লন্ডনে সাদিক-হাসনাতের উপস্থিতিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের উচ্ছ্বাস

ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে রোববার (১৪ জুন)। এই সেমিনারকে কেন্দ্র করে পূর্ব লন্ডনের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে একদিকে যেমন ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও সাজসাজ রব দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে এক ধরনের চাপা উত্তেজনাও বিরাজ করছে। সেমিনারে অংশ নিতে ইতোমধ্যে সব ডেলিগেট যুক্তরাজ্যে এসে পৌঁছেছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) দুপুর দুইটার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে হিথ্রো বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ও এনসিপি নেতা ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। বিমানবন্দরে নামার পর দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ প্রবাসীরা তাদের ফুল দিয়ে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান।
সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই সেমিনারের অন্য দুই ডেলিগেটও যুক্তরাজ্যে এসে পৌঁছেছেন। তারা হলেন—অন্তর্বর্তী সরকারের গুম অনুসন্ধান কমিশনের সদস্য এবং ২০২৫ সালে রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক গবেষক ও নীতি বিশ্লেষক ড. নাবিলা ইদ্রিস এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক, বিশিষ্ট গবেষক ও বিএনপির নীতি নির্ধারক প্রফেসর ড. নাহরীন ইসলাম খান।
শুক্রবার বিমানবন্দরে অবতরণের পর দুই নেতাকে বরণ করার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। প্রথমে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। এর কিছুক্ষণ পর হাসনাত আব্দুল্লাহ বিমানবন্দর থেকে বের হলে তাকে শুভেচ্ছা জানান এনসিপি, ইউকে শাখার নেতাকর্মীরা। বিমানবন্দর থেকে বিদায় নিয়ে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খান। পরে তাকে নির্ধারিত থাকার স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
অন্যদিকে, হাসনাত আব্দুল্লাহ বিমানবন্দর থেকে প্রবাসীদের উচ্ছ্বসিত ভালোবাসায় সরাসরি চলে যান ব্রিটেনের বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে শহীদ হওয়া আলতাব আলীর স্মৃতিধন্য ‘আলতাব আলী পার্কে’। সেখানে তিনি ফুল দিয়ে আলতাব আলীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে তিনি পার্কে জড়ো হওয়া দলীয় নেতাকর্মী ও উপস্থিত সাধারণ বাংলাদেশিদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন।
তবে এই সেমিনার ও দুই নেতার আগমনকে ঘিরে লন্ডনে এক ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনাও ছড়াচ্ছে। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতা সুশান্ত দাসগুপ্ত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সেমিনারে অংশ নিতে আসা সাদিক কায়েম ও হাসনাত আব্দুল্লাহকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে ‘মিশন বাদাম’ নামে একটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। যদিও গতকাল সাদিক ও হাসনাত হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সময় সেখানে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীকে দেখা যায়নি। এমনকি দুপুরে বাংলাদেশি অধ্যুষিত আলতাব আলী পার্কে হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রকাশ্য সমাবেশ করলেও সেখানে আওয়ামী লীগের কেউ এসে কোনো ধরনের প্রতিহত করার চেষ্টা করেনি।
তবে ভেতরে ভেতরে উত্তেজনা তৈরি করতে শুক্রবার রাতে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক আ স ম মিসবাহর নেতৃত্বে তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা লন্ডনের বিভিন্ন রাস্তায় মহড়া দিয়েছেন। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী গভীর রাতে হাসনাত ও সাদিককে খোঁজার জন্য লন্ডনের বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে মহড়া দেয়। সুশান্ত দাসগুপ্তের নেতৃত্বে আগামীকাল অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ডাকসু ভিপি ও হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপিকে প্রতিহত করতে নানা ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তারা এই দুই ছাত্রনেতাকে যেখানেই পাবে, সেখানেই হেনস্তা করার পরিকল্পনা করেছে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে আগামীকালকের সেমিনারকে ঘিরে প্রবাসীদের উচ্ছ্বাসের সমান্তরালে এক চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
