logo

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল
গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। ছবি: গেটি ইমেজ

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর দেখা যাবে না গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের বিধ্বংসী ব্যাটিং। প্রায় ১৪ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী এই অলরাউন্ডার। গত বছর ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর এবার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকেও অবসর নিয়েছেন তিনি। ফলে ৩৮ বছর বয়সে শেষ হল অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে তার দীর্ঘ পথচলা। তবে এখনই সব ধরনের ক্রিকেট ছাড়ছেন না ম্যাক্সওয়েল। বিগ ব্যাশ লিগসহ ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি।

সোমবার (২ নভেম্বর) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। সেই দলে জায়গা হয়নি ম্যাক্সওয়েলের। এরপর ক্রিকেটবিষয়ক পডকাস্ট ‘দ্য ফাইনাল ওয়ার্ড’-এ নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার সিদ্ধান্ত জানান তিনি।

তবে হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত নেননি ম্যাক্সওয়েল। চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ও পরে অস্ট্রেলিয়ার টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল তার। তখনই তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

ম্যাক্সওয়েল জানিয়েছেন, অবসর নেওয়ার জন্য তার ওপর কোনো চাপ ছিল না। বরং দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নিজের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে শেষবার মাঠে নেমেছিলেন গত ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগ না পেলেও বল হাতে ৩ ওভারে ১৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচটি জিতেছিল ৯ উইকেটে।

অবসরের আগে অবশ্য ঘরের মাঠে শেষবার জাতীয় দলের জার্সিতে খেলার আশা ছিল ম্যাক্সওয়েলের। আগামী ২১ নভেম্বর মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। নিজের শহরের সেই মাঠেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলতে চেয়েছিলেন তিনি।

তবে নির্বাচকদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও বুঝতে পারছেন এই অলরাউন্ডার। ম্যাক্সওয়েলের মতে, ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে আগামী এক থেকে দুই বছরে অস্ট্রেলিয়ার দলে বড় পরিবর্তন আসবে। তাই তরুণদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা দেওয়া জরুরি।

২০১২ সালের আগস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় ম্যাক্সওয়েলের। পরের মাসেই টি-টোয়েন্টি অভিষেক। ২০১৩ সালে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে মোট ২৮৬ ম্যাচ খেলেছেন ম্যাক্সওয়েল। ব্যাট হাতে করেছেন ৭ হাজার ২২৬ রান। অফ স্পিনে নিয়েছেন ১৩৬ উইকেট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার সেঞ্চুরি ১০টি।

সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছেন সীমিত ওভারের ক্রিকেটে। ১৪৯ ওয়ানডেতে ৩ হাজার ৯৯০ রান করেছেন ম্যাক্সওয়েল। তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১২৬ দশমিক ৭১। এই সংস্করণে চারটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি নিয়েছেন ৭৭ উইকেট।

অন্যদিকে ১৩০ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২ হাজার ৮৯৭ রান করেছেন তিনি। স্ট্রাইক রেট ১৫৪ দশমিক ৪২। এই সংস্করণে তার পাঁচটি সেঞ্চুরি রয়েছে। ভারতের রোহিত শর্মার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বাধিক আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির রেকর্ড নিয়ে বিদায় নিলেন তিনি।

টেস্ট ক্যারিয়ার অবশ্য খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি ম্যাক্সওয়েলের। সাত ম্যাচে ৩৩৯ রান করেছেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে ২০১৭ সালে রাঁচিতে করেছিলেন নিজের একমাত্র টেস্ট সেঞ্চুরি।

ম্যাক্সওয়েলের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ২০১ রানের ইনিংস। মুম্বাইয়ে ২৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৯১ রানে ৭ উইকেট হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।

সেখান থেকে অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলেন ম্যাক্সওয়েল। পেশির টানে ঠিকমতো দৌড়াতে পারছিলেন না। তবু ব্যাটিং চালিয়ে যান। ১২৮ বলে অপরাজিত ২০১ রান করে দলকে এনে দেন অবিশ্বাস্য জয়। সেই ইনিংস এখনো ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত।

একই বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে মাত্র ৪০ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন ম্যাক্সওয়েল। সেটি ছিল ওয়ানডে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম শতকের রেকর্ড।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিনটি বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। ২০১৫ ও ২০২৩ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতেন। মাঝখানে ২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলেরও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এই অলরাউন্ডার।

অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক দলকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি প্রথম শ্রেণির ও ঘরোয়া লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেট থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ম্যাক্সওয়েল। ভিক্টোরিয়ার সতীর্থদের সেই সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

তবে ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্ক এখনই শেষ হচ্ছে না। বিগ ব্যাশ লিগে মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন ম্যাক্সওয়েল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ থেকে সরে গিয়ে এখন নিজের শারীরিক প্রস্তুতির ওপর বাড়তি গুরুত্ব দিতে চান তিনি।

নুরসাদ আমিন

সম্পাদনা

নুরসাদ আমিন

স্পোর্টস রিপোর্টার | এশিয়া পোস্ট