Advertisement

মধ্যরাতে আবেগঘন বিদায়ী বার্তা রা‌কি‌বের

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
মধ্যরাতে আবেগঘন বিদায়ী বার্তা রা‌কি‌বের
রফিকুল ইসলাম রাকিব। ছবি: সংগৃহীত

কেন্দ্রীয় সংসদের মেয়াদ সমাপ্তির দিকে ইঙ্গিত দিয়ে এক আবেগঘন ও সম্মানজনক বিদায়ী বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রফিকুল ইসলাম রাকিব।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসে এ বার্তা দেন তিনি।

দীর্ঘ সময় কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের স্মৃতি স্মরণ করে তিনি দলীয় হাইকমান্ড, সহযোদ্ধা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, অত্যন্ত সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে তাদের দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। তিনি ছাত্রদলের মূল সফলতা হিসেবে ২০২৪ সালের ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’-এ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বয় করে বীরোচিত ভূমিকা পালনকে উল্লেখ করেন।

বিদায়ী স্ট্যাটাসে তিনি দলীয় নীতি-নির্ধারণী নেতৃত্ব, বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া বিএনপির শীর্ষ নেতা, বিদায়ি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও ঢাকা মহানগরসহ মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

নেতাকর্মীদের সততা ও নিষ্ঠার প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রচণ্ড আর্থিক টানাপড়েনের মাঝেও আমার সহযোদ্ধারা সততা ও নিষ্ঠার সাথে ইউনিট পরিচালনা করেছে। নিজেরা সৎ থাকার পাশাপাশি অন্য কর্মীদেরও নীতি-আদর্শের পথে চলতে অনুপ্রাণিত করেছে। তাদের নিয়ে আমি আমৃত্যু গর্বিত, কারণ কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত শিরোনাম তাদের নামের পাশে যুক্ত হয়নি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতিবাচক ছাত্র রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য তারা সবসময় কাজ করেছেন। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ কোনো শিক্ষার্থী সমস্যায় পড়ে যোগাযোগ করলে সাধ্যমতো সমাধানের চেষ্টা করার দাবি জানাই।

পাশাপাশি, ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে মব কালচার মোকাবিলা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার সাইবার বুলিং ও ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে নেতৃত্ব দেওয়াকে তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নিজের অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটির জন্য সবার কাছে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি প্রার্থনা করেছেন তিনি। জীবনের নতুন অধ্যায়ে নিজেকে আরও বেশি পরিশোধিত, মানবিক ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি লেখেন, একটা নতুন জীবন শুরু করতে চাই। নিজেকে আরও বেশি পরিশুদ্ধ ও সততার সাথে গড়ে তুলতে চাই। দায়িত্ব পালনকালে কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল।

অবশেষে, ছাত্রদলের আসন্ন নতুন কমিটিকে সবাই যেন সাদরে গ্রহণ করে এবং দেশের ছাত্র রাজনীতিকে এগিয়ে নেয়—এমন প্রত্যাশার মধ্য দিয়েই তিনি তার বার্তা শেষ করেন।