logo
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা

নারীদের দ্বিগুণ অস্বাস্থ্যকর খাবার খান পুরুষরা, বাড়ছে হৃদরোগ-ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

• ভাজাপোড়া খাবারে নারীদের হার ২৯.৬ শতাংশ, পুরুষদের ৫৭.৮ শতাংশ

• কোমল পানীয়তে নারীদের হার ৩৫.৩ শতাংশ, পুরুষদের ৭৭.৩ শতাংশ

• মিষ্টিজাতীয় খাবারেও এগিয়ে পুরুষরা

• বাড়ছে স্থূলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী

নারীদের দ্বিগুণ অস্বাস্থ্যকর খাবার খান পুরুষরা, বাড়ছে হৃদরোগ-ডায়াবেটিসের ঝুঁকি
কোলাজ ছবি: এশিয়া পোস্ট

দেশে নারীদের চেয়ে দ্বিগুণ অস্বাস্থ্যকর খাবার খান পুরুষরা। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভাজাপোড়া, কোমল পানীয় ও মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে পুরুষদের হার বেশি। এমন খাদ্যাভ্যাস হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘প্লস ওয়ান’-এ গত বছরের ডিসেম্বরে এই গবেষণা প্রকাশিত হয়। এতে ২০ থেকে ৫৯ বছর বয়সি কর্মক্ষম নারী ও পুরুষের খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

‘বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নজরদারি প্রকল্প (২০১৮-২০১৯)’-এর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণা চালানো হয়। দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগ থেকে ৯ হাজার ৯৮৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এতে অংশ নেন। এর মধ্যে পুরুষ চার হাজার ৯১৭ জন, নারী পাঁচ হাজার ৬৯ জন।

গবেষকরা জানিয়েছেন, শহর ও গ্রামের দ্রুত নগরায়ণ, ফাস্টফুডের বিজ্ঞাপন, সহজলভ্যতা ও কম দামের কারণে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যগ্রহণের হার দ্রুত বাড়ছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, তেলেভাজা ও প্রক্রিয়াজাত ভাজাপোড়া খাওয়ার অভ্যাসে পুরুষদের হার নারীদের প্রায় দ্বিগুণ। সপ্তাহে এক দিন প্রক্রিয়াজাত ভাজাপোড়া খাওয়ার হার নারীদের ক্ষেত্রে ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৫৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহবুব কবির মিলন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘মেয়েরা তো বাইরে বসে এত ভাজাপোড়া খায় না। কিন্তু সারা দেশের কোটি কোটি হোটেলে সারাক্ষণ পুরুষদের ভিড় লেগে থাকে। সেই হিসাবে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের বাইরে এমন অখাদ্য খাওয়ার হার অন্তত এক হাজার গুণ বেশি।’

চিনিযুক্ত কোমল পানীয় পানের ক্ষেত্রেও পুরুষদের হার বেশি। নারীদের মধ্যে ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ কোমল পানীয় গ্রহণ করেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ৭৭ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ নারীদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি পুরুষ সফট ড্রিংকস পান করছেন।

চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণেও পুরুষদের হার বেশি। এ ক্ষেত্রে পুরুষদের হার ৭৫ দশমিক ২ শতাংশ। নারীদের হার ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

গবেষক দলের প্রধান ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যালয়ের পরিচালক মলয় কান্তি মৃধা। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘পুরুষদের যেহেতু বাইরে চলাফেরা বেশি, তাই তাদের কর্মক্ষেত্র, সড়ক বা রিকশা চালানোর মতো কাজের জায়গার আশপাশে এই খাবারগুলো খুব সহজে পাওয়া যায়। আমরা গবেষণায় প্রধানত তিন ধরনের খাবার নিয়ে কাজ করেছি; ফ্রায়েড স্ন্যাক্স, সুইট স্ন্যাক্স এবং সুগার-সুইটেনড বেভারেজ। এসব অস্বাস্থ্যকর খাবারের দাম তুলনামূলক কম, পক্ষান্তরে স্বাস্থ্যকর অপশন একেবারেই পাওয়া যায় না। পাওয়া গেলেও দাম অনেক বেশি। তাই বাধ্য হয়ে মানুষ এগুলো খান। এর পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক দিকও রয়েছে। নারীদের মধ্যে পুরুষদের তুলনায় স্বাস্থ্য সচেতনতা কিছুটা বেশি।’

গবেষকেরা জানিয়েছেন, সিঙাড়া, পেঁয়াজু, চিপস ও চানাচুরের মতো ভাজাপোড়া নোনতা খাবার এবং বিস্কুট ও কেকের মতো মিষ্টি খাবারে উচ্চমাত্রায় লবণ, চিনি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। এসব খাবারে প্রয়োজনীয় খাদ্য আঁশের (ডায়েটরি ফাইবার) মারাত্মক অভাব রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, দৈনিক মোট খাদ্যশক্তির ৫ থেকে ১০ শতাংশের কম চিনি গ্রহণ করা উচিত। বাংলাদেশে তা বহুগুণ বেশি গ্রহণ করা হচ্ছে।

হোটেল-রেস্তোরাঁয় দিনের পর দিন একই তেল ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব বর্ণনা করতে গিয়ে মাহবুব কবির মিলন বলেন, ‘আমাদের দেশের তরুণরা প্রতিদিন যে হারে দোকানে বসে পরোটা, শিঙাড়া, সমুচা ও ভাজাপোড়া খাচ্ছে সেগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক। হোটেলগুলোতে ভাজতে ভাজতে তেল কালো হয়ে একপর্যায়ে মোবিল হয়ে যায়। আর তেল যত মোবিল হবে, ট্রান্সফ্যাট তত বাড়বে। পরোটা তো ডালডা ছাড়া ভাজাই হয় না, অথচ সাধারণ তেলের চেয়ে ডালডায় ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি ট্রান্সফ্যাট থাকে। পাম অয়েল ও বনস্পতি আরও ক্ষতিকারক।’

বেশি ঝুঁকিতে পুরুষরা

অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের প্রবণতার পেছনে শিক্ষা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান এবং কিছু জীবনযাত্রাগত আচরণ প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছে। তবে গবেষণায় কিছু লিঙ্গভিত্তিক ভিন্নতা উঠে এসেছে।

পুরুষদের ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয় গ্রহণে ধূমপানের অভ্যাস বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। অন্যদিকে ফল ও শাকসবজি কম খাওয়া, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বা অলস সময় কাটানো, উচ্চ রক্তচাপ এবং হাঁপানির মতো স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলো চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

খোলা বাজার ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবারের অনিয়মের কথা তুলে ধরে মাহবুব কবির মিলন বলেন, ‘আমাদের দেশে ফাস্টফুড বা স্ট্রিট ফুড বানানো হয় নালা-নর্দমার পানি দিয়ে অথবা তাতে ড্রেনের পানি মেশে। তার চেয়েও বড় বিপদের কারণ হলো যে তেলে ভাজা হয়, সেই তেল ভরা হেভি মেটাল (ভারী ধাতু) ও ট্রান্সফ্যাটে। তেলের ভেতরে থাকা হেভি মেটাল মানুষকে ক্যানসারের দিকে নিয়ে যায়, আর ট্রান্সফ্যাট বাড়ায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি।’

দ্রুত পরিবর্তনশীল জীবনযাত্রায় অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অসংক্রামক রোগ বাড়ার অন্যতম কারণ। তাই প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ কমাতে কৌশলগত নীতিনির্ধারণ ও জনসচেতনতা তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন গবেষকরা।

অস্বাস্থ্যকর খাবার পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে উল্লেখ করেন গবেষক দলের প্রধান মলয় কান্তি মৃধা। তিনি বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে, কোকাকোলা বা এ ধরনের সফট ড্রিঙ্কস এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় বীর্যে শুক্রাণুর ঘনত্ব ও মোটিলিটি বা চলনশক্তি কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে খাবারে থাকা ট্রান্সফ্যাট বীর্যের কোয়ালিটি নষ্ট করার পাশাপাশি পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এর প্রভাব কিন্তু শুধু এক প্রজন্মে সীমাবদ্ধ নয়, এটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কারণ শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী প্রজন্মের স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যতে তারা কী ধরনের অসুখ-বিসুখে ভুগবে। ফলে প্রক্রিয়াজাত খাবার সরাসরি আগামীর প্রজন্মের ওপরও খারাপ প্রভাব ফেলছে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মক্ষম বয়সে চর্বি ও চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে পুরুষদের মধ্যে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনির মতো অসংক্রামক রোগের (এনসিডি) ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়ছে। দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭৩ শতাংশই ঘটছে এসব অসংক্রামক রোগে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অস্বাস্থ্যকর ও ভেজাল খাদ্য প্রতিরোধে আইনের শক্ত প্রয়োগের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। চিনিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রভাব নিয়ে তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘চিনিযুক্ত খাবারের ব্যাপ্তি কেবল অসংখ্য স্বাস্থ্যগত জটিলতাই তৈরি করছে না, বরং আগামী দিনগুলোতে জাতীয় স্বাস্থ্য বাজেটের ওপরও এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে যাচ্ছে। প্রসেসড ফুড ও মিষ্টিযুক্ত পানীয়তে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও চর্বি থাকে, যা স্থূলতা ও উচ্চ রক্তচাপ বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে। ফলে অসংক্রামক রোগের এই ক্রমবর্ধমান চেইন সাধারণ মানুষের চিকিৎসা খরচ বহুগুণে বাড়িয়ে দিচ্ছে।’

কোমল পানীয় ও স্থূলতা

শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়েই কোমল পানীয় তথা চিনিযুক্ত পানীয় পানে প্রতিবছর স্থূলতা সম্পর্কিত প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের (এইচএসপিএইচ) গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

এইচএসপিএইচ’র তথ্য অনুযায়ী, কোমল পানীয় পানে প্রতি বছর অন্তত ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ স্থূলতা, ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগে মারা যায়। এসব মৃত্যুর প্রায় ৭৮ শতাংশই ঘটছে বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তুলনা টেনে মাহবুব কবির মিলন বলেন, ‘উন্নত দেশগুলোতে মানসম্মত উপকরণ দিয়ে তৈরি ফাস্টফুড বা জাংক ফুড খেয়ে যেখানে মানুষ মারাত্মক রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে চরম ভেজাল উপকরণ ও ক্ষতিকর পোড়া তেলে তৈরি খাবার তরুণ ও পুরুষদের অকালমৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইউরোপ বা জাপানের খাদ্য উপকরণ আমাদের দেশের মতো ১০০ ভাগ ভেজাল নয়। এত ভালো তেল ও পুষ্টিকর উপকরণ দিয়ে তৈরি জাংক ফুড খেয়ে যদি সেখানকার মানুষ আক্রান্ত হয়, তাহলে আমাদের দেশের অবস্থা কতটা চরমে।’

অসংক্রামক রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি সরাসরি স্বাস্থ্য বাজেটে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। আগামী দিনগুলোতে ব্যক্তিগত ও সরকারি উভয় খাতেই চিকিৎসা ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানান তিনি।

তামাকের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি বলেন, ‘তামাক ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট অসংক্রামক ব্যাধি স্বাস্থ্য খাতে বিশাল খরচের বোঝা তৈরি করেছে। চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের ক্ষেত্রেও ঠিক একই চিত্র সামনে আসছে। এর ফলে জনগণের নিজের পকেট থেকে চিকিৎসার খরচ বাড়ার পাশাপাশি সরকারের ওপরও বাজেট বরাদ্দ বাড়ানোর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে।’

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে বিদ্যমান আইন প্রয়োগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন মাহবুব কবির মিলন। সাধারণ মানুষের সচেতনতার ওপরও জোর দেন তিনি। এই স্বাস্থ্যঝুঁকির জন্য আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতা ও তদারকির অভাবকে দায়ী করেন তিনি।

মাহবুব কবির মিলন বলেন, ‘মেরুদণ্ডহীন, দুর্নীতিবাজ ও দলদাস কোনো সংস্থা দিয়ে কখনও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এটি আমাদের ধ্বংসের মূল কারণ। বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো বজায় থাকলে কোনো সরকারি বিভাগ দিয়ে মানুষের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা যাবে না।’

করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে মাহবুব কবির মিলন বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে বিদ্যমান যে শক্ত আইন আছে, তাকে আরও শক্তিশালী করে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং জনগণকে সচেতন করতে হবে। তার চেয়ে বড় বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএর (ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) মতো একটি স্বাধীন ও শক্ত মেরুদণ্ডের কর্তৃপক্ষ তৈরি করতে হবে।’

অস্বাস্থ্যকর খাবারের অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কথাও মনে করিয়ে দেন মলয় কান্তি মৃধা। তিনি বলেন, ‘অস্বাস্থ্যকর খাবার অসংক্রামক রোগের মূল চালিকাশক্তি। অতিরিক্ত চর্বি, ট্রান্সফ্যাট ও লবণযুক্ত খাবারের কারণে উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক, ব্রেন স্ট্রোক, কিডনি ও লিভারের রোগ এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার বাড়ছে। এর সঙ্গে কায়িক পরিশ্রম না করা, ধূমপান, বায়ুদূষণ তো আছেই। জীবনাচরণ ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে এসব রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। আমরা যদি এখনই সচেতন না হই, তবে অসংক্রামক রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকবে। এখনই আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চরম চাপের মুখে। ভবিষ্যতে এ পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হবে, তা কল্পনারও বাইরে।’

নীতিনির্ধারকদের প্রতি পাঁচ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন গবেষক দলের প্রধান মলয় কান্তি মৃধা। সুপারিশগুলো হলো: খাবারে অতিরিক্ত চিনি ও লবণ চিহ্নিত করে তা কমিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া। প্যাকেটের ওপর পরিষ্কার নির্দেশনা বা চিহ্ন রাখা, যাতে মানুষ দেখে বুঝতে পারে খাবারটি স্বাস্থ্যকর নাকি অস্বাস্থ্যকর। সুগার-সুইটেনড বেভারেজ বা সফট ড্রিঙ্কসের ওপর বেশি হারে ট্যাক্স বসানো, যাতে মানুষের খাওয়ার প্রবণতা কমে। ট্রান্সফ্যাট কমানোর যে আইন ও বিএসটিআই মানদণ্ড তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা। ফলমূল ও শাকসবজির মতো স্বাস্থ্যকর খাবারের সহজলভ্যতা বাড়ানো। বিশেষ করে বিদেশি ফল বা স্বাস্থ্যকর খাদ্যের ওপর থেকে অতিরিক্ত ট্যাক্স কমিয়ে সেগুলোর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা।