logo

বিরোধী দলগুলোর চ্যালেঞ্জের মুখে সরকার

বিরোধী দলগুলোর চ্যালেঞ্জের মুখে সরকার
লং মার্চে ব্যক্তব্য রাখছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: জামায়াতের ফেসবুক থেকে

একই সময়ে দুই বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে সরকার। একদিকে সংসদে ও রাজপথে বিএনপি সরকারের নানা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে প্রকাশ্যে উল্লেখযোগ্য তৎপরতা দেখা না গেলেও আড়ালে থেকে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তৎপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজপথে সরব জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দল। গত সেপ্টেম্বরে জোটের প্রথম লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে জনসভা ও পথসভা হয়। এসব সভায় প্রয়োজনে সরকার পতনের ‘এক দফার’ ইঙ্গিত দেন নেতারা। এরই মধ্যে আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনামুখী লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছে ১১ দল।

জামায়াত জোটের অভিযোগ, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া জ্বালানির দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে জনগণের দুর্ভোগ বাড়ানো হয়েছে।

অন্যদিকে বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নাম সামনে আসছে।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হলেও প্রশাসনে এখনও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রভাব রয়েছে। দলটির অনুগত কর্মকর্তারা সরকারকে সংকটে ফেলতে নানা অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে পড়ছেন। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আদায়, অপ্রয়োজনীয় লোডশেডিং এবং জনগণের কল্যাণে নেওয়া সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে অস্বাভাবিক বিলম্বের মতো ঘটনাগুলো ‘পতিত ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ অপতৎপরতার অংশ।

রাজধানীর তাঁতীবাজার এলাকায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত ‘পিচ্চি রাজাকে’ পালাতে সহায়তার অভিযোগ ওঠে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) প্রবীর কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। ঢাকা জেলা আদালত থেকে ২৯ জন আসামিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে প্রিজন ভ্যানটি রাজধানীর তাঁতীবাজার এলাকার কাছাকাছি পৌঁছালে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস ভ্যানের চালকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে প্রিজন ভ্যানটি খোলেন। এরপর তিনি দরজা খুলে পিচ্চি রাজা ও খায়রুল বাশার নামের আরেক আসামিকে বের করেন। পরে খায়রুল প্রিজন ভ্যানে ফিরলেও পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান। বিষয়টি আড়াল করতে পরে এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস নাটক সাজান।

এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর নওগাঁর বদলগাছী থানার এসআই অসিত কুমারের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের উপজেলা সহসভাপতি ও একটি মামলার আসামি রাকিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পালাতে সহায়তা করার অভিযোগ ওঠে। পরে অসিত কুমারকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এসব ঘটনাকে ‘পতিত ফ্যাসিবাদের দোসরদের নাশকতা’ হিসেবে দেখছে বিএনপি।

যা বলছেন দলগুলোর নেতারা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা বিভিন্নভাবে নির্বাচিত সরকারকে গভীর সংকটে ফেলতে এবং দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে চেষ্টা করছে। এসব গোষ্ঠী বিভিন্ন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাই এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

ডেঙ্গু নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন রুহুল কবির রিজভী। এ সময় সেখানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী কীভাবে প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যায়? এ ঘটনায় মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ফ্যাসিবাদের দোসররা সরকারকে সংকটে ফেলতে বিভিন্ন বিভাগে ষড়যন্ত্র করছে।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘পতিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের দোসররা সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে অস্বাভাবিক বিলম্ব ঘটানোসহ নানা উপায়ে সংকট তৈরির ষড়যন্ত্র করছে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বিএনপি সরকার এখন দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করছে। অন্যদিকে পতিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল জামায়াত দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নিজেদের জঘন্য কর্মকাণ্ডের জন্য কোনো অনুশোচনা নেই। তারা মনে করে, মানুষ হত্যা করাসহ তাদের সব কর্মকাণ্ড সঠিক ছিল। প্রকৃতপক্ষে, জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা নিজেরাই জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।’

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বেশ কয়েকটি সংসদীয় আসন পেয়ে জামায়াতের সামনে জনমুখী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড দেশবাসীর প্রত্যাশার বিপরীতে যাওয়ায় তারা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘এরা সবাই আমাদের নির্বাচিত সরকারকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করছে। তবে বিএনপি সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।’

সরকারি দলের অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর মুখপাত্র ও দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট শুধু জনগণের কণ্ঠস্বর তুলে ধরছে। কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা সরকারকে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছি। সরকারকে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।’

জনগণের কল্যাণে নেওয়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নের স্বার্থে জামায়াতে ইসলামী সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।