logo
Advertisement

ফ্রান্সে রাষ্ট্রদূত পদে আরও ১৫ মাস থাকছেন খন্দকার তালহা

সাইফুল ইসলাম রনি
সাইফুল ইসলাম রনিফ্রান্স
ফ্রান্সে রাষ্ট্রদূত পদে আরও ১৫ মাস থাকছেন খন্দকার তালহা
ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার মোহাম্মদ তালহা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার মোহাম্মদ তালহাকে আরও প্রায় ১৫ মাসের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আগামী ৩ অক্টোবর ২০২৬ থেকে তাঁর নতুন চুক্তির মেয়াদ শুরু হয়ে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বহাল থাকবে।

এ বিষয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারার আওতায় খন্দকার মোহাম্মদ তালহাকে ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, গ্রেড-১ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত অনুমোদিত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

প্রজ্ঞাপনের শর্ত অনুযায়ী, তার অভোগকৃত অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) এবং এ-সংক্রান্ত সুবিধা চুক্তির মেয়াদকালে স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অন্য কোনো পেশা বা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন না। কোনো সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারায় জনস্বার্থে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীকে চুক্তিভিত্তিক সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। আইনের এই ধারার অধীনেই খন্দকার তালহাকে নতুন মেয়াদে ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আইনের ৪৮ ধারায় অবসর গ্রহণের পর সাধারণভাবে পুনরায় সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে ৪৯ ধারায় জনস্বার্থে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিশেষ বিধান রয়েছে। ফলে অবসর-পরবর্তী পর্যায়ে থাকা কোনো কর্মকর্তাকে নির্দিষ্ট মেয়াদে চুক্তিভিত্তিক সরকারি দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়ার আইনগত সুযোগ রয়েছে।

খন্দকার মোহাম্মদ তালহা ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ফ্রান্সে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি মোনাকো ও আইভরি কোস্টে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্যারিসে ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।

ইউনেস্কোর সঙ্গেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি ইউনেস্কোর ৪৩তম সাধারণ সম্মেলনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

ফ্রান্সে রাষ্ট্রদূত হিসেবে তাঁর নতুন মেয়াদ শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে তাঁর দায়িত্ব অব্যাহত থাকবে।