logo

টোকিও দূতাবাসে ‘মানবসম্পদ, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ’ বিষয়ক সেমিনার

টোকিও দূতাবাসে ‘মানবসম্পদ, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ’ বিষয়ক সেমিনার
জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন রাষ্ট্রদূত মোঃ দাউদ আলী। ছবি: দূতাবাস

জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘মানবসম্পদ, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ’বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (৮ অক্টোবর, ২০২৬) বাংলাদেশ দূতাবাস এবং জাপান-বাংলাদেশ হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন- জেবিএ যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে জেবিএ'র প্রেসিডেন্টসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারে বাংলাদেশ ও জাপানের পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের পরীক্ষিত বন্ধুত্বের সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রদূত মোঃ দাউদ আলী বলেন, দুই দেশের এ অংশীদারিত্ব কেবল গতানুগতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং ভবিষ্যৎমুখী আস্থার এক অনন্য প্রতীক। বর্তমান বিশ্বে জাপানের বয়স্ক ও হ্রাসপ্রাপ্ত জনসংখ্যার বিপরীতে বাংলাদেশের বিশাল, দক্ষ ও উদ্যমী তরুণ জনগোষ্ঠীর অংশীদারিত্ব উভয় দেশের জন্যই অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও লাভজনক হতে পারে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে জাপান যাচ্ছেন

সেমিনারে দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর মোরারজী দেশাই বর্মন তার প্রেজেন্টেশনে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব এবং বাণিজ্যের প্রসার চিত্র তুলে ধরেন। এতে বলা হয়, জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানি ২০২৪ সালের ১.২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৫ সালে ১.২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। তিনি আরও জানান, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, ঢাকা মেট্রোরেল এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মতো মেগা-প্রকল্পগুলোতে জাপানি সহযোগিতা দুই দেশের লজিস্টিকস ও বিনিয়োগের পরিবেশকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।

সেমিনার শেষে ফটোসেশনে অংশ নেন অংশগ্রহণকারীরা। ছবি: টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস
সেমিনার শেষে ফটোসেশনে অংশ নেন অংশগ্রহণকারীরা। ছবি: টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস

এসময় কাউন্সিলর (শ্রম) জয়নাল আবেদিন তার উপস্থাপনায় দু’দেশের জনশক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি জাপানের শ্রম বাজারে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও সম্ভাবনার বিষয়টি উপস্থাপন করেন। বাংলাদেশ সরকার জাপান শ্রমবাজারের গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ‘জাপান সেল’ গঠন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মী TITP (Technical Intern Training Programme), SSW (Specified Skilled Worker) এবং উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে জাপানে যেতে আগ্রহীদের সার্বিক ব্যবস্থাপনা তদারকি করা হচ্ছে।

সেমিনারের শেষ পর্বে দুই দেশের অংশীজনদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতায় একটি প্রাণবন্ত নেটওয়ার্কিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়।