ঢামেক ছাত্রদলের নতুন কমিটির শীর্ষ দুই পদে সরকারি চাকরিজীবী

দীর্ঘ আট বছর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে ডা. আব্দুল্লাহ আর রায়হানকে আহ্বায়ক ও ডা. মেশকাত শরীফ ভূঁইয়াকে সদস্যসচিব করে পাঁচ সদস্যের আংশিক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। তবে নবগঠিত কমিটির শীর্ষ পদের দুজনই সরকারি চাকরিজীবী।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ছাত্রদল এই আংশিক কমিটির অনুমোদন দেয়। কমিটিতে স্থান পাওয়া অন্য নেতারা হলেন—সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. জাকারিয়া আশরাফ আশফি এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মিনহাজুল আবির ও আব্দুর রাজ্জাক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাঁচ সদস্যের এই কমিটিতে কেবল দুজন যুগ্ম আহ্বায়ক মিনহাজুল আবির ও আব্দুর রাজ্জাক বর্তমানে ঢামেকের নিয়মিত শিক্ষার্থী। বাকিদের মধ্যে আহ্বায়ক ডা. আব্দুল্লাহ আর রায়হান ঢামেকের কে-৭২ ব্যাচ এবং অপর দুজন কে-৭৩ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী, যারা ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আগেই চিকিৎসাবিদ্যায় তাদের পাঠ শেষ করেছেন।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল্লাহ আর রায়হান ও সদস্যসচিব ডা. মেশকাত শরীফ ভূঁইয়া রাজধানীর সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে ‘মেডিকেল অফিসার’ হিসেবে কর্মরত আছেন। এটি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হলেও নিয়মানুযায়ী সরকারি চাকরির অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. আশফিও একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসক হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। সদস্যসচিব ডা. মেশকাত সম্প্রতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। পাশাপাশি ২০২২ সালেই তিনি বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ঢামেক শাখার কার্যকরী সদস্য হিসেবে যুক্ত হন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢামেক ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, ছাত্র রাজনীতির পাশাপাশি জীবিকার তাগিদে নিজস্ব পেশা বা ব্যবসা পরিচালনা করা স্বাভাবিক ঘটনা হলেও সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে রাজনৈতিক সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে আসীন হওয়া রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও বিধিমালার পরিপন্থি। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল বিষয়টি অবগত থাকা সত্ত্বেও অজানা কারণে তাদেরই ঢামেকের নেতৃত্বে এনেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আহ্বায়ক ডা. আব্দুল্লাহ আর রায়হান ও সদস্যসচিব ডা. মেশকাত শরীফ ভূঁইয়া ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠালেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে, ২০১৮ সালের ১৮ জুলাই সর্বশেষ ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের কমিটি গঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ মেয়াদোত্তীর্ণ থাকার পর চলতি বছরের ১১ এপ্রিল পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।



