যাদের ডিএনএতে বাকশাল রয়েছে, তারা কখনও শোধরাবে না: রিজভী

যাদের রক্ত ও ডিএনএতে বাকশাল রয়েছে, তারা কখনও শোধরাবে না মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ছাত্র-জনতার মহিমান্বিত আত্মদানের মধ্য দিয়ে যে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে, সেই পরাজিত ও পলাতক শক্তি আর কখনও এই দেশের মাটিতে ফিরে আসার সুযোগ পাবে না।
শনিবার (৮ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি অডিটরিয়ামে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী আক্রমণে ৭ নভেম্বর সরকারিভাবে পালন করতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন সংগঠন এটি পালন করেছে, ফলে এই দিবসের অন্তর্নিহিত চেতনা ও তাৎপর্য কখনও মুছে যায়নি। ৭ নভেম্বর কেবল বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত করেনি, বরং এটি বাংলাদেশকে বিদেশি প্রভাবমুক্ত নিজস্ব পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নীতি প্রণয়নের শক্তি জুগিয়েছিল।
তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর তৎকালীন সরকার বাকশাল কায়েম করে মানুষের কথা বলার অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই অদৃশ্য হয়ে যেতে হতো কিংবা রক্ষীবাহিনীর হাতে প্রাণ দিতে হতো। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লব দেশকে সেই ভয় ও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করেছিল।
সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ও জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরে রিজভী বলেন, তৎকালীন সময়ে কর্নেল তাহেরসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী সেনাবাহিনীকে পলিটিক্যালাইজ বা রাজনীতিকরণ করে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের অপচেষ্টা করেছিল। কিন্তু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একটি আধুনিক, চৌকস ও পেশাদার সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে কাজ করেছেন। তিনি কোনো কাউন্টার ফোর্স তৈরি না করে একটি শক্তিশালী সার্বভৌম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছিলেন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, যাদের রক্ত ও ডিএনএতে বাকশাল রয়েছে, তারা কখনও শোধরাবে না। তারা মনে করছে উড়ে এসে জুড়ে বসবে আর জনগণ অভ্যর্থনা জানাবে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওয়াসিম আকরাম ও ফাইনাজদের বুক চিতিয়ে দেওয়া রক্ত আর মহাকাব্যিক আত্মদান কখনও বৃথা যেতে পারে না। বীরের এই মাটিতে পলাতক ও ভীত সিংহ-শৃগালের মতো পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্থান আর হবে না।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে দেশ আজ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ৭ নভেম্বরের দিকদর্শন ভবিষ্যতেও দেশকে যে কোনো সংকট থেকে মুক্ত রেখে সঠিক রাজনৈতিক ধারা উপহার দেবে।
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, সহসভাপতি কাজী জিয়াউদ্দিন বাসিত, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কে এম মাহমুদ হাসান ও শাহরিয়ার হোসেনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।

