এবার নারী ক্রিকেটেও ‘টাইমড আউট’ বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ‘টাইমড আউট’ শব্দটি বড় আলোচনায় এসেছিল ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে। দিল্লিতে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস সময়মতো বল মোকাবিলায় প্রস্তুত না থাকায় আউটের আবেদন করেছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। আম্পায়ার আউট দিলে ম্যাথিউস হয়ে যান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রথম ‘টাইমড আউট’ ব্যাটার। সেই ঘটনা নিয়ে ক্রিকেটবিশ্বে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল—আইন বনাম চেতনা, নিয়ম বনাম সৌজন্য কিংবা জয় বনাম ক্রিকেটের চেতনা (স্পিরিট অব ক্রিকেট)।
প্রায় তিন বছর পর একই ধরনের বিরল আউট এবার দেখা গেল নারীদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেও। ভুটানের রিতশি চোডেন নারী টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ‘টাইমড আউট’ হলেন। মালয়েশিয়ায় এসিসি প্রিমিয়ার কাপের ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে তাঁর এই আউট নতুন করে আলোচনায় আনল ক্রিকেটের সেই পুরোনো প্রশ্ন আইনের মধ্যে থাকলেই কি সব সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের চেতনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হয়?
ঘটনাটি ঘটে ভুটানের রান তাড়ার প্রথম ওভারেই। ওপেনার নাওয়াং চোডেন প্রথম বলেই আউট হয়ে ফেরেন। এরপর ব্যাট করতে নামার কথা ছিল রিতশি চোডেনের। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ক্রিজে এসে বল মোকাবিলায় প্রস্তুত হতে পারেননি। নারী টি-টোয়েন্টির নিয়ম অনুযায়ী, নতুন ব্যাটারকে ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে প্রস্তুত থাকতে হয়। রিতশি ক্রিজে আসতে তার চেয়ে বেশি সময় নিয়ে ফেলেন।
তাঁকে পরে দৌড়ে মাঠে ঢুকতে দেখা যায়, হাতে ছিল গ্লাভস ও হেলমেট। ক্রিজে পৌঁছানোর পর তিনি স্কয়ার লেগ আম্পায়ারের সঙ্গে কথাও বলেন। ঠিক তখনই নেপালের ফিল্ডাররা আবেদন করেন। নেপালের পূজা মাহাতো আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান, এরপরই উদ্যাপন শুরু করেন। আম্পায়ার পরে রিতশিকে জানান, তিনি ‘টাইমড আউট’। কোনো প্রতিবাদ না করেই মাঠ ছাড়েন ভুটানের এই ব্যাটার। মাত্র এক বল শেষে ভুটানের স্কোর তখন ০ রানে ২ উইকেট।
আইনের দিক থেকে সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন ব্যাটার প্রস্তুত না থাকলে প্রতিপক্ষ আবেদন করতে পারে এবং আম্পায়ার আউট দিতে পারেন। কিন্তু ক্রিকেটে কিছু সিদ্ধান্ত শুধু নিয়মের বই দিয়ে বিচার করা যায় না, বিচার করতে হয় খেলার সৌন্দর্য, প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান এবং ম্যাচের প্রেক্ষাপট দিয়েও। এখানেই আবার ফিরে আসে ‘স্পিরিট অব ক্রিকেট’ প্রসঙ্গ।

নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনও বিষয়টি সেভাবেই দেখেছে। ম্যাচের পর তারা ভুটান ক্রিকেট, সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় এবং ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে। তাদের বক্তব্য, আউটটি আইনসম্মত হলেও এমন সিদ্ধান্ত নেপালের ক্রিকেট যে মূল্যবোধ ধরে রাখতে চায়, সেটির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
নেপাল বোর্ড জানায়, ক্রিকেটের চেতনা শুধু লিখিত নিয়মে সীমাবদ্ধ নয়। খেলাটির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উচিত ক্রীড়াসুলভ আচরণ, পারস্পরিক সম্মান ও ফেয়ার প্লে। তারা স্বীকার করেছে, এই ঘটনায় সেই মানদণ্ড রক্ষা করা যায়নি এবং এ কারণে তারা দুঃখিত।
সাকিব-ম্যাথিউস ঘটনার সঙ্গে এই আউটের মিল থাকলেও প্রেক্ষাপটে পার্থক্য আছে। ২০২৩ বিশ্বকাপে ম্যাথিউস ক্রিজে এসে হেলমেটের স্ট্র্যাপের সমস্যায় পড়েছিলেন এবং পরে নতুন হেলমেট চেয়েছিলেন। বাংলাদেশ আবেদন করলে তাঁকে আউট দেন আম্পায়াররা। সেই আউট আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ‘টাইমড আউট’ হিসেবে রেকডে নাম তোলে। অন্যদিকে, রিতশির ক্ষেত্রে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্রিজে এসে প্রস্তুতই হতে পারেননি।
