মাগুরার পুনরাবৃত্তি ঠাকুরগাঁওয়ে চাই না: আযাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা হলে তা প্রতিরোধ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেছেন, ‘মাগুরার নির্বাচনের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠাকুরগাঁওয়ে দেখতে চাই না।’
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে ১১ দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত লং মার্চের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে মাগুরার নির্বাচন একটি কালো অধ্যায়। ওই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার পতনের আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল। তাই ঠাকুরগাঁওয়ে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না।’
তিনি বলেন, ‘সরকার যদি ক্ষমতায় থাকতে না চায়, তাহলে জোর করে ক্ষমতায় রাখা সম্ভব নয়। সরকারের বিভিন্ন আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, তারা অজুহাত তৈরি করে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করছে। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো অশুভ পরিকল্পনা থাকলে তা থেকে সরে আসতে হবে। জনগণ এখন সজাগ। নির্বাচন কারচুপি ঠেকাতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’
৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ায় লং মার্চ
আগামী ৩১ অক্টোবর লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ‘কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব হবে। এর মাধ্যমে সরকারকে জনগণের ভাষা বুঝতে এবং পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিতে বার্তা দেওয়া হবে।’
ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে অংশগ্রহণকারীরা জমায়েত হবেন। সকাল ৮টায় প্রায় এক হাজার যানবাহনের বহর নিয়ে যাত্রা শুরু হবে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৯টায় শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায়, বেলা ১১টায় বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালী মোড়ে, দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বরে, দুপুর ২টায় ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে, বিকেল সাড়ে ৩টায় যশোরের মুড়লীর মোড়ে এবং বিকেল ৫টায় ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পরে রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লং মার্চ শেষ হবে।
চার দফা দাবিতে লং মার্চ
আয়োজকদের ঘোষিত দাবির মধ্যে রয়েছে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দলীয়করণ বন্ধ করা।
লং মার্চের প্রতিটি স্থানে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হামিদুর রহমান আযাদ। কোথাও উসকানি বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকলে প্রশাসনকে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা যেন ষড়যন্ত্রমূলক কাজে জড়িত না হন। তাদের জনগণের পক্ষে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।’


