তিন দিনে ৯ পদত্যাগ, নতুন বিতর্কে অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন

তিন দিনে নয়জন কর্মকর্তার পদত্যাগে অস্থির বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। এর মধ্যেই বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের কাছে কাউন্সিলর তালিকা হালনাগাদের চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি। অথচ এমন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কথা জানেন না বলে দাবি করেছেন মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা।
গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থেকে বিওএতে শুরু হয় পদত্যাগের ধারাবাহিকতা। প্রথম দুই দিনে ছয়জন সরে দাঁড়ানোর পর বৃহস্পতিবার আরও তিনজন পদত্যাগ করেন। সব মিলিয়ে তিন দিনে নয়জন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশের একটি সংবাদমাধ্যম। বিওএর নির্বাহী কমিটিতে মোট ৩৭টি পদ থাকলেও গত নির্বাচনে ৩৬ জনকে নিয়ে কমিটি গঠিত হয়েছিল। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) প্রতিনিধির পদটি তখন শূন্য ছিল।
সর্বশেষ পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিওএর সহসভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য ফারহাদ জেসমিন লিটি এবং অলিম্পিয়ান কোটায় নির্বাচিত সদস্য শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকি।
নাঈম আশফাক পদত্যাগের কারণ হিসেবে পেশাগত ব্যস্ততার কথা জানিয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) সহ-উপাচার্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন তিনি। নতুন দায়িত্বের কারণে বিওএতে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।
অন্যদিকে ফারহাদ জেসমিন লিটি পদত্যাগপত্রে ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করলেও বিওএর পরিচালনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ, মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা ও সহসভাপতি ইমরোজ আহমেদ নিজেদের ইচ্ছামতো সংস্থাটি পরিচালনা করছেন। কমিটিতে অন্য যোগ্য ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও বিদেশ সফরে নির্দিষ্ট কয়েকজনই বারবার সুযোগ পাচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে লিটির এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার নির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পদত্যাগের এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনে পাঠানো বিওএর একটি চিঠি। গত ১৮ জুলাই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ২৬টি ক্রীড়া ফেডারেশন ও বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থাসহ মোট ২৭টি ক্রীড়া সংগঠনের অ্যাডহক কমিটি পুনর্গঠন করে। এতে নতুন দায়িত্ব পাওয়া অনেক কর্মকর্তা বিওএর বর্তমান নির্বাহী কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব করছেন না। ফলে ফেডারেশনগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এরই মধ্যে কাউন্সিলর তালিকা হালনাগাদ করতে ফেডারেশনগুলোর কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বিওএ। সংস্থাটির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এবিএম শেফাউল কবীরের স্বাক্ষরে পাঠানো চিঠি কয়েকটি ফেডারেশন পেয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা পোস্ট ও যুগান্তর।
তবে এই চিঠির বিষয়ে অবগত নন বলে দাবি করেছেন বিওএর মহাসচিব রানা। তিনি বলেন, ‘এরকম চিঠি দেওয়া হয়েছে, আমি জানি না।’
মহাসচিবের এমন বক্তব্য বিওএর অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। তবে মহাপরিচালক কোন প্রক্রিয়ায় চিঠিটি পাঠিয়েছেন, সে বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। চিঠি পাঠানোর মাধ্যমে নির্বাহী কমিটিতে পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।
গত বছরের নভেম্বরে চার বছরের মেয়াদে গঠিত হয়েছিল বিওএর বর্তমান নির্বাহী কমিটি। কিন্তু এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই এতসংখ্যক কর্মকর্তার পদত্যাগে সংস্থাটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও ফেডারেশনগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
