ধর্মকে ব্যবহার করে বিভেদ সৃষ্টিকারী দেশ ও জাতির শত্রু: মজিবুর রহমান মঞ্জু

আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ধর্মকে ব্যবহার করে যারা বিভেদ সৃষ্টি করে, তারা দেশ ও জাতির শত্রু। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি কিংবা উত্তেজনা সৃষ্টির মতো কর্মকাণ্ডে কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির উৎসাহ দেওয়া উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল, সংবেদনশীল ও সহিষ্ণু আচরণ করতে হবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে পূজার অনুষ্ঠান মঞ্চে বক্তব্যের সময় এসব কথা বলেন তিনি।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে এক শ্রেণির মানুষ হিংসা-বিদ্বেষ ও বিভেদ ছড়ানোর চেষ্টা করে। অথচ কোনো ধর্মই মানুষকে হিংসা, হানাহানি কিংবা অন্যকে হেয় করতে শেখায় না। ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন নয়, সৎ কর্মের ভিত্তিতে ঐক্য ও রাষ্ট্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমরা যে যার ধর্মের অনুসারী হই না কেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার অধিকার সমান ও অভিন্ন। প্রকৃত ধার্মিক ব্যক্তি কখনো হিংসা-হানাহানি কিংবা অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করাকে সমর্থন করতে পারেন না।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন এবি পার্টির নীতি হলো; ‘ধর্ম যার, উৎসব তার; কিন্তু রাষ্ট্র সবার’ এই মূল্যবোধ ধারণ করে সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি বাসুদেব ধর এবি পার্টির শুভেচ্ছার প্রত্যুত্তরে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি নেতৃবৃন্দের সাফল্য কামনা করেন। পরে এবি পার্টির প্রতিনিধিদল ঢাকেশ্বরী মন্দিরের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এসময় গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত রায় চৌধুরী, পূজা উদ্যাপন কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি সম্পাদক তাপসী ঘোষ, প্রচার সম্পাদক বিণয় কুমার ঘোষ, অ্যাডভোকেট পিন্টু কুমার উপস্থিত ছিলেন।
মণ্ডপ পরিদর্শনকালে এবি পার্টির নেতৃবৃন্দ পূজা দেখতে আসা বাংলাদেশস্থ ভারতীয় দূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন বাঢ়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন।
এবি পার্টির নেতৃবৃন্দের মধ্যে প্রতিনিধিদলে ছিলেন কেন্দ্রীয় শ্রম সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার, মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, রিপন মাহমুদ, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু, জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক সহসম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী, মো. ইব্রাহীম, মো. মাজহারুল ইসলাম ও মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।
