logo
Advertisement

বৃদ্ধকে আশ্রয় দিতে নেওয়া যুবককে পেটানোর অভিযোগ মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
বৃদ্ধকে আশ্রয় দিতে নেওয়া যুবককে পেটানোর অভিযোগ মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে
মিল্টন সমাদ্দার ও (ডানে) ভুক্তভোগী কনটেন্ট ক্রিয়েটর নাহিদ হাসান। ছবি : ফেসবুক থেকে নেওয়া

সমাজের দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের আশ্রয় ও সাহায্যের কারণে ব্যাপক পরিচিত এবং নানা অনিয়মে জড়িত অভিযুক্ত মিল্টন সমাদ্দার আবারও আলোচনায়। এবার এক বৃদ্ধ নারীকে তার প্রতিষ্ঠান চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ারে আশ্রয় দিতে নিয়ে যাওয়া এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ করে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

Advertisement

ভুক্তভোগী ওই যুবকের নাম নাহিদ হাসান। তিনি ফসবুকে ‘উজান টিভি’তে বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে আলোচিত।

নাহিদ হাসান জানান, বৃদ্ধ এক নারীকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় মিল্টন সমাদ্দার পরিচালিত চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার প্রতিষ্ঠানে এনে মারধরের শিকার হন তিনি। এমনকি তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো টাকা চাওয়া হয়নি, এমন স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে তার এই পেজে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ হাসান এসব অভিযোগ করে জানান, ওই বৃদ্ধার চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে টানা তিন-চার দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। মানুষের কাছ থেকে অর্থ সহযোগিতা নিয়ে বৃদ্ধাকে ঢাকায় এনে ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’ প্রতিষ্ঠানে রাখার উদ্যোগ নেন।

নাহিদ দাবি করে বলেন, শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি বৃদ্ধাকে রাখার জন্য মাসে ১৮ হাজার টাকা দাবি করে। তারা সেই অর্থ দিতে রাজিও হন। এ বিষয়ে তিনি লেখেন, ‘প্রথমে তারা মহিলাকে রাখতে প্রতি মাসে ১৮০০০ হাজার টাকা দাবি করে। আমরা তাও দিতে রাজি হই। পরবর্তীতে তারা আবার না করে দেয়। আমি ফেসবুকে টাকা চাওয়ার বিষয় নিয়ে একটি পোস্ট করি। তারপর সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে মিল্টন সমাদ্দার আমাকে বলে জিডি নিয়ে আসেন ওনাকে রাখব। তখন পর্যন্ত সে আমাকে চেনে না।’

‘আমি কাগজপত্র রেডি করে ঢাকা রওনার সময় তাকে বিষয়টি অবগত করি। সে তখন আমাকে চিনতে পারে এবং যথেষ্ট ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে তার প্রতিষ্ঠানে যেতে বলে। আমরা আজ বুধবার রাত ২:৩৩ ঘটিকায় তার প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাই।’

অভিযোগ করে নাহিদ জানান, কথা বলার শুরুতেই মিল্টন সমাদ্দার তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। ফেসবুক পোস্টের কারণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে তাকে গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে মিল্টন সমাদ্দার তার গায়ে হাত তোলেন এবং চোখে আঘাত করেন বলে দাবি করেন নাহিদ। তার গেঞ্জি ধরে চড় মারা হয় এবং এতে বুকে ক্ষত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বুকে ক্ষত চিহ্নের একটি ছবিও তিনি পোস্টে সংযুক্ত করে দেন।

তিনি আরও জানান, তাকে ছাড়াতে এগিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানের কর্মী দেবাশীষও তার গলা চেপে ধরেন। এতে তার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। একই সময় তার সঙ্গে থাকা ইলিয়াস নামের আরেক ব্যক্তিকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাহিদের ভাষ্য, ‘আমরা এমন একটা জায়গায় আটকে গিয়েছি যেখানে টু-শব্দটুকু করার সুযোগ নেই। ২০-২৫ জন লোকের সামনে আমরা মাত্র তিনজন। আমাদের মারধরের সময় ওখানকার বৈদ্যুতিক লাইট বন্ধ করে দেয়। কিছুই করার ছিল না। কারণ ঐ জায়গাতে যাওয়া আসার রাস্তা একটাই। তাই বের হওয়ার কোনও পথ ছিলো না। এমন একটি নির্জন এলাকায় তার প্রতিষ্ঠান, দিনের আলোতে যেতেও আপনার গা শিউরে উঠবে। আমাদের অন্য রাস্তা দিয়ে বের হওয়ার পথ ছিল না।

কিছুক্ষণ পরে তারা আমার কাছ থেকে ভয় ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেয়। হয়তো তাদের পেজে দেখতে পারবেন।’

নাহিদ জানান, সেখানে যাওয়ার রাস্তা ও পরিবেশ দেখে আশঙ্কা হওয়ায় তিনি কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির কাছে লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে রাখেন এবং মোবাইলে অডিও রেকর্ড চালু করে পুরো ঘটনার অডিও রেকর্ড সংগ্রহ করেন।

তার অভিযোগ, পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক একটি স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়। ওই স্বীকারোক্তি প্রতিষ্ঠানটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজে প্রকাশ করা হয়ে থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।

নাহিদ বলেন, ওখান থেকে কোনোভাবে বের হয়ে এসে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিই। সেখানে চোখের পরীক্ষা ও এক্স-রে করি। প্রেসক্রিপশন ও ওষুধ নিয়ে এখন ঢাকাতেই আছি।

পোস্টের শেষে আক্ষেপ করে নাহিদ বলেন, ‘বৃদ্ধা মহিলাকে তারা রেখে দিয়েছে। কিন্তু আমরা এই উপকারের প্রতিদান পেয়েছি।’

নাহিদ হাসান গণমাধ্যমকে জানান, এ ব্যাপারে তিনি আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবছেন। আজ বুধবার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে এ ব্যাপারে বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

অভিযোগে বিষয়ে জানতে মিল্টন সমাদ্দারের ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’-এর ফেসবুক পেজে দেওয়া দুটি নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। এর মধ্যে একটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যটিতে কয়েকবার কল ঢুকলেও একবার কেটে দেয় এবং পরে না ধরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে হোয়াটঅ্যাপে অভিযোগ বিষয়ে জবাব জানতে বার্তা দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদনে হালনাগাদ করা হবে।

মিল্টন সমাদ্দারে যত অনিয়মের খবর প্রকাশিত হয়

২০২৪ সালে মিল্টন সমাদ্দার আলোচনায় আসেন। তিনি বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও করে নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করতেন তিনি। তবে সে সময়ই মানবিক কাজের আড়ালে মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রির মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া সাভারে জমি দখল, আর্থিক হিসাবে অস্বচ্ছতা, আশ্রিতদের হিসাবে গরমিল, বরিশালে চার্চ দখলের চেষ্টা, বৃদ্ধদের চিকিৎসা না দেওয়া, ডেথ সার্টিফিকেট জালিয়াতি, নিজের বাবা-মাকে মারধরের নানা অভিযোগ উঠে এসেছে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। রাজধানীর মিরপুর থানায় করা মানবপাচার আইনের মামলায় ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই জামিন পান তিনি।