জ্বালানি খাত অলিগার্কদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে: নাহিদ

সরকারের অদক্ষতা, পরিকল্পনাহীনতা ও মাফিয়া তোষণনীতির কারণে দেশের জ্বালানি খাত গভীর সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
বুধবার (১২ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপি সরকারের সঙ্গে লোডশেডিং শব্দটি আবার সমার্থক হয়ে উঠছে। ২০০১-২০০৬ মেয়াদেও আমরা দেখেছি, উৎপাদন না বাড়িয়ে বিতরণ লাইন বাড়ানোর অসমন্বিত উন্নয়ন। দুই দশক পরও শিক্ষা নেয়নি বিএনপি।
তিনি দাবি করেন, বর্তমানে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ লোডশেডিং চলছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ আগস্ট রাত ১টায় লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট। এর আগে ৯ আগস্ট ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট এবং ৩ আগস্ট ৩ হাজার ৫১২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল। এ ছাড়া ৪১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে এবং ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমেছে বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, গ্রামাঞ্চলে দিনে ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।
বেসরকারি খাতে জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, পছন্দের সরবরাহকারীর ব্যাপারে চাপ দিতে গিয়ে বিপিসিকে সময়মতো ক্রয় শিডিউলের অনুমোদনই দেয়নি সরকার। বেসরকারি মাফিয়াদের হাতে তুলে দিতে নিখুঁত পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ করতে না দাও—সংকট তৈরি হোক—বলো, সরকারি খাত পারছে না—বেসরকারি অলিগার্কের হাতে লাইসেন্স তুলে দাও।
বিএনপি সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে দাবি করে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী বসুন্ধরা অয়েল অ্যান্ড গ্যাস বড় পরিমাণে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ও নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতের অনুমতি চেয়ে সরকারকে চিঠি দিয়েছে। এরপর ৬ আগস্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) মাত্র চার দিন সময় দিয়ে ১০ আগস্টের মধ্যে ‘বেসরকারি খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়া জমা দিতে বলে।
এ বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, এর বিপক্ষে মত দিলে বিপিসির চেয়ারম্যানকে অন্যায়ভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। একটি জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নীতিমালার খসড়ার জন্য চার দিন হচ্ছে বিএনপির সুশাসনের নমুনা।
মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) আগুন লাগার পর দৈনিক ৫১ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ৫ আগস্ট আংশিক সরবরাহ পুনরায় চালু হয়। অর্থাৎ সরবরাহ আংশিকভাবে স্বাভাবিক হতে ১৫ দিন সময় লাগে।
নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন করেন, রক্ষণাবেক্ষণে ত্রুটি ছিল কি না, তার স্বাধীন তদন্ত হয়েছে কি? প্রতিবেদন কোথায়? দেশের গ্যাস সরবরাহের এক-চতুর্থাংশ যে দুটি টার্মিনালের ওপর নির্ভরশীল, তার একটি বসে গেলে ১৫ দিন লাগল আংশিক পুনরুদ্ধারে। এই দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা কি একটি রাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য?
তড়িঘড়ি বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, জ্বালানি খাত জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। এখানে ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দেন কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, ছোট ব্যবসায়ীসহ দেশের ১৮ কোটি মানুষ। সরকারের অদক্ষতা, পরিকল্পনাহীনতা ও মাফিয়া তোষণনীতির কারণে এ খাত আজ গভীর সংকটে।
তিনি বলেন, সরকারের প্রথম দায় জনগণের প্রতি, কোনো ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রতি নয়। এই সহজ কথাটি পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার ভুলে গিয়েছিল। বিএনপি সরকারও ভুলে যাওয়ার পথে। মাফিয়া তোষণের মূল্য বাংলাদেশ একবার দিয়েছে, আর নয়। এবারের ভুল, ব্যর্থতা ও অলিগার্ক তোষণের নীতি এনসিপি রুখে দাঁড়াবে।
.png)


