logo

বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধসহ সরকারের কাছে দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসীদের ৬ দফা দাবি

শিমুল খান, দক্ষিণ কোরিয়া
বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধসহ সরকারের কাছে দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসীদের ৬ দফা দাবি
আলোচনা সভায় বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানান দক্ষিণ কোরিয়ার প্রবাসীরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

বিমানবন্দরসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধের পাশাপাশি দেশ থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধের দাবিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) দক্ষিণ কোরিয়ার হোয়াসং সিটির ফরেনার সাপোর্ট সেন্টারে প্রবাসী ঐক্য পরিষদ দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও দেশে যাতায়াতের সময় বিমানবন্দরে নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হন। এ ছাড়া বিদেশযাত্রার প্রস্তুতিকালে পাসপোর্ট অফিস, থানা থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে গিয়ে অনেককে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এসব হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন গাচ্ছান ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক ড. মোর্শেদ ভূঁইয়া, প্রবাসী ঐক্য পরিষদ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান সমন্বয়ক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম আই ছোটন, সমন্বয়ক আব্দুর রহমান চৌধুরী, ইব্রাহিম বিন ইদ্রিস, মো. কামাল হোসাইন, এস এম ইকবাল এবং দক্ষিণ কোরিয়ার নবাঙ্কুর শিল্পগোষ্ঠীর প্রধান আকিল উদ্দীন। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মো. জাহাঙ্গীর আলম।

সভায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে আসা বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে চালু হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার ভিসা সেন্টার

বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধের দাবিতে তাঁরা প্রাথমিকভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল এসব দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা না করলে ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স শাটডাউনসহ আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও তাঁরা জানান।

সভায় প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ও অন্যান্য সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা; ঘুষ, অনিয়ম, দালালের দৌরাত্ম্য ও যাত্রী হয়রানির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা; হারানো লাগেজ, মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ও চুরির অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করা; বিমানবন্দরে ২৪ ঘণ্টা কার্যকর প্রবাসী সহায়তা কেন্দ্র চালু রাখা; অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা ও নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা এবং বিমানবন্দরের সেবার মান উন্নয়নে প্রবাসীদের প্রতিনিধি ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করা।

দক্ষিণ কোরিয়ায় উৎপাদন খাতে অদক্ষ কর্মী নিয়োগ, আবেদন নেবে ২০ হাজার

এ ছাড়া প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা ও হয়রানি বন্ধে সরকারের কাছে লিখিত স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান আয়োজকেরা। আগামী ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর দক্ষিণ কোরিয়া সফর উপলক্ষে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হকের কাছে এসব দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও সভায় জানানো হয়।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার প্রবাসীদের উত্থাপিত দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বিমানবন্দরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে সেবার মান উন্নয়ন, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং প্রবাসীদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।