logo

আধিপত্যবাদী শক্তি মুসলিম আইকনদের আড়াল করে রেখেছে: বোরহান মাহমুদ

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
আধিপত্যবাদী শক্তি মুসলিম আইকনদের আড়াল করে রেখেছে: বোরহান মাহমুদ
জেডিপির আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মুন্সি বোরহান মাহমুদ। ছবি: জেডিপির সৌজন্যে

আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো ইতিহাসের ওপর এক ধরনের সেন্সর আরোপ করে অনেক বীরকে মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আজাদ পার্টির মহাসচিব মুন্সি বোরহান মাহমুদ। তার দাবি, দুদু মিয়াসহ অসংখ্য মুসলিম বীরের অবদান পাঠ্যপুস্তকের বাইরে রাখা হয়েছে অথবা খুব সীমিত পরিসরে আলোচনা করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) কার্যালয়ে মহা বিপ্লবী মুহসীনউদ্দীন দুদু মিয়ার ১৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে দুদু মিয়ার সংগ্রাম ও মুসলিম ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের আড়াল করে রাখার অভিযোগ নিয়ে অন্য বক্তারাও বক্তব্য দেন।

বোরহান মাহমুদ বলেন, ফকির মজনু শাহের আন্দোলনকে ‘ফকির বিদ্রোহ’ বলা হয়েছে। মুসলমানরা ‘বিদ্রোহী’, আর প্রীতিলতারা ‘বিপ্লবী’ এ ধরনের উপস্থাপনার মধ্যেও একটি বৈষম্যমূলক ন্যারেটিভ কাজ করেছে।

তার অভিযোগ, মহানায়কদের আড়াল করে ফেলা হয়েছে এবং এটি সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের অংশ।

অনুষ্ঠানে জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেন, কৃষকের অধিকার, সামাজিক ন্যায় ও ইনসাফের সংগ্রামে পীর মুহসীনউদ্দীন দুদু মিয়া আজও প্রাসঙ্গিক। দুদু মিয়া মুক্তির লড়াইয়ের অন্যতম পূর্বসূরি হলেও পরিকল্পিতভাবে মুসলিম ঐতিহাসিক ও সংগ্রামী ব্যক্তিত্বদের আড়াল করে রাখা হয়েছে।

নাঈম আহমাদ আরও বলেন, আজকের বাংলাদেশে কৃষকের ন্যায্য অধিকার, শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা এবং রাষ্ট্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে দুদু মিয়ার সংগ্রাম থেকে শিক্ষা নেওয়ার আছে। তার আদর্শ ও সংগ্রামের চেতনা ধারণ করে লড়াই অব্যাহত রাখার কথাও বলেন তিনি।

জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনি ইহসান বলেন, ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে নিজেদের ন্যারেটিভ তৈরি করতে হবে। দুদু মিয়া ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে কৃষকদের সংগঠিত করেছিলেন এবং তার নেতৃত্বে ফরায়েজি আন্দোলন নিজস্ব সাংগঠনিক ও বিচারব্যবস্থার কাঠামো গড়ে তুলেছিল। ফলে ইংরেজ ও জমিদারি কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে তার লড়াই ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধের অধ্যায়।

সিএইচটি সম্প্রতি জোটের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াইচিং মং শাক বলেন, দুদু মিয়ার ব্রিটিশবিরোধী প্রতিরোধের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান বাস্তবতার একটি ঐতিহাসিক মিল রয়েছে।

তিনি বলেন, দুদু মিয়া ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। তার লড়াইয়ের সঙ্গে আমি একটি মিল খুঁজে পাই। পার্বত্য অঞ্চলকে এখনো একখণ্ড ব্রিটিশের মতো করে রাখা হয়েছে। এটাকে একখণ্ড বাংলাদেশে পরিণত করতে হবে। আমাদের ঐক্য প্রয়োজন। আমাদের অনেকের রক্তে এখনো ব্রিটিশ রয়ে গেছে। সেই মানসিকতা থেকে মুক্ত হয়ে সবাইকে বাংলাদেশি হয়ে উঠতে হবে।

জেডিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ইয়াসিন আরাফাত রাজের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন দলটির প্রধান সংগঠক আহছান উল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান হোসেন রাহাত, বাংলাদেশ গ্রিন পার্টির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ইউসুফ আম্মার, জেডিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার আয়মান আন্দালিব ও আব্দুল হামিদ এবং জাতীয় ছাত্রমঞ্চের সদস্যসচিব আহনাফ আতিফ।

উল্লেখ্য, মুহসীনউদ্দীন আহমদ দুদু মিয়া (১৮১৯–১৮৬২) ফরায়েজি আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়তউল্লাহর পুত্র। ১৮৪০ সালে বাবার মৃত্যুর পর তিনি আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে ফরায়েজি আন্দোলন ধর্মীয় সংস্কারের পাশাপাশি কৃষক ও মেহনতি মানুষের অধিকার, জমিদারি নিপীড়ন এবং ঔপনিবেশিক কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।