এশিয়া পোস্টে খবর প্রকাশের পর বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি চালুর সিদ্ধান্ত বিসিবির

মা হওয়ার পরও ক্রিকেটে ফেরার স্বপ্ন ছিল সুরাইয়া আজমিন ছন্দার। সেই লক্ষ্যেই অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় নিজেকে ফিট রাখার চেষ্টা করেছিলেন জাতীয় দলের এই পেসার। কিন্তু সন্তান জন্মের মাসেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চুক্তি থেকে বাদ পড়েন তিনি। মাতৃত্বকালীন ছুটির জন্য আবেদন করেও পাননি কোনো সাড়া। ক্রিকেটার ছন্দার সেই বঞ্চনার গল্প তুলে ধরেছিল এশিয়া পোস্ট। প্রতিবেদন প্রকাশের দেড় মাসের মাথায় এবার নারী ক্রিকেটারদের জন্য বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটির নীতিমালা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর ‘মা হওয়ার পর মঞ্জুর হলো মাতৃত্বকালীন ছুটি’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে এশিয়া পোস্ট। সাড়ে তিন মিনিটের ভিডিও প্রতিবেদনে জাতীয় দলের পেসার সুরাইয়া আজমিনের অভিজ্ঞতা এবং বিসিবিতে মাতৃত্বকালীন ছুটির সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন এশিয়া পোস্টের হেড অব স্পোর্টস সাজ্জাদ খান। এশিয়া পোস্ট স্পোর্টসের ফেসবুক পেজে ভিডিওটি আট লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে।

বিসিবির ন্যাশনাল চুক্তিতে থাকা অবস্থায় গত আগস্ট মাসে মা হন বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলা পেস বোলার সুরাইয়া আজমিন। বিকেএসপির সাবেক শিক্ষার্থী আশা করেছিলেন আইসিসি গাইডলাইন অনুযায়ী মাতৃত্বকালীন ছুটি মঞ্জুর করবে বোর্ড। মে মাসে ছুটির আবেদন করেন ওই ক্রিকেটার। অথচ মেইলে করা আবেদনের কোনো জবাব দেননি বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী।
মেইলে অ্যাটাচ করা চিঠিটি এশিয়া পোস্ট হাতে পাওয়ার পর বিসিবির প্রধান নির্বাহীর কাছে কারণ জানতে চাওয়া হয়। তিনি জানান, ভুলবশত সেটি করা হয়নি এখন করা হবে এবং আইসিসি গাইডলাইন অনুসরণ করে কাঠামো করা হবে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটোরদের জন্য।
ওই নিউজের দুই মাসের মধ্যেই নীতিমালা খসড়া প্রণয়ন করেছে বিসিবি। বোর্ডের এক ভার্চুয়াল সভায় বৃহস্পতিবার মাতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। বিসিবি পরিচালক ও নারী ক্রিকেট বিভাগের প্রধান রফিকুল ইসলাম বাবু এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘মাতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়ে শিগগিরই আমাদের একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা আসবে। আরও আগেই হওয়া উচিত ছিল। এখন আমরা সময় নষ্ট না করে দ্রুত এটি বাস্তবায়ন করতে চাই। বোর্ড সভায় পাকাপাকি সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।’
উইমেন্স উইং প্রধান জানান, মাতৃত্বকালীন ছুটির আবেদন গ্রহণ করে ওই ক্রিকেটারকে চার মাসের পারিশ্রমিকের অর্থ পাঠানো হচ্ছে।
উইমেন্স উইং ইনচার্জ বুলবুল বাশার তাকে অগ্রগতির বিষয়টি জানিয়েছেন। সুরাইয়া আজমিন এ ব্যাপারে এশিয়া পোস্টকে জানান, ‘এখনও অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। তবে বিসিবি থেকে অ্যাকাউন্ট নাম্বার নিয়ে স্যালারির টাকা পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।’
নারী ক্রিকেটারদের মাতৃত্বকালীন ছুটির বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও বেশ কিছু উদ্যোগ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশের ক্রিকেট বোর্ড চুক্তিবদ্ধ নারী ক্রিকেটারদের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা দিয়ে থাকে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও ২০২১ সালে অভিভাবকত্বকালীন সহায়তার নীতিমালা চালু করে।
.jpg-bdea45.jpeg)
এদিকে চলতি বছরের ২২ জুন নারী ক্রিকেটারদের সন্তান জন্মের পর নিরাপদে খেলায় ফেরার বিষয়ে নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এতে শারীরিক পুনর্বাসন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ধাপে ধাপে অনুশীলনে ফেরা এবং প্রয়োজনীয় পারিবারিক সহায়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করার জন্য সদস্য বোর্ডগুলোকেই নিজস্ব নীতিমালা তৈরি করতে হবে।
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটেও দীর্ঘদিন ধরে এমন নীতিমালার অভাব ছিল। ফলে মা হওয়ার পর ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা এবং পেশাদার ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতো।
ছন্দার অভিজ্ঞতা সেই সমস্যাকেই সামনে এনেছে। এশিয়া পোস্টে তাঁর বঞ্চনার খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে অন্য সংবাদমাধ্যমেও নারী ক্রিকেটারদের মাতৃত্বকালীন নিরাপত্তার অভাব উঠে আসে।



