বিদ্যুৎ সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি বলে মনে হচ্ছে: রিজভী

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী প্রশ্ন রেখে বলেছেন, দেশের বিদ্যুৎ খাতে একের পর এক কারিগরি ত্রুটি ও বিভিন্ন ঘটনার কারণে মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে কি না।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ১২ দলীয় জোট আয়োজিত ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘যেখান থেকে বিদ্যুৎটা আসে সেটা ভারতের একটি রাজ্য ঝাড়খন্ড। সেখানে কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। সেটার একটা ইউনিট নষ্ট। সেখান থেকে যে বিদ্যুৎ আসে, সেটার সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এখন আমার কাছে একটা জিনিস মনে হয়, এটায় কোনো ঘটনা আছে কি না, একটা রহস্য আছে কি না, কোনো নাশকতা হচ্ছে কি না?’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘কেন এখন একটার পর একটা কারিগরি ত্রুটি হচ্ছে, কোথাও একটা ইউনিট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—মানুষের মনে এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকার চেষ্টা করেছে যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সরকারের কাছ থেকে যে টাকা পায়, সে টাকা পরিশোধের ক্ষেত্রে সচেষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে ভারতের সঙ্গে যে চুক্তি আছে, সেখানে তাদের যে পাওনা সেটাও সরকার দিচ্ছে। তাহলে এটা কেন হচ্ছে?’
রিজভী বলেন, ‘দেশ যে পরিস্থিতির মধ্যে আছে, সেটা একটা সংকট এবং সে সংকটটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। কোথাও কোনো কনস্পিরেসি হচ্ছে বলে আমার কাছে কেন জানি মনে হচ্ছে।’
সামাজিক সুরক্ষার বিভিন্ন কর্মসূচি ও কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক, অসহায় ও দরিদ্র মানুষ উপকৃত হচ্ছেন বলে জানান তিনি। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রবাসী কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করার জন্য কোনো ধরনের চক্রান্ত হচ্ছে কি না, সেটিও ভাবিয়ে তুলছে।’
নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল হঠাৎ উঁকি মারার চেষ্টা করছে। কিন্তু করছে কীভাবে? এখানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কী করছে? তারা মানুষ জড়ো করল এতগুলো, তো গোয়েন্দা সংস্থা জানে।’
তিনি আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল। কিন্তু তারা যে কর্মকাণ্ডটি করল, যে রক্তপিপাসু আচরণ করল—প্রাইমারি স্কুল, হাইস্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটির ছেলেদের এবং রিকশাওয়ালা, শ্রমিক, সাধারণ মানুষকে দিনে-দুপুরে হত্যা করল।’
রিজভী বলেন, ‘তারা যদি সেই মূর্তিতে সমহিমায় তাদের যে দুশ্চরিত্রের চেহারা, সেটা নিয়েই যদি প্রত্যাবর্তন করতে চায়, তারা যদি ফিরে আসতে চায়, তাহলে এ দেশের কী পরিণতি হবে?’
স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘এই যে ছাত্রনেতারা, এই যে শিশু-বাচ্চারা আন্দোলন করে রাস্তায় নেমেছে—একদিকে স্কুলের ব্যাগ, আরেক ঘাড়ে টিফিনের বাক্স, সেই অবস্থায় সাদা শার্ট, স্কুল ড্রেসে গুলি খাচ্ছে। সেই সাদা শার্ট রক্তে লাল হয়ে উঠছে। আমরা কি সব ভুলে গেছি?’
ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, আমাদের সজাগ থাকতে হবে—ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়।’
জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামসহ অনেকে।


