কায়রোতে ইমাম হোসাইন (রা.) স্মরণে সুফিদের সপ্তাহব্যাপী আয়োজন

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র, হজরত আলী (রা.) ও ফাতেমা (রা.)-এর পুত্র ইমাম হোসাইন (রা.)- এর স্মরণে কায়রোর ঐতিহাসিক ইমাম হোসাইন (রা.) মসজিদ এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে সুফিদের সপ্তাহব্যাপী ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক আয়োজন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ছিল এর ‘বড় রাত’ বা সমাপনী পর্ব। মিশরীয়দের কাছে এ আয়োজনটি ইমাম হোসাইন (রা.)-এর পবিত্র শির মোবারক আসকালান থেকে মিশরে আগমনের স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়।
সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনে কায়রোর ইমাম হোসাইন (রা.) মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ ও সুফি তরিকার অনুসারীরা সমবেত হন। বিভিন্ন আয়োজনে ছিল কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া, জিকির, নাত, ধর্মীয় আলোচনা, সুফি সংগীত ও আধ্যাত্মিক মাহফিল। মিশরীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আয়োজনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম ২০ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ৬ অক্টোবরের সমাপনী রাতে শেষ হয়।
মিশরের মাটিতে প্রথমবার বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঠালের চারা রোপণ
সমাপনী দিনে ইমাম হোসাইন (রা.) মসজিদ চত্বর ও আশপাশের এলাকায় ছিল মানুষের ব্যাপক সমাগম। বিভিন্ন সুফি তরিকার অনুসারীরা জিকির, নাত ও ধর্মীয় সংগীতে অংশ নেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষের জন্য ছিল খাবার ও আপ্যায়নের ব্যবস্থাও। সব মিলিয়ে ঐতিহাসিক হোসাইন এলাকায় তৈরি হয় উৎসবমুখর ও আধ্যাত্মিক এক পরিবেশ।
নবীপ্রেম ও আহলে বাইতের ভালোবাসায় একত্রিত মানুষ
আল-আযহার গ্লোবাল সেন্টার ফর ইলেকট্রনিক ফতোয়ার সদস্য ড. আলী আহমেদ রাফাত বলেন, ইমাম হোসাইন (রা.) মুসলিম উম্মাহর কাছে ন্যায়বিচার, সাহস ও আত্মত্যাগের প্রতীক। তিনি হিজরি চতুর্থ বর্ষের শাবান মাসের ৩ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হিসেবে তিনি মুসলমানদের হৃদয়ে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত।
আল-আজহারে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সাইমুম আল-মাহেদী বলেন, আমরা এমন এক মহান ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করছি, যিনি জান্নাতের যুবকদের নেতা। যাঁর সম্পর্কে তাঁর নানাজান, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.), ইরশাদ করেছেন—‘হে আল্লাহ! আমি হোসাইনকে ভালোবাসি, আপনিও তাকে ভালোবাসুন এবং যারা তাকে ভালোবাসে, তাদেরও ভালোবাসুন।’”
বাংলাদেশ-মিশর সম্পর্ক জোরদারে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এর পবিত্র পরিবার তথা আহলে বাইতের প্রতি মিশরীয়দের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় এ আয়োজনে। মিশরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষ এখানে সমবেত হয়েছেন। পুরো এলাকায় যেন ঈদের আমেজ বিরাজ করছে।
সাইমুম আল-মাহেদী আরও বলেন, নানা আয়োজন, কর্মশালা, শোভাযাত্রা, জিকির-আজকারের অসংখ্য মাহফিল ও ওয়াজ-নসিহতের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আগত মেহমানদের জন্য রয়েছে আন্তরিক আপ্যায়ন ও আতিথেয়তা। সূফিবাদের বিভিন্ন মতাদর্শ, তরিকা ও মাজহাবের অনুসারীরা এখানে একত্রিত হয়েছেন। মতাদর্শে ভিন্নতা থাকলেও নবীপ্রেম ও আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা তাদের একটি অভিন্ন বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।
জিকির ও নাতে মুখর ঐতিহাসিক এলাকা
সন্ধ্যার পর ইমাম হোসাইন (রা.) মসজিদ এলাকা আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। কোথাও সম্মিলিত জিকির, কোথাও নাত ও ধর্মীয় সংগীত, আবার কোথাও আলেম ও সুফি সাধকদের আলোচনা—সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক আবেগঘন আধ্যাত্মিক পরিবেশ।
মিশরে আন্তর্জাতিক মাওলিদ সেমিনার অনুষ্ঠিত
অনুষ্ঠানগুলোতে ইমাম হোসাইন (রা.)-এর জীবন, মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক, সত্য ও ন্যায়ের প্রতি তাঁর অবিচল অবস্থান এবং কারবালার আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করা হয়।