে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে অনেক শিক্ষার্থীর জন্য কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া এবং ভর্তি হওয়ার পরও ভিসা পাওয়া একটি অনিশ্চিত প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমি মনে করি, এই পরিস্থিতিতে আমাদের হতাশ হয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। বরং বিকল্প শিক্ষাপথ খুঁজে বের করতে হবে। আমাদের দেখতে হবে, কীভাবে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক সাশ্রয়ী ব্যয়ে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া কিংবা অন্য কোনো দেশে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
সঠিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বীকৃত যোগ্যতা, ভালো একাডেমিক ফলাফল এবং যথাযথ প্রস্তুতি শিক্ষার্থীদের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় আমি শিক্ষার্থীদের সবসময় বলেছি, তোমরা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ খুঁজবে, আধুনিক জ্ঞান অর্জন করবে এবং নিজেদের দক্ষতা বাড়াবে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আমি মনে করি, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প আন্তর্জাতিক শিক্ষাপথ সম্পর্কে জানা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিকল্প শিক্ষাপথ হিসেবে পাথওয়ে প্রোগ্রাম
আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হলো পাথওয়ে প্রোগ্রাম। সহজ ভাষায়, পাথওয়ে প্রোগ্রাম এমন একটি শিক্ষাপথ, যার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট প্রস্তুতিমূলক বা প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা সম্পন্ন করে পরবর্তী সময়ে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন।
উদাহরণস্বরূপ, কোনো শিক্ষার্থী তাঁর পূর্ববর্তী শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী সরাসরি বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন না করলে তিনি প্রথমে একটি উপযুক্ত ফাউন্ডেশন প্রোগ্রাম সম্পন্ন করতে পারেন। আবার কোনো শিক্ষার্থী অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিত শিক্ষাক্রমে পড়াশোনা করে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পরবর্তী পর্যায়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
এ ধরনের প্রোগ্রামের সুবিধা হলো, শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক সাশ্রয়ী পরিবেশে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন এবং পরবর্তী ধাপের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারেন। তবে প্রতিটি প্রোগ্রামের ভর্তি-যোগ্যতা, ক্রেডিট ট্রান্সফারের শর্ত, ডিগ্রি প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যয় এবং ভিসাসংক্রান্ত নিয়ম আলাদাভাবে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
আমার মতে, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এমন বিকল্পগুলো আরও বেশি পরিচিত করা প্রয়োজন। আর এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কা একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
শ্রীলঙ্কা: আমাদের কাছের একটি সম্ভাবনাময় শিক্ষাগন্তব্য
গত এক থেকে দুই বছরে আমি চারবার শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছি। সেখানে গিয়ে দেশটির শিক্ষা, পরিবেশ, অবকাঠামো এবং মানুষের আচরণ সম্পর্কে কাছ থেকে জানার সুযোগ হয়েছে। সত্যি বলতে, শ্রীলঙ্কা সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা অত্যন্ত ইতিবাচক।
আমাদের কাছাকাছি অবস্থিত এই দেশটি সম্পর্কে বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থীর ধারণা সীমিত। অথচ সেখানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। দেশটির পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সুশৃঙ্খল যোগাযোগব্যবস্থা, উন্নত মানের আবাসনসুবিধা এবং মানুষের ভদ্র ও আন্তরিক আচরণ আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায়, কিছু জায়গার পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা দেখে মনে হয়েছে, আমি যেন ইউরোপের কোনো দেশে এসেছি।
আমি যখন Canadian University of Bangladesh-এর ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি, তখন শ্রীলঙ্কার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও সমঝোতা স্মারক (MoU) সম্পাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এসব অভিজ্ঞতা থেকে আমি বুঝতে পেরেছি, আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কাকে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সামনে আরও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা প্রয়োজন।
শ্রীলঙ্কা আমাদের কাছের দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য সেখানে যাতায়াত, নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং পরিবার থেকে তুলনামূলক কাছাকাছি থাকার কিছু সুবিধা থাকতে পারে। অবশ্যই শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের খরচ, আবাসন, নিরাপত্তা, শিক্ষার মান ও অন্যান্য বাস্তব বিষয় যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আমার মূল বক্তব্য হলো, বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বলতে আমাদের শুধু যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা বা অস্ট্রেলিয়াকেই বোঝা উচিত নয়। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণের জন্য এমন কিছু বিকল্প শিক্ষাগন্তব্যও রয়েছে, যেগুলো সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেলে আমাদের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হতে পারে। শ্রীলঙ্কা তেমনই একটি সম্ভাবনাময় দেশ।
IIT Sri Lanka: আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার একটি সম্ভাবনাময় প্রবেশদ্বার
শ্রীলঙ্কার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে Informatics Institute of Technology (IIT), Sri Lanka আমার বিশেষভাবে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠান। ১৯৯০ সালে কলম্বোতে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যবসায় শিক্ষার ক্ষেত্রে কাজ করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, ব্যবহারিক দক্ষতা এবং পেশাগত জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনে সহায়তা করা।
IIT-এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাজ্যের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একাডেমিক সহযোগিতার ভিত্তিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির ব্রোশিওর অনুযায়ী, এর একাডেমিক অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে University of Westminster, Robert Gordon University এবং University of Hertfordshire। এসব সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করেই যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্ধারিত শিক্ষাক্রমে পড়াশোনা করার সুযোগ পেতে পারে। তবে কোন প্রোগ্রামে কোন বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি প্রদান করবে, তা সংশ্লিষ্ট কোর্সের তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
IIT-এর শিক্ষাব্যবস্থায় কম্পিউটিং, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স, ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসায়িক বিশ্লেষণের মতো আধুনিক ও চাহিদাসম্পন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির School of Computing এবং Business School-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি ও ব্যবসায় শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেতে পারে।
এখানে তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা, প্রকল্পভিত্তিক কাজ, ইন্টার্নশিপ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির ব্রোশিওরে পাঁচ হাজারেরও বেশি প্রাক্তন শিক্ষার্থীর একটি নেটওয়ার্কের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা এর দীর্ঘদিনের শিক্ষাকার্যক্রম ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিস্তৃত পরিসরের পরিচায়ক।
IIT-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর International Foundation Programme। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রোগ্রামটি উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিমূলক একটি কার্যক্রম, যেখানে IT, Business, Communication এবং Study Skills-এর মতো বিষয়ে ভিত্তি গড়ে তোলা হয়। প্রোগ্রামটি যুক্তরাজ্যের Ofqual-নিয়ন্ত্রিত যোগ্যতার কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত এবং NQual-এর মাধ্যমে প্রদান করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের পরবর্তী পর্যায়ের উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুত করা।
আমার মতে, বাংলাদেশের যেসব শিক্ষার্থী সরাসরি যুক্তরাজ্য বা অন্য কোনো পশ্চিমা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক, একাডেমিক কিংবা অন্যান্য বাধার মুখোমুখি হচ্ছে, তাদের জন্য এ ধরনের ফাউন্ডেশন ও পাথওয়ে প্রোগ্রাম বিবেচনা করার মতো একটি বিকল্প হতে পারে।
শ্রীলঙ্কা থেকে যুক্তরাজ্য বা অন্য দেশে যাওয়ার সম্ভাবনা
IIT Sri Lanka-তে আমার সফরের সময় কয়েকজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল, যিনি সেখানে পড়াশোনা করে পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে আমি বুঝতে পারি, সঠিক শিক্ষাপথ নির্বাচন করলে শ্রীলঙ্কায় পড়াশোনা একজন শিক্ষার্থীর আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, কোনো শিক্ষার্থী তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী প্রথমে ফাউন্ডেশন প্রোগ্রাম সম্পন্ন করে পরবর্তী সময়ে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা শুরু করতে পারেন। আবার নির্দিষ্ট কোনো প্রোগ্রামে প্রথম পর্যায়ের পড়াশোনা শেষ করার পর সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রেডিট ট্রান্সফার নীতিমালা অনুযায়ী অন্য দেশে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগও থাকতে পারে।
তবে এই সুযোগ সবার জন্য একই রকম নয়। শিক্ষার্থীর পূর্ববর্তী যোগ্যতা, নির্বাচিত কোর্স, একাডেমিক ফলাফল, ক্রেডিট স্বীকৃতি, সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-শর্ত এবং ভিসার নিয়মের ওপর পরবর্তী গন্তব্যে যাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে। তাই ভর্তি হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সব শর্ত লিখিতভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
আমার কাছে বিষয়টির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, একজন শিক্ষার্থীকে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণের জন্য সব সময় সবচেয়ে ব্যয়বহুল গন্তব্য থেকেই যাত্রা শুরু করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। তিনি শ্রীলঙ্কার মতো একটি দেশে উপযুক্ত শিক্ষাপ্রোগ্রামে ভর্তি হয়ে নিজের একাডেমিক ভিত্তি শক্ত করতে পারেন। পরবর্তী সময়ে সুযোগ ও যোগ্যতা অনুযায়ী যুক্তরাজ্য কিংবা অন্য কোনো দেশে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে পারেন।
একই সঙ্গে কেউ চাইলে শ্রীলঙ্কায় অবস্থান করেই সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক অংশীদার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রমে পড়াশোনা করে ডিগ্রি অর্জনের পথও বিবেচনা করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ডিগ্রি প্রদানকারী বিশ্ববিদ্যালয়, প্রোগ্রামের স্বীকৃতি, শিক্ষার পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট যোগ্যতার শর্ত সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
খরচের দিক থেকেও হতে পারে একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প
বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অধিকাংশ পরিবারের জন্য ব্যয় একটি বড় বিবেচ্য বিষয়। যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া কিংবা অন্যান্য পশ্চিমা দেশে পড়াশোনা করতে গেলে টিউশন ফি, আবাসন, যাতায়াত, স্বাস্থ্যবিমা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য অর্থের প্রয়োজন হতে পারে।
অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কায় পড়াশোনার ব্যয় এবং জীবনযাত্রার খরচ তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হতে পারে-যদিও তা প্রতিষ্ঠান, প্রোগ্রাম ও শিক্ষার্থীর জীবনযাত্রার ধরনের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে শ্রীলঙ্কায় পড়াশোনা করে আন্তর্জাতিক ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ কিংবা পরবর্তী সময়ে অন্য দেশে যাওয়ার শিক্ষাপথ কোনো কোনো পরিবারের জন্য আর্থিকভাবে বিবেচনাযোগ্য হতে পারে।
আমি যখন শিক্ষার্থীদের এই বিকল্পের কথা বলি, তখন আমার উদ্দেশ্য শুধু একটি দেশের নাম তুলে ধরা নয়; বরং তাদের সামনে বাস্তবসম্মত বিকল্প তৈরি করা। একজন শিক্ষার্থী যেন নিজের পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য, একাডেমিক যোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এখানে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, শুধু প্রাথমিক টিউশন ফি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। সম্পূর্ণ কোর্সের ব্যয়, আবাসন, অন্যান্য ফি, ডিগ্রির স্বীকৃতি এবং পরবর্তী পর্যায়ে অন্য দেশে যাওয়ার সম্ভাব্য খরচ বিবেচনা করতে হবে। কোনো প্রোগ্রামের ক্রেডিট ট্রান্সফার বা ভিসার সুযোগ সম্পর্কে মৌখিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর না করে লিখিত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
শ্রীলঙ্কা থেকে শিক্ষার্থীদের আরও অনেক কিছু শেখার আছে
শ্রীলঙ্কাকে আমি শুধু উচ্চশিক্ষার একটি গন্তব্য হিসেবে দেখি না; বরং আমাদের তরুণদের জন্য একটি নতুন পরিবেশে শেখার সুযোগ হিসেবেও দেখি। আমার সফরে দেশটির পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা, মানুষের আচরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ সম্পর্কে যে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা আমাকে আশাবাদী করেছে।
বিদেশে পড়াশোনা করার অর্থ শুধু একটি ডিগ্রি অর্জন করা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নতুন সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা, ভিন্ন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া, স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে শেখা, বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে কাজ করা এবং নিজের দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও বিস্তৃত করা। এসব অভিজ্ঞতা একজন শিক্ষার্থীকে শুধু ভালো পেশাজীবী নয়, একজন দায়িত্বশীল ও আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবেও গড়ে তুলতে পারে।
আমাদের শিক্ষার্থীরা শ্রীলঙ্কার মতো একটি দেশে পড়াশোনা করতে গেলে আন্তর্জাতিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে। তারা চাইলে পরবর্তী সময়ে অন্য দেশে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে পারে, আবার উপযুক্ত সুযোগ থাকলে সেখানেই নিজেদের পেশাগত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পথ বিবেচনা করতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের আইন, ভিসার শর্ত এবং কর্মসংস্থানের নিয়ম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা আবশ্যক।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আমার পরামর্শ
আমি দীর্ঘ প্রায় ২৪ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতায় সবসময় একটি কথাই বলেছি-তোমরা আধুনিক শিক্ষা গ্রহণ করো, নিজেদের দক্ষতা বাড়াও এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলো। তোমাদের সামনে যত বেশি বৈধ ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ থাকবে, ভবিষ্যতে তত বেশি পথ খোলা থাকবে।
আমাদের উচিত নয়, বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের বিষয়টিকে অযথা নেতিবাচকভাবে দেখা। বরং আমাদের উচিত শিক্ষার্থীদের সঠিক তথ্য দেওয়া, মানসম্মত প্রতিষ্ঠান চিনতে সাহায্য করা এবং তাদের সামনে বাস্তবসম্মত বিকল্প তুলে ধরা। একই সঙ্গে তাদের সতর্ক করতে হবে, যেন তারা অস্বীকৃত প্রতিষ্ঠান, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা কিংবা নিশ্চিত ভিসা ও চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে না পড়ে।
বিশেষ করে যারা যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া বা অন্য কোনো দেশে পড়াশোনা করতে আগ্রহী, কিন্তু সরাসরি যাওয়ার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হচ্ছে, তারা শ্রীলঙ্কার IIT-এর মতো প্রতিষ্ঠানের ফাউন্ডেশন ও আন্তর্জাতিক পাথওয়ে প্রোগ্রাম সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারে। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী কোন প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া যাবে, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং মোট খরচ কত হবে-এসব তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আমার বিশ্বাস, আমাদের শিক্ষার্থীদের সামনে সঠিক বিকল্প তুলে ধরতে পারলে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আরও সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। আর তাদের সাফল্য শুধু তাদের নিজেদের বা পরিবারের সাফল্য হবে না; এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি, দক্ষ মানবসম্পদ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগও উপকৃত হতে পারে।
শেষ কথা: শ্রীলঙ্কা হতে পারে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার একটি ট্রানজিট পয়েন্ট
বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন। আমরা চাই তারা ভালোভাবে পড়াশোনা করুক, আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠুক, নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলুক এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে অবদান রাখুক। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমাদের প্রচলিত শিক্ষাপথের পাশাপাশি বিকল্প আন্তর্জাতিক শিক্ষাপথগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও IIT Sri Lanka-এর সঙ্গে পরিচয়ের ভিত্তিতে আমি মনে করি, শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় শিক্ষাগন্তব্য হতে পারে। বিশেষ করে IIT-এর মতো প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত ফাউন্ডেশন, কম্পিউটিং ও ব্যবসায় শিক্ষার প্রোগ্রামগুলো সম্পর্কে আমাদের শিক্ষার্থীদের আরও বেশি জানা প্রয়োজন।
শ্রীলঙ্কায় পড়াশোনা করে কেউ সেখানে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সুযোগ নিতে পারে, আবার নির্ধারিত একাডেমিক ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে পারলে পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য কিংবা অন্য কোনো দেশে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগও বিবেচনা করতে পারে। সে অর্থে, শ্রীলঙ্কা আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত বিশ্বের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের একটি সম্ভাবনাময় ট্রানজিট পয়েন্ট বা মধ্যবর্তী শিক্ষাগন্তব্য হতে পারে।
আমি এই লেখার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সামনে সেই সম্ভাবনাটি তুলে ধরতে চেয়েছি। ভবিষ্যতে আমি অন্যান্য দেশ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ সম্পর্কেও আলোচনা করতে চাই, যাতে আমাদের তরুণেরা আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন পথ সম্পর্কে জানতে পারে এবং নিজেদের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার তরুণ প্রজন্ম। তাদের সামনে জ্ঞানের দরজা যত বেশি উন্মুক্ত হবে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তত বেশি সম্ভাবনাময় হবে। তাই আসুন, আমরা আমাদের তরুণদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণে উৎসাহিত করি, তাদের সামনে সঠিক তথ্য ও বাস্তবসম্মত বিকল্প তুলে ধরি এবং তাদের জন্য একটি আধুনিক, সমৃদ্ধশালী ও বিশ্বমানের বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ সুগম করি।
লেখক পরিচিতি: ড. এইচ. এম. জহিরুল হক
ভিপি (একাডেমিক)
ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ব্রাঞ্চ ক্যাম্পাস

