বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে হৃদয়ের অনন্য কীর্তি

সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলেও এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন তাওহিদ হৃদয়। সকালের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে তুলে নিয়েছিলেন টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম শতক। তবে সেখানেই থামলেন না বাংলাদেশের এই তরুণ ব্যাটার। সেঞ্চুরিকে রূপ দিলেন ডাবল সেঞ্চুরিতে, গড়লেন নতুন ইতিহাস।
বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে নিজের প্রথম টেস্ট শতককেই দ্বিশতকে পরিণত করলেন হৃদয়। একই সঙ্গে দেশের চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে ২০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে এই কীর্তি গড়েন হৃদয়। ইনিংসের শততম ওভারের প্রথম বলে জোমেল ওয়ারিক্যানকে লং অফে ঠেলে এক রান নিয়ে পূর্ণ করেন ডাবল সেঞ্চুরি। ১০০ ওভার শেষে ৩০৮ বলে ২০১ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ৮ উইকেটে ৩৩৩ রান।
এর আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন কেবল তিনজন। মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। তাদের মধ্যে মুশফিকের রয়েছে তিনটি দ্বিশতক। সাকিব ও তামিম করেছেন একটি করে। হৃদয়ের ব্যাটে এলো বাংলাদেশের ষষ্ঠ টেস্ট ডাবল সেঞ্চুরি।
২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে দ্বিশতক করেছিলেন মুশফিক। পরে ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এবং ২০২০ সালে একই দলের বিপক্ষে আরও দুটি ডাবল সেঞ্চুরি করেন তিনি। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েলিংটনে ২১৭ রান করেছিলেন সাকিব। আর ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনায় ২০৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম।
তবে হৃদয়ের কীর্তি একটু ভিন্ন। আগের তিন ব্যাটারই টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম শতক পাওয়ার পর অন্য ম্যাচে দ্বিশতক করেছিলেন। হৃদয় প্রথম শতক পাওয়ার দিনেই পৌঁছে গেলেন ২০০ রানে।
অথচ দিনের শুরুতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ছিল কঠিন। আগের দিনের ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে স্বাগতিকরা। হৃদয় তখন অপরাজিত ছিলেন ২৯ রানে। এরপর মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ দ্রুত ফিরে গেলে আরও বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে ৭ উইকেটে ২০৫ রান তুলেছিল স্বাগতিকরা। হৃদয় তখন ১৭১ বলে ১০০ রানে অপরাজিত। দ্বিতীয় সেশনে তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস আরও বড় করেন তিনি। দলের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি এগিয়ে যেতে থাকেন ব্যক্তিগত মাইলফলকের দিকেও।
ক্যারিবীয় বোলারদের সামনে দুর্দান্ত ধৈর্য ও মনোযোগের পরিচয় দেন হৃদয়। কখনো রক্ষণাত্মক ব্যাটিংয়ে উইকেট আগলে রেখেছেন, আবার সুযোগ পেয়ে বাউন্ডারি আদায় করেছেন। সতীর্থদের ব্যর্থতার মধ্যেও নিজের ছন্দ ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যান দ্বিশতকে।
টেস্ট ক্রিকেটে হৃদয়ের পথচলা খুব বেশি দিনের নয়। চলতি বছরের জুনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেক হয়েছিল তার। মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই এমন ঐতিহাসিক ইনিংস উপহার দিলেন এই তরুণ।
অবশ্য প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বড় ইনিংস খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে হৃদয়ের। গত সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা 'এ' দলের বিপক্ষে পচেফস্ট্রুমে বাংলাদেশের হয়ে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণেও নিজের সামর্থ্যের বড় প্রমাণ দিলেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৩৫৬ রানের জবাবে একপর্যায়ে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে হৃদয়ের অসাধারণ ইনিংসে সেই ব্যবধান কমে এসেছে মাত্র ২৩ রানে।
ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে শুরু হওয়া ব্যক্তিগত লড়াই শেষ পর্যন্ত রূপ নিয়েছে দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ইনিংসে। প্রথম টেস্ট শতকেই দ্বিশতক করে বাংলাদেশের রেকর্ড বইয়ে নিজের নাম লিখিয়ে রাখলেন তাওহিদ হৃদয়।

