logo

শ্রীলঙ্কাকে ৪৫ রানে হারিয়ে যুব এশিয়া কাপে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ

শ্রীলঙ্কাকে ৪৫ রানে হারিয়ে যুব এশিয়া কাপে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ছবি: এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল

আফগানিস্তানের বিপক্ষে বড় হার দিয়ে যুব এশিয়া কাপ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচেই ১১৩ রানে বিধ্বস্ত হওয়ার পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো ছিল জরুরি। সেই চ্যালেঞ্জে এবার সফল বাংলাদেশের যুবারা। ব্যাট হাতে আহসান আল মুমিন ও জারিফ সিয়ামের দায়িত্বশীল ইনিংসের পর বল হাতেও দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন বোলাররা। তাতে শ্রীলঙ্কাকে ৪৫ রানে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে ফরিদ হাসান ফয়সালের দল।

শনিবার (৭ নভেম্বর) ওমানের আল আমেরাত ক্রিকেট গ্রাউন্ডে 'বি' গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৯.৪ ওভারে ২৪৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮২ রান করেন আহসান আল মুমিন। এ ছাড়া জারিফ সিয়ামের ব্যাট থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৫৯ রান। জবাবে ২৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৬.১ ওভারে ২০০ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।

বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা অবশ্য ভালোই হয়েছিল। উদ্বোধনী জুটিতে ৪১ রান যোগ করেন আবদুল্লাহ আল মুহি ও জারিফ সিয়াম। মাত্র ২৫ বলে ছয়টি চারে ৩০ রান করে আউট হন মুহি। এরপর দলীয় ৬৩ রানে ফিরে যান ১৩ বলে ১৩ রান করা আলামিন হোসেন রনি।

দুই উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের ইনিংসের হাল ধরেন জারিফ ও মুমিন। তৃতীয় উইকেটে ১০৬ বলে ৬৮ রানের জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেন দুজন। এর মধ্যেই অর্ধশতক পূর্ণ করেন জারিফ। শেষ পর্যন্ত ৮৩ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় ৫৯ রান করে আউট হন তিনি।

জারিফ ফিরে যাওয়ার পর অধিনায়ক ফরিদ হাসান ফয়সালকে নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন মুমিন। চতুর্থ উইকেটে দুজন যোগ করেন ৪২ রান। তবে ৩৫ বলে ১৭ রান করে ফরিদ বিদায় নিলে আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

অন্য প্রান্তে অবশ্য নিজের ব্যাটিং চালিয়ে যান মুমিন। শ্রীলঙ্কার বোলারদের সামনে ধৈর্য ধরে রান তোলার পাশাপাশি সুযোগ বুঝে বড় শটও খেলেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৯৮ বলে দুটি চার ও চারটি ছক্কায় ৮২ রানের ইনিংস খেলেন এই ব্যাটার।

দলীয় ২২৪ রানে মুমিন ফিরে যাওয়ার পর শেষদিকে দ্রুত উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১০ বলে ১৫ রান করেন রবিউল হাসান অনিক। বাকি ব্যাটাররা তেমন অবদান রাখতে না পারায় ৫০ ওভার পূর্ণ হওয়ার আগেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৪৫ রান।

শ্রীলঙ্কার হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন সেথমিকা সেনেভিরত্নে। ৯.৪ ওভারে ৫২ রান দিয়ে চার উইকেট নেন তিনি। গিমহান মেন্ডিস ৫৫ রানে তিনটি এবং কৌশিকা কুমারাসিংহে ৪০ রানে দুটি উইকেট শিকার করেন।

২৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের মুখে পড়ে শ্রীলঙ্কা। ষষ্ঠ ওভারে অধিনায়ক বিরান চামুদিথাকে ফিরিয়ে প্রথম আঘাত হানেন শেখ আতীকুর রহমান। ২৭ বলে ১২ রান করে ফিরে যান শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক।

এরপর দ্বিতীয় উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে শ্রীলঙ্কা। রেহান পেইরিস ও সেনুজা ওয়েকুনাগোদা মিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। দুজন যোগ করেন ৪৬ রান। তবে ১৮তম ওভারে ২০ রান করা পেইরিস বিদায় নিলে আবারও চাপে পড়ে লঙ্কান যুবারা।

এরপর জারিফ সিয়ামের বলে এলবিডব্লিউ হন কিথমা উইথানাপাথিরানা। ১১ বলে মাত্র ৫ রান করেন তিনি। তিন উইকেট হারানোর পর রান তোলার চাপ আরও বাড়তে থাকে শ্রীলঙ্কার ওপর।

এক প্রান্তে সেনুজা ওয়েকুনাগোদা অবশ্য লড়াই চালিয়ে যান। বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে অর্ধশতক তুলে নিয়ে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন তিনি। ১০০ বলে ১০টি চার ও দুটি ছক্কায় ৮৫ রানের ইনিংস খেলেন এই ব্যাটার।

তবে অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট হারানোয় লক্ষ্য তাড়া করা কঠিন হয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কার জন্য। বিশেষ করে মাঝের ওভারগুলোতে বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণ লঙ্কান ব্যাটারদের চাপে রাখে। এর মধ্যে গিমহান রাসাঞ্জানা ১৬ রান করে রানআউট হন।

দলীয় ১৫৮ রানে ওয়েকুনাগোদাকে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কার জয়ের সম্ভাবনায় বড় আঘাত হানেন তাফিউল আলম তামিম। তার বলে রাকিবুল হোসেনের হাতে ক্যাচ দেন এই ব্যাটার। এরপর দ্রুত আরও কয়েকটি উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায় শ্রীলঙ্কা।

শেষদিকে লিথমা পেরেরা ২০ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে তাকেও ফিরিয়ে দেন তাফিউল। এর আগে কৌশিকা কুমারাসিংহেকে ফিরিয়েছিলেন রুবায় ইসলাম রিজন। রবিউল হাসান অনিকের শিকার হন চানিরু সেনারত্নে ও সেথমিকা সেনেভিরত্নে।

একপর্যায়ে ৪৬ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ২০০ রান। শেষ চার ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪৬ রান। তবে পরের ওভারের প্রথম বলেই ম্যাচের ইতি টেনে দেন শেখ আতীকুর রহমান। তার বলে রাকিবুল হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৩ রান করা গিমহান মেন্ডিস। তাতে ৪৬.১ ওভারে ২০০ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে দুটি করে উইকেট নেন শেখ আতীকুর রহমান, তাফিউল আলম তামিম, রুবায় ইসলাম রিজন ও রবিউল হাসান অনিক। আতীকুর ৮.১ ওভারে ২৮ এবং তাফিউল ১০ ওভারে ৩৩ রান দেন। এ ছাড়া জারিফ সিয়াম ৩৪ রানে একটি উইকেট শিকার করেন।

দুই ম্যাচে একটি করে জয় ও হার নিয়ে এখন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের দিকে তাকিয়ে বাংলাদেশ। আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) মালয়েশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে ফরিদ হাসানের দল। সেমিফাইনালে যাওয়ার আশা ধরে রাখতে সেই ম্যাচেও জয়ের লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশের যুবাদের।

নুরসাদ আমিন

সম্পাদনা

নুরসাদ আমিন

স্পোর্টস রিপোর্টার | এশিয়া পোস্ট