মুমিনুলকে টপকে সিলেটে মুশফিকের রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরি

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে ব্যাট হাতে আরও একবার নিজের নাম আলাদা করে লিখলেন মুশফিকুর রহিম। সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে চাপ, সময় আর ম্যাচের পরিস্থিতি সব সামলে তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি। এই সেঞ্চুরিতেই মুমিনুল হককে টপকে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি শতকের মালিক এখন মুশফিক।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৪তম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসকে বাউন্ডারি মেরে তিন অঙ্কে পৌঁছান মুশফিক। ১৭৯ বলে পূর্ণ হয় তার সেঞ্চুরি। শতকের সময় তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ১টি ছক্কা।
এই ইনিংস শুধু মুশফিকের ব্যক্তিগত মাইলফলকের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও আরও শক্ত করে দিয়েছে বাংলাদেশের হাতে। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান ২৩২ রানে অলআউট হওয়ার পর বাংলাদেশ করে ২৭৮। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ৩৩৩ রান তুলে স্বাগতিকদের লিড দাঁড়িয়েছে ৩৭৯ রানে।
মুশফিকের ইনিংসের সবচেয়ে বড় দিক ছিল ধৈর্য আর পরিস্থিতি বুঝে খেলার ক্ষমতা। ৬ উইকেটে ২৭২ রানে মেহেদী হাসান মিরাজ ফেরার পর বাংলাদেশকে আর ধাক্কা খেতে দেননি তিনি। তাইজুল ইসলামকে নিয়ে সপ্তম উইকেটে ১০০ বলে অবিচ্ছিন্ন ৬১ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান।
এর আগে ৬০তম ওভারে সাজিদ খানের বলে দুই রান নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩০তম ফিফটি পূর্ণ করেন মুশফিক। সেখান থেকে আর তাড়াহুড়ো করেননি। ধীরে ধীরে ইনিংস গড়েছেন, খারাপ বল পেলে বাউন্ডারি নিয়েছেন, আর পাকিস্তানের পেস-স্পিন আক্রমণকে ক্লান্ত করেছেন।
৭২তম ওভারে সাজিদকে লং অন দিয়ে চার মেরে রানের গতি বাড়ান মুশফিক। একই ওভারে দুই রান নিয়ে পেশাদার ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। এরপর ৭৫তম ওভারে খুররম শাহজাদের পরপর দুই বলে দুটি বাউন্ডারি মেরে আশির ঘরে পৌঁছে যান।
নতুন বলের সময়েও মুশফিক ছিলেন স্থির। ৮০তম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসের বলে এলবিডব্লুর আবেদন থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যান তিনি। বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায়, বল স্টাম্পের ওপর দিয়ে সামান্য বেরিয়ে যাচ্ছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরে সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক।



