logo

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন/উত্তরে মিল্টন-তাবিথ, দক্ষিণে সালাম-ইশরাক-সোহেলকে ঘিরে বাড়ছে সমীকরণ

উত্তরে মিল্টন-তাবিথ, দক্ষিণে সালাম-ইশরাক-সোহেলকে ঘিরে বাড়ছে সমীকরণ
ওপরে বাঁ থেকে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, তাবিথ আউয়াল এবং নিচে বাঁ থেকে আব্দুস সালাম, ইশরাক হোসেন ও হাবিব উন নবী খান সোহেল। কোলাজ ছবি: এশিয়া পোস্ট

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তপশিল এখনও ঘোষণা হয়নি। তবে মেয়র পদে বিএনপির মনোনয়ন নিশ্চিতের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আগ্রহীরা। ঢাকা উত্তরে আলোচনায় আছেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ও তাবিথ আউয়াল। দক্ষিণে আলোচনায় রয়েছেন আব্দুস সালাম, ইশরাক হোসেন ও হাবিব উন নবী খান সোহেল। আফরোজা আব্বাসও রয়েছেন এই তালিকায়।

একদিকে একই সিটিতে তৎপরতা চালাচ্ছেন বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী। অন্যদিকে দ্রুত নির্বাচনের তাগিদ দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলো। ইতিমধ্যেই নিজেদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সবুজ সংকেতও দিয়েছে জামায়াত ও এনসিপি। এমন বাস্তবতায় ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনি সমীকরণ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।

তপশিলের অপেক্ষায় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা

ঢাকার দুই সিটিতে বিএনপির দুই নেতাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তবে মেয়র পদে প্রার্থী হতে আগে থেকেই মাঠে সক্রিয় অনেকে। দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিতে নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তারা।

সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল দ্রুত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তাগিদ দিচ্ছে। সরকারি সূত্র বলছে, এ ক্ষেত্রে ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে আগে ভোটগ্রহণ হতে পারে।

মেয়র প্রার্থী কবে নাগাদ ঘোষণা করা হতে পারে? এমন প্রশ্নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর আগে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকা স্বাভাবিক। সম্ভাব্য প্রার্থীদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। তপশিল ঘোষণার পর প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।’

যা ভাবছে বিএনপি

বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটিতে প্রার্থী বাছাইয়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এমন নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

দলের হাইকমান্ডের মতে, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন কেবল মেয়র পদ দখলের লড়াই নয়। এটি রাজধানীর রাজনীতিতে দলের শক্তি প্রদর্শনেরও বড় সুযোগ। তাই প্রার্থী বাছাইয়ে সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা, স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক, সাংগঠনিক দক্ষতা, ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মোকাবিলার সক্ষমতা; সবকিছু বিবেচনায় নেওয়া হবে। বিশেষ করে যিনি জয়ী হয়ে আসতে পারবেন, এমন মনোনয়নপ্রত্যাশীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’

ঢাকা উত্তরে মিল্টন ও তাবিথ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) বর্তমান প্রশাসক ও যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে ঘিরে আলোচনা চলছে। তিনি যুবদলের সহসভাপতি। এর আগে যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। তবে ভোটে পরাজিত হন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি ফুটপাত পরিদর্শনের সময় মিল্টনের কাজের প্রশংসা করেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপনির্বাচনে গত নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পান তাবিথ আউয়াল। এবারও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন তিনি।

ঢাকা দক্ষিণে সালাম, ইশরাক, সোহেল, আফরোজা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে আব্দুস সালাম, ইশরাক হোসেন, হাবিব উন নবী খান সোহেল ও আফরোজা আব্বাসের নাম।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বর্তমানে ডিএসসিসির প্রশাসক। এর আগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের প্রধান নির্বাচনি এজেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। আসন্ন সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে ইতিমধ্যেই নিজের আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছেন। তবে প্রশাসক হিসেবে তার কিছু বিষয়ে দলের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ইশরাক হোসেন। বিগত সিটি নির্বাচনে তিনি মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। তার বাবা সাদেক হোসেন খোকা অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। পারিবারিক পরিচিতি ও স্থানীয় জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে এবারও আলোচনায় রয়েছেন ইশরাক।

হাবিব উন নবী খান সোহেল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সভাপতি। তার বিরুদ্ধে বিপুলসংখ্যক রাজনৈতিক মামলা রয়েছে। ত্যাগী নেতা হিসেবে তার বিষয়ে নেতাকর্মীদেরও আগ্রহ রয়েছে। তবে প্রার্থিতার বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে মনে করেন হাবিব উন নবী খান সোহেল।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস মহিলা দলের সভাপতি। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তাকে নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য ও একজন ভাইস চেয়ারম্যান এশিয়া পোস্টকে জানান, উত্তরে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের পাশাপাশি তাবিথ আউয়াল এবং দক্ষিণে আবদুস সালামের পাশাপাশি ইশরাক হোসেনকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে বিগত সময়ের প্রার্থী হিসেবে। তবে মনোনয়নের ক্ষেত্রে জনসম্পৃক্ততা পাশ কাটিয়ে পরিবারতন্ত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হলে তা দলের ভেতর হতাশা তৈরি করতে পারে।

জামায়াত ও এনসিপি ফ্যাক্ট

জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে নির্বাচন ত্রিমুখী হতে পারে। এমন বাস্তবতায় প্রার্থীরা শুধু দলীয় ভোটের ওপর নির্ভর করছেন না। তারা নগরীর তরুণ, নতুন ভোটার এবং দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকা ভোটারদের আকৃষ্ট করার কৌশল নিচ্ছেন।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনের ভোটের সমীকরণ আর সিটি নির্বাচনের সমীকরণ সম্পূর্ণ আলাদা। ওয়ার্ডভিত্তিক সাংগঠনিক শক্তি, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, স্থানীয় নাগরিক সমস্যা এবং প্রার্থীর ভাবমূর্তি এখানে বড় ভূমিকা রাখবে।