logo
Advertisement

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন/ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ভোট দিল ইসলামী আন্দোলন

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ভোট দিল ইসলামী আন্দোলন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের লোগো। ছবি: সংগৃহীত

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের বরগুনা-১ (বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) তার ভোট দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলের সহকারী মহাসচিব শেখ ফজলুল করীম মারুফ।

Advertisement

এর আগে ইসলামী আন্দোলন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তাদের ওয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এক বিবৃতি পাঠায়। সেখানে দলের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানের বরাতে জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেবে না ইসলামী আন্দোলন।

বিবৃতিতে গাজী আতাউর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ অলংকারিক হলেও জাতীয় সংকটে এবং জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্রপতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। রাষ্ট্রপতিই বাংলাদেশে সার্বজনীন ঐক্য ও আস্থার প্রতীক হিসেবে ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে যে সংকট, তার অন্যতম কারণ দলীয় রাষ্ট্রপতি। সেই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন বিষয়ে বেশ কিছু নীতিতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বিএনপিরও নোট অব ডিসেন্ট ছিল না। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম জুলাই সনদের সেই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া নীতিকে মান্য করে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। তা যেহেতু হয়নি, তাই এই নির্বাচনে ভোট দেওয়াকে সমীচীন মনে করছি না।

তিনি বলেন, জুলাই সনদে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া বিষয়সমূহের মধ্যে রাষ্ট্রপতি শিরোনামে ধারা-১০ এ বর্ণিত হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি আইনসভার উভয়কক্ষের (উচ্চ ও নিম্নকক্ষ) সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হবেন। এই ধারায় বিএনপিও একমত হয়েছিল। ধারা-২৮ এ বর্ণিত হয়েছে যে, জাতীয় সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোটদান প্রসঙ্গে অর্থ বিল ও আস্থাভোট বাদে অন্য সব ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন। এই বিষয়ে বিএনপিসহ সবাই একমত হয়েছে। কোন নোট অব ডিসেন্ট নেই।

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া এই দুটি বিষয়ের কোনোটিই মান্য করা হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, এটা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে গাদ্দারি ছাড়া আর কিছু নয়।

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব প্রশ্ন রেখে বলেন, যে নীতি ও আইনে নির্বাচন হচ্ছে, তাকে কি আদৌও নির্বাচন বলা যায় বা এর কোনো প্রয়োজন কি আদতেই আছে? ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকায় কে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, তা নিশ্চিত হয়েই আছে। তাহলে এসব নাটক মঞ্চস্থ করার কি অর্থ আছে?

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান যার নাম ঘোষণা করবেন, তাকেই বঙ্গভবনে নিয়ে চেয়ারে বসিয়ে দিলেই হতো। আক্ষরিক অর্থে এখানে নির্বাচন কমিশন, সংসদ সদস্য ও সংসদের কাজ কি? এগুলো জনগণের টাকা নষ্ট ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে হেয় করা ছাড়া আর কিছু নয়।