logo

সিলেট টেস্ট জিততে বিশ্বরেকর্ড ভাঙতে হবে পাকিস্তানকে

সিলেট টেস্ট জিততে বিশ্বরেকর্ড ভাঙতে হবে পাকিস্তানকে
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে পাকিস্তানের সামনে এখন শুধু কঠিন নয়, ইতিহাস বদলে দেওয়ার সমীকরণ। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট জিততে হলে চতুর্থ ইনিংসে ৪৩৭ রান করতে হবে সফরকারীদের। টেস্ট ইতিহাসে এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে কখনো কোনো দল জেতেনি।

তৃতীয় দিন শেষে তাই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিন শেষের আগে পাকিস্তান ২ ওভার ব্যাট করে কোনো রান তুলতে পারেনি। আজান আওয়াইস ৬ বলে ০ ও আবদুল্লাহ ফজল ৬ বলে ০ রানে অপরাজিত আছেন। পাকিস্তানের প্রয়োজন এখনো ৪৩৭ রান, হাতে আছে ১০ উইকেট ও দুই দিন ।

দিনটা মূলত বাংলাদেশের করে দেন টাইগারদের অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। ৪ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ একসময় লিটন দাসের সঙ্গে জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। লিটন ৬৯ রানে ফিরলেও মুশফিক থামেননি। নিচের সারির ব্যাটসম্যানদের নিয়ে ধৈর্য ধরে ইনিংস বড় করেছেন, পাকিস্তানের ক্লান্ত বোলারদের আরও দীর্ঘ সময় মাঠে রেখেছেন। শেষ পর্যন্ত ২৩৩ বলে ১২ চার ও ১ ছক্কায় ১৩৭ রান করে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তিনি। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ৩৯০ রানে।

এই ইনিংসেই বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নতুন উচ্চতায় উঠেছেন মুশফিক। ১৭৮ বলে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি। তাতেই মুমিনুল হককে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিক হন তিনি। ৮৪তম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসকে চার মেরে তিন অঙ্কে পৌঁছান মুশফিক।

বাংলাদেশের জন্য দিনটি অবশ্য গড়ে ওঠে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে। সকালে নাজমুল হোসেন শান্ত দ্রুত ফেরার পর মুশফিক ও লিটন পঞ্চম উইকেটে ১২৩ রানের জুটি গড়েন। লিটন ৯২ বলে ৬৯ রান করে আউট হন। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ১৯, তাইজুল ইসলাম ২২, শরিফুল ইসলাম ১২ রান যোগ করেন। এসব ছোট জুটিতেই বাংলাদেশের লিড দ্রুত চারশ ছাড়িয়ে যায়।

চা-বিরতির সময়ই বাংলাদেশ ছিল ৬ উইকেটে ৩০৭, মুশফিক তখন ৯০ রানে অপরাজিত। শেষ সেশনে তিনি শুধু সেঞ্চুরি পূর্ণ করেননি, ইনিংসটাকে বড় করে পাকিস্তানের সামনে প্রায় অসম্ভব লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছেন। ৯২.১ ওভারে তাইজুল ফেরার পরও মুশফিক তাসকিন, শরিফুল ও নাহিদ রানাকে নিয়ে রান বাড়িয়েছেন।

পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে খুররম শাহজাদ ৮৬ রানে ৪ উইকেট নেন। তবে তাঁর ১০টি নো-বল সফরকারীদের জন্য বাড়তি ক্ষতি হয়ে দাঁড়ায়। সাজিদ খান ১২৬ রানে ৩ উইকেট নেন, হাসান আলী পান ২ উইকেট। কিন্তু বাংলাদেশের লিড থামানোর মতো ধার শেষ বিকেলে তাদের আক্রমণে আর ছিল না।