সরকারের সমালোচনার পাশাপাশি বিকল্প পরিকল্পনা দিন: নজরুল ইসলাম খান

সরকারের কোনো কর্মসূচি বা নীতির সমালোচনা থাকলে তার পাশাপাশি জনগণের কল্যাণে আরও ভালো বিকল্প পরিকল্পনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করে দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সব কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও তাদের কষ্ট লাঘব করা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী নিহত, নির্যাতিত ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। জনগণ বিএনপিকে নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।
তিনি বলেন, এটা ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব।
জনগণের দেওয়া দায়িত্ব পালনে বিএনপি সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কষ্ট কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিএনপির অতীত ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিভিন্ন সময়ে দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতি সংকটে পড়লে বিএনপি দায়িত্ব নিয়ে তা মোকাবিলার চেষ্টা করেছে। জিয়াউর রহমানের শাসনামল এবং খালেদা জিয়ার সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথাও তিনি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন।
সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের ওপর ঋণের বোঝা ছিল এবং বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার ও দুর্নীতির মাধ্যমে দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে—এমন পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকারের কোনো কর্মসূচি ভালো না লাগলে সেটির সমালোচনা করা যাবে। তবে এর পরিবর্তে আরও ভালো কী করা যায়, সেই পরিকল্পনাও দিতে হবে।
তিনি বলেন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে বীজ, কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে সেটি নিয়ে আপত্তি থাকলে বিকল্প প্রস্তাব দিতে হবে। শুধু সবকিছুর বিরোধিতা করলে সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, রাজনীতিতে অনেকেই নতুন এসেছেন। তাদের ভবিষ্যৎ আছে। তাই তাদের যুক্তিবাদী হওয়ার এবং জনগণের পক্ষে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, এমন কোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড করা উচিত নয়, যাতে অতীতের স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদী শক্তি সুবিধা পায়। সাম্প্রতিক বোমাবাজি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো নিয়েও তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে দেশের স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। গণতন্ত্রকে সুসংহত করা, অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং জনগণের কষ্ট দূর করাই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত।
নজরুল ইসলাম খান তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, তিনি ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৯০-এর গণআন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন এবং দীর্ঘ সময় কারাবরণ করেছেন। দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন না তুলে আরও ভালো কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে হবে। দেশের মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কাজ করবে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে কিংবা সন্ত্রাস ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত হবে, তাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিকভাবে জনমত গড়ে তুলতে হবে।
বিরোধী দলের বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আয়োজিত কর্মসূচিতে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
