প্রয়োজনে ‘গণভোটে হ্যাঁ ফোরাম’ গঠন করা হবে: মঞ্জু

গণভোটে যারা হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে, প্রয়োজনে তাদের সবাইকে নিয়ে ‘গণভোটে হ্যাঁ ফোরাম’ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
বুধবার (১০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান, সনদ ও গণভোটের রায়; রাজবন্দীদের অভিজ্ঞতা ও জবানবন্দী’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা জানান তিনি। বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ এর আয়োজন করে।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল নিপীড়ন, বৈষম্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ। দেশের প্রায় ৭০ ভাগ ভোটার জুলাই সনদে হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে, জুলাই সনদ শহীদের রক্ত ও কারাবন্দীদের অশ্রুতে লেখা সনদ। গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দাতাদের ঐক্যবদ্ধ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, এ স্বপ্ন কোনোভাবেই বৃথা যাবে না। আওয়ামী লীগের নিপীড়ন আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। এখন ফ্যাসিবাদীরা নেই বলে আমরা কেউ ক্ষমতায়, কেউ বিরোধী দলে। যারা সরকারে আছেন আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, তারা মূল লক্ষ্য থেকে সরে যাচ্ছেন, আবার তারা মনে করছে আমরা শুধু তাদের খারাপ দিক দেখছি, অযথা সমলোচনা করছি।
এই মতপার্থক্যকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন আমাদের প্রধান চাওয়া। তিনি সরকারকে জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আহ্বান করেন।
ছাত্রপক্ষের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্সের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
তিনি বলেন, জুলাই শুধু একটি আন্দোলনের নাম নয়, এটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও সংগ্রামের প্রতীক। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে স্বৈরাচারী সরকার ডিজিএফআইয়ের মাধ্যমে আমাকেও ও হাসনাতকে তুলে নিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগ এবং হুমকি দেয়। জোর করে নেওয়া বক্তব্য কাট-কপি করে মিডিয়ায় প্রচার করে। কিন্তু বাংলাদেশপন্থি কিছু সাংবাদিক আমাদের মূল বক্তব্য আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোতে তুলে ধরে।
এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্য পূরণ হবে না। বিএনপির সেই আগের স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের পদঙ্ক অনুসরণ করছে। শুধু জুলাই সনদই পারে বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে। সরকার হিসেবে বিএনপিকেই জনগণের ভোট ও মতামতের প্রতিফলন ঘটিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। এই আন্দোলনের শহীদ, আহত ও রাজবন্দীদের আত্মত্যাগকে শুধু স্মরণ করলেই চলবে না, তাদের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আজকের সময়ের প্রধান দাবি। ইতিহাস তাদেরই সম্মানিত করে, যারা শহীদদের রক্তের ঋণ আদায়ে দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করে।
জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক ছাত্র-আন্দোলনের সভাপতি মাসুদ রানা জুয়েল বলেন, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের ইতিহাস কোনোভাবেই বিস্মৃত হওয়ার নয়। এখনো জুলাইয়ের রাজবন্দীদের স্বীকৃতি ও তাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালে তারা অন্যান্য ছাত্রসংগঠন সমূহের যে অবদান, সে সম্পর্কে কোনো কথা বলেনি।
বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আকিব হাসান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের সবার। রাজবন্দীদের অভিজ্ঞতা ও জবানবন্দী ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে। একইসঙ্গে জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করে শহীদ ও সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।
