logo

স্পেনে লুটপাটের আশঙ্কায় শপিং মল-দোকানের কাচ ঢেকে দিলেন ব্যবসায়ীরা

স্পেনে লুটপাটের আশঙ্কায় শপিং মল-দোকানের কাচ ঢেকে দিলেন ব্যবসায়ীরা
স্পেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বার্সেলোনা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

হ্যালোইন উৎসবকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের আশঙ্কায় স্পেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বার্সেলোনায় ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলোর অসংখ্য শপিং মল, দোকান, বিপণিবিতান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাচের দরজা, জানালা এবং পণ্যের প্রদর্শনী কক্ষ কাঠের পাটাতন, মোটা কার্ডবোর্ড ও ধাতব আবরণ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও দোকানের সামনের পুরো কাচের অংশই ঢেকে রাখা হয়েছে, যাতে বাইরে থেকে ভাঙচুর বা পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলেও ভেতরের পণ্য ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়।

স্পেনের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে ‘ব্লোকুস’ নামের একটি গোষ্ঠীর জমায়েতের আহ্বানকে কেন্দ্র করে বার্সেলোনাসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২৪ অক্টোবর পর্যটন ও বন্দর নগরী বার্সেলোনার কেন্দ্রস্থলে সংঘটিত সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর নতুন করে এমন পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ওই ঘটনায় শহরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে হামলা, দোকানের কাচ ভাঙচুর এবং পণ্য লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বার্সেলোনায় মিডিয়া মার্কেটসহ নামিদামি অনেক ব্র্যান্ডের শোরুমে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবার ব্যবসায়ীরা আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।

বার্সেলোনা শহরের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা প্লাসা দে কাতালুনিয়া, পাসেই দে গ্রাসিয়া, পোর্তাল দে লআঞ্জেল এবং আশপাশের সড়কগুলোতে দোকানের সামনে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা চোখে পড়ছে। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পোশাকের দোকান, স্বর্ণালংকারের বিপণি, ব্যাংক, ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে স্থানীয় বিপণিবিতানগুলোও নিজেদের সম্পদ রক্ষায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। অনেক দোকান তাদের প্রদর্শনী কক্ষের মূল্যবান পণ্য সরিয়ে নিরাপদ স্থানে রেখেছে। কোনো কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দোকানের সামনের কাচ পুরোপুরি ঢেকে দিয়েছে, আবার কোথাও কাঠের শক্ত পাটাতন বসানো হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সংঘর্ষ বা লুটপাটের ঘটনা ঘটলে শুধু দোকানের কাচ কিংবা আসবাবপত্র নয়, ভেতরে থাকা দামি পণ্য ও নগদ অর্থও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে আগাম অর্থ ব্যয় করে সুরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাতালোনিয়ার আঞ্চলিক পুলিশ বার্সেলোনায় বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাণিজ্যিক এলাকা ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সম্ভাব্য সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাট ঠেকাতে পুলিশের টহল, তল্লাশি এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে শহরের কেন্দ্রস্থলে জনসমাগমের ওপর নজর রাখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গণপরিবহন ব্যবস্থায়ও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্লোকুস নামের গোষ্ঠীটি মূলত অনলাইনভিত্তিক একটি প্ল্যাটফর্ম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বার্তা আদান-প্রদানের বিভিন্ন মাধ্যমে তরুণদের জমায়েতের আহ্বান জানানো হচ্ছে। ফ্রান্সের তরুণদের কিছু আন্দোলনের সঙ্গে এ গোষ্ঠীর যোগসূত্র রয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের কর্মসূচির প্রকৃত উদ্দেশ্য, সাংগঠনিক কাঠামো এবং সহিংসতার সঙ্গে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীর সম্পৃক্ততা নিয়ে এখনো সব তথ্য স্পষ্ট নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্ভাব্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে প্রচারিত বার্তাগুলোর বিষয়েও নজর রাখছে।

শুধু বার্সেলোনা নয়, স্পেনের অন্যান্য শহরেও একই ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাদ্রিদ, বিলবাও ও সান সেবাস্তিয়ানসহ বিভিন্ন শহরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। বড় বিপণি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ছোট দোকানিরাও নিজেদের সম্পদ রক্ষায় সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

ব্যবসায়ী মহলের আশঙ্কা, হ্যালোইন উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে শহরের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে পর্যটননির্ভর বার্সেলোনার মতো শহরে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়া, পর্যটকদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বছরের শেষভাগে বড়দিনের কেনাকাটার মৌসুম সামনে থাকায় ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এ সময়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক পর্যটক বার্সেলোনার বিভিন্ন বিপণিকেন্দ্রে কেনাকাটা করতে আসেন। ফলে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।

অন্যদিকে শহরের বাসিন্দাদের মধ্যেও স্বাভাবিক চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার, সংঘর্ষপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। ব্যবসায়ীদের আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান মিলিয়ে ৩১ অক্টোবর বার্সেলোনার কেন্দ্রস্থলে অন্য দিনের তুলনায় ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।

উৎসবের আমেজের পাশাপাশি সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা শহরের বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে এক ধরনের উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

নূর মামুন

সম্পাদনা

নূর মামুন

জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক | এশিয়া পোস্ট