Advertisement

জামায়াতকে টেক্কা দিয়ে ‘প্রকৃত বিরোধী দল’ হওয়ার চেষ্টায় কয়েকটি দল

জামায়াতকে টেক্কা দিয়ে ‘প্রকৃত বিরোধী দল’ হওয়ার চেষ্টায় কয়েকটি দল
বাঁয়ে জামায়াত ইসলামীর লোগো, ডানে ওপর থেকে নাগরিক ঐক্য, সিপিবি, হেফাজতে ইসলাম ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের লোগো। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সংসদের বাইরে রাজপথে শক্তিশালী বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তাদের দাবি, জামায়াতে ইসলামী জনগণের স্বার্থে সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে না। তাদের কার্যক্রম প্রকৃত বিরোধী দলের মতো নয়।

এমন পরিস্থির সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে মধ্যপন্থি ও বাম ঘরানার কয়েকটি রাজনৈতিক দল। অন্যদিকে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোকে এক ছাতার নিচে এনে জামায়াতের বিকল্প ইসলামী মোর্চা গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। এই দুই ঘরানা পৃথক বিরোধী শক্তি গঠনের উদ্যোগ নিলেও তাদের মূল লক্ষ্য জামায়াতকে পেছনে ফেলা।

এশিয়া পোস্টের সঙ্গে আলাপকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী সংসদে কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের পরিবর্তে সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা সরকারকে কার্যকরভাবে চ্যালেঞ্জ না দিয়ে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ভূমিকা পালন করছে। এ অবস্থায় একটি কার্যকর বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

এসব দলের নেতারা বলছেন, সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত বা জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে কথা বলার মতো কার্যকর রাজনৈতিক শক্তি এখন নেই। অথচ একটি শক্তিশালী বিরোধী দলই সরকারকে জনগণের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ধরে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের আগে ১৭ বছর দলটি ক্ষমতায় ছিল। তখন রাজপথে প্রধান বিরোধী শক্তি ছিল বিএনপি।

এর আগে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় থেকে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা ও বিরোধিতা করেছে আওয়ামী লীগ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দীর্ঘদিনের। অনেক ক্ষেত্রে এটি গঠনমূলক সমালোচনার পরিবর্তে সংঘাতনির্ভর ছিল। তবুও দুই বড় দলের উপস্থিতিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে কখনও বিরোধী শক্তির শূন্যতা তৈরি হয়নি। তবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর রাজনীতিতে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। আবার জুলাইয়ের পর দলটির জনসমর্থনে ধস নেমেছে।

একই সঙ্গে অতীতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন বা ব্যাপক জনসমর্থনের ইতিহাস রয়েছে—এমন কোনো বিকল্প বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিও এখন দৃশ্যমান নয়। ফলে জনগণের পক্ষে সোচ্চার একটি কার্যকর রাজনৈতিক শক্তির অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে।

এমন বাস্তবতায় বিএনপি বা জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো একটি বিকল্প গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। তাদের লক্ষ্য, দেশের রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করে জনগণের প্রত্যাশার পক্ষে শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করা।

সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

সংসদের বাইরে থাকা এসব রাজনৈতিক দলের নেতারা মনে করেন, সরকার এখন পর্যন্ত জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাঙ্ক্ষিত পথে চলা শুরু করেনি। সংসদের বিরোধী দলও তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর খুব অল্প সময় পার হয়েছে। তাই এখনই চূড়ান্ত মূল্যায়নের সুযোগ নেই। তবে জনগণের গুরুত্বপূর্ণ অনেক দাবি এখনও বাস্তবায়নের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় কার্যকরের ক্ষেত্রেও সরকারের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে দলগুলোর মধ্যে।

কৃষকদের দুর্দশা নিরসনেও সরকারের আরও জোরালো ভূমিকা চায় এসব রাজনৈতিক দল। দলগুলোর নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে বীজ, সার, সেচ সুবিধা ও কীটনাশক পাচ্ছেন না। বাজার সিন্ডিকেটের কারণে তাদের বেশি দামে কৃষি উপকরণ কিনতে হচ্ছে, পাশাপাশি শ্রম ব্যয়ও বেড়েছে।

উৎপাদিত ফসল বিক্রির সময় কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। মধ্যস্বত্বভোগীরা বিপুল মুনাফা করলেও কৃষক বঞ্চিত হচ্ছেন। ভোক্তাদেরও বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় তাই সরকারের আরও দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা চায় দলগুলো।

চাঁদাবাজি, হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, মাদক পাচার ও মাদকাসক্তির মতো সমস্যা নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়ার দাবি এসব দলের নেতাদের।

তারা বলছেন, সংসদ ও রাজপথ—কোনো ক্ষেত্রেই জামায়াতে ইসলামী এখন পর্যন্ত কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা রাখতে পারেনি। ফলে জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একটি তৃতীয় বা বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন দলের মধ্যে এরইমধ্যে এ সংক্রান্ত মতবিনিময় শুরু হয়েছে।

জামায়াত যেন সরকারি দলের অংশ: মাহমুদুর রহমান মান্না

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী এমন ভূমিকা পালন করছে যেন তারা সরকারি দলের অংশ। অন্যদিকে সরকারও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। জামায়াত কার্যত বিএনপির সঙ্গেই রয়েছে। ফলে সমমনা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে একটি বিকল্প গণতান্ত্রিক শক্তি গড়ে উঠতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখনও অনেক পথ অতিক্রম করতে হবে।’

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনে নাগরিক ঐক্য বিএনপির সঙ্গে ছিল। তবে সর্বশেষ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে আমাকে দুটি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সেগুলোতেও ধানের শীষের প্রার্থী দেওয়া হয়।’ ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব তৈরি হয় বলে জানান মান্না।

ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনের ইঙ্গিত সিপিবির

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো পর্যালোচনার কাজ বর্তমান সরকার এখনও শুরু করেনি। শিল্প খাতে চলমান গ্যাস সংকট নিরসনেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গণপিটুনি, ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড, মাদকাসক্তি ও চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়েছে।’

তার অভিযোগ, বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী অনেক ক্ষেত্রেই সরকারপক্ষের সহযোগী শক্তির মতো আচরণ করছে।

সিপিবির এই নেতা বলেন, ‘দেশে কার্যকর বিরোধী দলের একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে। জনগণ ও রাষ্ট্রের পক্ষে কথা বলার জন্য সমমনা গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তিগুলোকে নিয়ে একটি বিকল্প রাজনৈতিক জোট গঠনের বিষয়ে আমরা আলোচনা শুরু করেছি।’

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে অভিন্ন ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনের ক্ষেত্রে আদর্শগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একযোগে কর্মসূচি গ্রহণের সুযোগ থাকতে পারে।’

কার্যকর বিরোধী দলের শূন্যতা স্পষ্ট: সাইফুল হক

বিএনপির নেতৃত্বে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আন্দোলনে যুগপৎ কর্মসূচির শরিক ছিল বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। দলটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক ঢাকার একটি আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। ওই আসনে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী না দিলেও দলটির একজন নেতা স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

নির্বাচনে সাইফুল হক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেননি। পাশাপাশি বিএনপি সরকার গঠনের পর তাকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদেও রাখা হয়নি।

এশিয়া পোস্টকে সাইফুল হক বলেন, ‘সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়নের জন্য খুব অল্প সময় হয়েছে। তবে কার্যকর বিরোধী দলের একটি শূন্যতা রয়েছে, সেটি স্পষ্ট।’

তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। এই শূন্যতা পূরণে একটি জোট গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে।’

তৎপর হেফাজতে ইসলাম

জামায়াতের বিকল্প ইসলামী শক্তি হিসেবে আর্বিভূত হতে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক দলগুলোকে নিয়ে একটি ঐক্যমঞ্চ গঠনের তৎপরতা শুরু করেছে হেফাজতে ইসলাম। এ নিয়ে এই ধারার দলগুলোর একাধিক বৈঠক হয়েছে।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমরা সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছি। জনগণ ও দেশের স্বার্থে ইতিবাচক পদক্ষেপকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে জনগণ বা দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ হলে অবশ্যই তার বিরোধিতা করব।’

জামায়াতে ইসলামী কার্যকর বিরোধীদলের ভূমিকায় নেই দাবি করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে অন্য যেকোনো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

গঠনমূলক সমালোচনায় সমস্যা দেখছে না বিএনপি

বিএনপি নেতারা বলছেন, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর গঠনমূলক সমালোচনাকে তারা সবসময়ই স্বাগত জানান। দলের ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বিএনপি সরকার জনগণ, দেশ ও গণতন্ত্রের কল্যাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার কোনো ভুল করলে তা দেখিয়ে দিতে রাজপথে বিরোধী জোট গঠিত হলে সেটিকে স্বাগত জানানো হবে। বিরোধী কণ্ঠস্বর শুনে বিএনপি কখনোই স্বৈরাচারী শাসকদের মতো ক্ষুব্ধ হবে না।’

কী বলছে জামায়াত

সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই জামায়াত সরকারের গঠনমূলক বিরোধিতা করছে বলে দাবি দলটির নেতাদের। তারা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর সরকার ও বিরোধী দলের রাজনীতিতে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা হওয়া উচিত ছিল। সেই চেতনা থেকেই জামায়াত সংসদ ও রাজপথ—উভয় ক্ষেত্রেই গঠনমূলক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে।

জামায়াতের মুখপাত্র ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময়ই গঠনমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। শুধু জুলাই অভ্যুত্থানের পর নয়, অতীতেও আমাদের দল কখনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য ইতিবাচক যেকোনো উদ্যোগে আমরা সরকারকে সমর্থন করেছি। একইভাবে জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ দেখলে তার প্রতিবাদও জানিয়েছি।’

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘সরকারি দলের অনিয়মের প্রতিবাদে আমাদের সংসদ সদস্যরা অন্য বিরোধী সদস্যদের সঙ্গে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন। একইভাবে জুলাই সনদ ও গণভোটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজপথেও কর্মসূচি পালন করেছি।’

যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে কার্যকর বিরোধী শক্তি প্রয়োজন। তবে বর্তমান সরকার এখনও নতুন। তাই তাদের কার্যক্রমের চূড়ান্ত মূল্যায়নের সময় এখনো আসেনি বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম আলী রেজা।

তার মতে, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী অতীতে জোটে থাকলেও এখন তারা নিজ নিজ রাজনৈতিক অবস্থান ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখছে। জামায়াত কখনও আওয়ামী লীগের বিকল্প নয়; আবার বিরোধী রাজনীতির নামে সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপের অন্ধ বিরোধিতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

ড. এস এম আলী রেজা এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠনমূলক সমালোচনার একটি নতুন রাজনৈতিক ধারা দেখা যাচ্ছে, যা ইতিবাচক। সরকার ভালো না খারাপ—তা না দেখে সবকিছুর বিরোধিতা করা বিরোধী দলের দায়িত্ব হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিকল্প বিরোধী গণতান্ত্রিক শক্তি গঠনের সুযোগ সবসময়ই থাকে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর আগে জনগণের সঙ্গে আরও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন। কার্যকর বিরোধী জোট গড়ে উঠলে তা দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।’