logo
Advertisement

শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের ওপর বিএনপি নেতার হামলায় এনসিপির ক্ষোভ

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের ওপর বিএনপি নেতার হামলায় এনসিপির ক্ষোভ
জাতীয় নাগরিক পার্টির লোগো। ছবি: উইকিপিডিয়া

শরীয়তপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন সাংবাদিককে মারধর এবং পরবর্তীতে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লার ‘তোমরা লেখবা, আমরা পিডামু’ বলে সরাসরি হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর এমন বর্বর হামলা চালানো এবং পরবর্তীতে প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমকে পিটিয়ে দমন করার সন্ত্রাসী দম্ভোক্তি স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, ক্ষমতাসীনদের একাংশ গণমাধ্যমের ন্যূনতম স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।’

নেতারা বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের ক্যাডারতন্ত্র, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি মেনে নেওয়া হবে না। সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করা এবং পরবর্তীতে মিডিয়াকে পিটিয়ে সোজা করার হুমকি দেওয়া শুধু সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর হামলা নয়; এটি দেশের সামগ্রিক বাক-স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর এক মারাত্মক আঘাত।’

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, গণমাধ্যমকে শত্রু মনে করা এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা স্তব্ধ করার এই অপচেষ্টা প্রমাণ করে যে, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি অংশ এখনো ফ্যাসিবাদী মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।

তাদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতির সুযোগ নিয়ে যারা সাংবাদিকদের ওপর হাত তোলার দুঃসাহস দেখায়, তারা মূলত সমাজ ও রাষ্ট্রকে আবারও স্বৈরাচারী অন্ধকার যুগে ঠেলে দিতে চায়।

এনসিপি সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী এবং বিএনপি নেতা আরিফুজ্জামান মোল্লাসহ জড়িত সব ক্যাডারকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে সারাদেশে কর্মরত সাংবাদিকদের অবাধে সত্য সংবাদ প্রকাশের নিরাপদ পরিবেশ ও আইনগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

মুক্ত গণমাধ্যম ও বাক-স্বাধীনতা রক্ষার লড়াইয়ে এনসিপি দেশের সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, অবিলম্বে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মঙ্গলবার সকালে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ চলাকালে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক জাহিদ হাসান, নিউজ টুয়েন্টিফোর টেলিভিশন ও জাগো নিউজের প্রতিনিধি বিধান মজুমদার এবং মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি বরকত মোল্লা।