logo
Advertisement

মিশরে হাফেজ নাছরুল্লাহ’র আন্তর্জাতিক কোরআনিক সনদ অর্জন

আফছার হোসাইন
আফছার হোসাইনমিশর
মিশরে হাফেজ নাছরুল্লাহ’র আন্তর্জাতিক কোরআনিক সনদ অর্জন
আন্তর্জাতিক কোরআনিক সনদ অর্জন করলেন হাফেজ নাছরুল্লাহা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

‘শিক্ষার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই’—চিরন্তন এই সত্যকে আবারও বাস্তবে প্রমাণ করলেন নোয়াখালীর সুবর্ণচরের তা’মীরুল উম্মাহ হিফজুল কুরআন মাদরাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ নাছরুল্লাহ। ৪০ বছর বয়সে পবিত্র কুরআন শিক্ষার প্রতি দীর্ঘদিনের অনুরাগ, অধ্যবসায় ও অদম্য আগ্রহকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে মিশরে অবস্থানকালে তিনি অর্জন করেছেন সম্মানজনক একটি আন্তর্জাতিক কোরআনিক সনদ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মিশরের রাজধানী কায়রোর নসর সিটি এলাকার একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানে তিনি এ সনদ অর্জন করেন। বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ও আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার বাংলাদেশি বিচারক ড. শোয়াইব আল-আজহারীর কাছে ‘রেওয়ায়েতে হাফস আন আসিম’ অনুসারে পবিত্র কুরআনের সম্পূর্ণ খতম শুনিয়ে তিনি ‘মুত্তাছিল সনদ’ লাভ করেন।

কোরআন তিলাওয়াত ও কিরাআতের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সনদ অর্জন ইসলামী জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সংশ্লিষ্টদের মতে, একজন শিক্ষার্থী তাঁর শিক্ষকের কাছ থেকে যে জ্ঞান বা কিরাআত গ্রহণ করেন, তার ধারাবাহিকতা পরবর্তী শিক্ষকের মাধ্যমে সংরক্ষিত ও স্বীকৃত হওয়ার বিষয়টিই এ সনদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববরেণ্য ক্বারী শায়েখ আব্দুল লতিফ ওয়াহদান, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শায়েখ মোহাম্মদ আব্দুল মাওলা এবং ড. মুমতাজ আহমাদ।

এ সময় মিশরে অধ্যয়নরত প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা হাফেজ নাছরুল্লাহকে তাঁর এ অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একজন বাংলাদেশি কোরআন শিক্ষকের এমন স্বীকৃতি অর্জনকে তারা গর্ব ও আনন্দের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

‘মুত্তাছিল সনদ’ কী?

ইসলামী জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যে ‘সনদ’ বলতে সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট ইলম, হাদিস, কোরআন তিলাওয়াত বা কিরাআত শিক্ষার ধারাবাহিক জ্ঞান-পরম্পরাকে বোঝানো হয়। আর ‘মুত্তাছিল সনদ’ বলতে এমন একটি সংযুক্ত ও ধারাবাহিক সনদকে বোঝায়, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জ্ঞান বা কিরাআত শিক্ষাগ্রহণের ধারাবাহিকতা স্বীকৃত হয়।

হাফেজ নাছরুল্লাহ ‘হাফস আন আসিম’ রেওয়ায়েত অনুসারে সম্পূর্ণ কুরআন তিলাওয়াত করে এই সনদ অর্জন করেছেন। ফলে তাঁর দীর্ঘদিনের কোরআন শিক্ষা, তিলাওয়াত ও হিফজ-চর্চায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হাফেজ নাছরুল্লাহর এই অর্জন বাংলাদেশে কোরআন শিক্ষা ও হিফজ কার্যক্রমে যুক্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে কোরআন শিক্ষা ও ইসলামী জ্ঞানচর্চার যে ঐতিহাসিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক রয়েছে, এ ধরনের অর্জন সেই সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।