ডুয়েটে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, ছাত্র জমিয়তের ক্ষোভ

গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) উপাচার্য (ভিসি) প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের বর্বরোচিত ও সশস্ত্র হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ।
রোববার (১৭ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী এবং সেক্রেটারি সাআদ বিন জাকির বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মূল স্পিরিটই ছিল ক্যাম্পাসগুলোকে লেজুড়বৃত্তি, পেশিশক্তি, বহিরাগত সংস্কৃতি এবং গুন্ডাতন্ত্রের কবল থেকে মুক্ত করা। কিন্তু ডুয়েটের এই ন্যক্কারজনক ঘটনা প্রমাণ করে, একটি বিশেষ গোষ্ঠী এখনও অতীতের ফ্যাসিবাদের কায়দায় শিক্ষাঙ্গনে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন তোলার অবকাশ রয়েছে। কিন্তু কোনো আন্দোলন অযৌক্তিক হলেও তার সমাধান কখনোই লাঠিসোঁটা বা বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা করা হতে পারে না।
আদর্শিক ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সেই অযৌক্তিকতার মোকাবিলা না করে, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বাইরে থেকে সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে শিক্ষার্থীদের ওপর লেলিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না, বলছে ছাত্র জমিয়ত।
ছাত্রদলের উদ্দেশ্যে তারা বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদের পতনের পর ছাত্রসমাজ আপনাদের কাছ থেকে নতুন আধিপত্যবাদের পুনরাবৃত্তি আশা করে না। অতীতের ছাত্রলীগের কায়দায় ক্যাম্পাস দখল, বহিরাগতদের ব্যবহার এবং ভিন্নমতের ওপর সশস্ত্র চড়াও হওয়ার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। আন্দোলন যৌক্তিক হোক বা অযৌক্তিক, তা দমনে যদি পেশিশক্তি ও গুন্ডাতন্ত্রের আশ্রয় নেন, তবে সাধারণ ছাত্র-জনতা যেভাবে পূর্ববর্তী স্বৈরাচারকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করেছে, ঠিক একইভাবে যে কোনো নতুন অন্যায়ের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়াতে দ্বিধা করবে না।
রাজনীতি সম্পূর্ণ প্রকাশ্য, আদর্শিক এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ হতে হবে জানিয়ে তারা বলেন, কোনো ‘গুপ্ত ষড়যন্ত্র’ বা বহিরাগতদের অস্ত্রের মহড়ার চারণভূমি শিক্ষাঙ্গন হতে পারে না। আমরা ডুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর এই সশস্ত্র হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে তারা বলেন, অবিলম্বে এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষী ও হামলাকারী বহিরাগত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একইসঙ্গে প্রতিটি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সুস্থ, নিরাপদ ও ইনসাফপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।
