হাসনাত কাইয়ূম/অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার সুযোগে জনগণের ওপর চড়াও হচ্ছে বিএনপি

অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্কার না করার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিএনপি সরকার জনগণের ওপর নতুন করে চড়াও হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর তোপখানায় দলটির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘অভ্যুত্থান পরবর্তী করণীয় বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নিকট রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন প্রদত্ত প্রস্তাবনা ও আজকের বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
হাসনাত কাইয়ূম বলেন, দুই বছর আগে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে রাষ্ট্রের কাঠামোগত রূপান্তর, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও জনগণের সার্বভৌমত্ব রক্ষার যে স্পষ্ট রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল, তারা তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের ব্যর্থতার ধারাবাহিকতায় আজকের বিএনপি সরকার গণরায়কে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
তার মতে, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অরাজকতা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিহীনতা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জনগণের স্বার্থবিরোধী ‘গোলামির চুক্তি’ স্বাক্ষর—সবই সেই পুরোনো স্বৈরাচারী ও মাফিয়াতান্ত্রিক ব্যবস্থারই পরম্পরা।
দেশের জ্বালানি সার্বভৌমত্ব কখনও ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, সেটা অর্জনের চেষ্টা না করে বর্তমান সরকার দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে চরম ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ যে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের রায় দিয়েছিল, তা তো বাস্তবায়ন করা হয়নি, বরং জনগণকে জিম্মি করে বহুজাতিক স্বার্থ ও বিদেশি শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অভ্যুত্থানের রক্তস্নাত অর্জনকে এভাবে হাতছাড়া হতে দেওয়া যায় না বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি বলেন, আমরা দুই বছর আগেই হুঁশিয়ার করেছিলাম, অন্তর্বর্তী সরকার যদি সরকারের জবাবদিহিতার একটা মডেল দেখাতে না পারে, অভ্যুত্থানের স্পিরিট রক্ষা করা যাবে না। আজকের বাস্তবতা প্রমাণ করছে, সংস্কারের যে লড়াই শুরু করেছিলাম, রাষ্ট্র ও জনগণের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেই লড়াই এখন দ্বিগুণ শক্তিতে সম্মিলিতভাবে চালিয়ে যেতে হবে।
দলের সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন অহিংস গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ মিয়া, ডা. হেলালুজ্জামান আহমেদ, নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের মুখপাত্র নাজিফা জান্নাত, জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ, রাজনৈতিক সংগঠক মুশফিক উশ সালেহীন, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসিরউদ্দীন, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সোহেল, বাংলাদেশ সার্বভৌমত্ব আন্দোলন প্রধান সংগঠক শামীম রেজা।
.png)


