মিশরে সূরা ফাতিহার তাফসিরের ওপর আব্দুল কাইয়ূমের এমফিল ডিগ্রি লাভ

মিশরের ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সূরা ফাতিহার তাফসিরের ওপর গবেষণায় এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন, বাংলাদেশি গবেষক আব্দুল কাইয়ূম নূরুল ইসলাম। তাঁর গবেষণার বিষয়বস্তু ছিলো আজ থেকে তিনশো বছরের বেশি সময় আগে ‘শাইখ ইসমাইল হাক্কি আল-বুরুসাবি’ রচিত তাফসিরুল বাইযাবির শুরুরাংশের ওপর টীকা—সুরা ফাতিহার ‘আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামিন’ থেকে ‘ওয়ালাদ্দাল্লিন’ পর্যন্ত: সম্পাদনা ও পর্যালোচনা’।
বিশ্ববিদ্যালয়টির ইসলামিক থিউলজি অনুষদের তাফসির ও উলুমুল কুরআন বিভাগে তাঁর গবেষণাকর্মের ওপর অনুষ্ঠিত থিসিস ডিসকাশন সেমিনারে এ ফলাফল দেওয়া হয়। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) কায়রোর দাররাসায় অবস্থিত ইসলামিক থিওলজি অনুষদের ইমাম আয-যাহাবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে আব্দুল কাইয়ূমের গবেষণাপত্র পর্যালোচনা ও আলোচকদের মূল্যায়ন শেষে তাঁকে সর্বোচ্চ গ্রেড ‘মুমতাজ’ প্রদান করা হয়।
মিশরে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ঈর্ষণীয় সাফল্য
গবেষণার সুপারভাইজার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের কায়রোস্থ ইসলামিক থিওলজি অনুষদের তাফসির ও উলুমুল কুরআন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ আব্দুল করিম কাসিব। আলোচকদের মধ্যে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট অনুষদের সাবেক ওয়াকিল এবং ইসলামিক থিওলজি অনুষদের তাফসির ও উলুমুল কুরআন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও সাবেক বিভাগীয় প্রধান ড. মুহাম্মাদ হাসান মুহাম্মাদ সাবাতান এবং আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-মানুফিয়া শাখার ইসলামিক থিওলজি অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুল গাফফার আহমাদ আব্দুল গাফফার।

ঢাকার কদমতলী থানার মোহাম্মদবাগ, মেরাজনগর এলাকার বাসিন্দা মরহুম নুরুল ইসলামের ছেলে আব্দুল কাইয়ূম নূরুল ইসলাম ২০০৫ সালে দাওরায়ে হাদিস, ২০০৬ সালে ইফতা এবং ২০০৮ সালে দাখিল ও ২০১০ সালে আলিম পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। এরপর ২০১৩ সালে মিশরের ঐতিহ্যবাহী আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে ২০১৭ সালে স্নাতক (অনার্স) এবং ২০২০ সালে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন। ধারাবাহিক অধ্যবসায় ও গবেষণার মাধ্যমে ২০২৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল গবেষণা সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ ফলাফল ‘মুমতাজ’ (Excellent) অর্জন করলেন।
মিশরে বাংলাদেশি কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল আওসবি
তাঁর এ সাফল্যে মিশরে বাংলাদেশের কওমি শিক্ষার্থীদের সংগঠন আযহার ওয়েলফেয়ার সোসাইটি সহ দেশটিতে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
আল-আজহারের মতো বিশ্বখ্যাত ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চতর গবেষণায় সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও গবেষক সমাজের জন্য গৌরবের বিষয় বলে মনে করছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। আব্দুল কাইয়ূম নূরুল ইসলামের এ সাফল্য নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, ইসলামি জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় আরও উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।