ফ্রান্সে অনিয়মিতদের জন্য কঠোর আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন

ফ্রান্সে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা এবং ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত বিদেশিদের প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রে (সিআরএ) রাখার সর্বোচ্চ সময়সীমা সাত মাস বা ২১০ দিনে বাড়ানোর আইন চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ফরাসি পার্লামেন্টে বিলটি চূড়ান্তভাবে গৃহীত হয়। এর মাধ্যমে প্রশাসনিক আটকের সর্বোচ্চ সময়সীমা ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে ২১০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হবে। আগে ফ্রান্সে প্রশাসনিক আটকের সর্বোচ্চ সময়সীমা ছিল ৯০ দিন। আর সন্ত্রাসবাদে দণ্ডিত বিদেশিদের ক্ষেত্রে তা ছিল ১৮০ দিন।
এর আগে সিআরএতে রাখার সময়সীমা বাড়ানোর একটি বিল অনুমোদন দিয়েছি দেশটির সংসদ। গত পরশু তা চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় অভিবাসী, শরণার্থী ও প্রবাসবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইনফোমাইগ্র্যান্টস।
ফ্রান্স সংসদের উচ্চকক্ষ সিনেটে অনুমোদনের পর নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিও বিলটির পক্ষে চূড়ান্ত সম্মতি দেয়। ভোটাভুটিতে ৩৪৫ জন সংসদ সদস্য বিলটির পক্ষে এবং ১৭৭ জন বিপক্ষে ভোট দেন। সরকার, ডানপন্থি দলগুলো এবং কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল র্যালি বিলটিকে সমর্থন করে।
নতুন বিল অনুসারে, ফ্রান্সে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা কোনো বিদেশি বহিষ্কারপ্রক্রিয়া এড়িয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা থাকলে তাদের বহিষ্কারের উদ্দেশ্যে প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রে রাখার মেয়াদ বাড়ানো যাবে।
নতুন আইনের আওতায় নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে আটকের সময়সীমা ২১০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। তবে এর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে—
প্রথমত, তার বিরুদ্ধে ফরাসি ভূখণ্ড ছাড়ার নির্দেশ বা ওকিউটিএফ (ওকিউটিএফ) থাকতে হবে; দ্বিতীয়ত, অতীতে নির্দিষ্ট কিছু অপরাধ বা গুরুতর অপরাধে সংশ্লিষ্টের বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচ বছরের কারাদণ্ড থাকতে হবে; তৃতীয়ত, ওই ব্যক্তিকে জননিরাপত্তার জন্য ‘বাস্তব, বর্তমান ও বিশেষভাবে গুরুতর’ হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে হবে।
আইনটিতে সন্ত্রাসবাদে দণ্ডিত বিদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক আটকের সর্বোচ্চ সময়সীমা ১৮০ দিন থেকে বাড়িয়ে ২১০ দিন করার বিধান রাখা হয়েছে।
ফরাসিদের নিরাপত্তাই একমাত্র দিকনির্দেশনা
বিলটি অনুমোদনের পর প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লকর্নু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘এই আইনের ক্ষেত্রে আমরা রাজনৈতিক অবস্থানের চেয়ে কার্যকারিতাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের একমাত্র দিকনির্দেশনা হলো ফরাসিদের নিরাপত্তা।’
আইনটিতে আরও একটি নতুন ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। এটির মাধ্যমে ফরাসি প্রশাসনের প্রধান বা প্রেফেরা কিছু ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলক মনোরোগ পরীক্ষার নির্দেশ দিতে পারবেন।
কর্তৃপক্ষের মতে, সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে বিরোধীরা এই বিধানের সমালোচনা করেছে। ফরাসি সোশ্যালিস্ট পার্টির (পিএস) সংসদ সদস্য রোমাঁ এসকেনাজি বলেন, এই প্রস্তাবিত আইন মানসিক স্বাস্থ্য, সন্ত্রাসবাদ এবং অভিবাসনসহ সবকিছু একসঙ্গে মিশিয়ে ফেলেছে।
বামপন্থি দলগুলো পুরো আইনটির বিরোধিতা করেছে এবং তারা বিষয়টি সাংবিধানিক পরিষদে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ বিদেশিকে প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে৷ আর মায়োতসহ ফরাসি ওভারসিজ অঞ্চলগুলোর তথ্য যুক্ত করলে এই সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজারে পৌঁছায়।
