logo

মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসে লালনের তিরোধান দিবস উদযাপন

আফছার হোসাইন
আফছার হোসাইন, মিশর
মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসে লালনের তিরোধান দিবস উদযাপন
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের কর্মকর্তাসহ বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

মিশরের কায়রোতে বাংলাদেশ দূতাবাসে বাংলার মরমি সাধক ও কালজয়ী বাউল সংগীতসাধক ফকির লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উদযাপিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে লালনের জীবন, দর্শন ও সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে মানবতা, সাম্য ও সম্প্রীতির চিরন্তন বার্তা তুলে ধরা হয়।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দূতাবাসের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিশরে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে। জি এম মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রেজাউল করিম, মাসুদ করিম চৌধুরী, নোমান করিম আজহারী ও দূতাবাসের শ্রম সচিব মো. জাকির হোসেন।

বক্তারা বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে লালন সাঁইয়ের অবদান তুলে ধরে বলেন, লালনের গান ও দর্শন জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও সামাজিক পরিচয়ের বিভেদ অতিক্রম করে মানবতা, সাম্য, ভালোবাসা ও সামাজিক সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। তাঁর কালজয়ী সৃষ্টি আজও মানুষকে উদারতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে।

মিশরে সূরা ফাতিহার তাফসিরের ওপর আব্দুল কাইয়ূমের এমফিল ডিগ্রি লাভ

সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানান এবং বাংলার অন্যতম আধ্যাত্মিক চিন্তাবিদ লালন সাঁইয়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, ফকির লালনের গান ও দর্শন জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাম্য ও সম্প্রীতির চিরন্তন বাণী বহন করে।

লালন সাঁইয়ের কালজয়ী দর্শনের তাৎপর্য তুলে ধরে গৌতম কুমার দে বলেন, তাঁর সৃষ্টি বাঙালির সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। ভৌগোলিক ও ধর্মীয় সীমানা অতিক্রম করে লালনের গান প্রচলিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গোঁড়ামিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে এবং মানবধর্মের চেতনাকে সমুন্নত করেছে। তিনি আরও বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহিষ্ণু, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে লালনের শিক্ষা আজও গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা জোগায়।

মিশরের মাটিতে প্রথমবার বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঠালের চারা রোপণ

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি শিল্পীরা লালনগীতি ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন। শিশুদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনাও উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে। এসব সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অতিথিরা বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক স্বতন্ত্র ধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে লালন সাঁইয়ের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানে মিশরে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।